ঢাকা, সোমবার 17 April 2017, ৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঘূর্ণিঝড় ‘মারুথা’ মিয়ানমার সীমানায় বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা নেই

স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মারুথা’ বাংলাদেশে আঘাত হানবে না। এটি এখন এগিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারের দিকে। আজ (সোমবার) সকালের মধ্যে মারুথা মিয়ানমারের স্যান্ডিওয়ে উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল রোববার আবহাওয়াবিদরা এমন তথ্যই জানিয়েছেন। 

আবহাওয়া অধিদফতরের সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি শক্তিসঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপ এবং শেষে ঘূর্ণিঝড় ‘মারুথা’য় পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা একেবারেই কম। এটি মিয়ানমার উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারত মহাসাগর এলাকায় এটাই বছরের প্রথম সাইক্লোন।

গতকাল রোববার দুপুরে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মারুথা’ আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৯০ কি.মি. দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫০৫ কি.মি. দক্ষিণে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০৫ কি.মি. দক্ষিণ-পূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কি.মি. দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে রোববার মধ্যরাত অথবা আজ সোমবার সকাল নাগাদ মিয়ানমারের স্যান্ডিওয়েউপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কি.মি. যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় ৮৮ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারী সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি সোমবার সকাল নাগাদ মিয়ানমারের সিত্তুই এবং স্যান্ডিওয়ে উপকূলের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রমের সময় মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ঝড়াতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) অধীন জাতিসংঘের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের (বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ওমান) আবহাওয়াবিদদের সংস্থা এস্কেপ ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়ে থাকে। ‘মারুথা’ নামটি শ্রীলঙ্কার দেয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ