ঢাকা, সোমবার 17 April 2017, ৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নতুন ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

মাগুরা থেকে ওয়ালিয়র রহমান : মাগুরার শালিখা উপজেলার রাঘব দাইড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। ১৯৯৫ সালে এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি শিক্ষার আলো বিস্তারের  লক্ষে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। স্বপ্ন বাস্তবায়নে এলাকার অবহেলিত পরিবারের ছেলেমেয়েদের শিক্ষামুখি করার পরিকল্পনা নেয় তারা। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও এলাকার আরো কিছু যুবক-যুবতীদের নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এখানে শতকরা প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী অতিদরিদ্র পরিবারের বলে জানা যায়। প্রতিষ্ঠানের নিজ অর্থায়নে গড়ে তলেন দুইটি টিন সেট । বতর্মানে প্রায় ৬০০  শিক্ষার্থী এখানে পড়াশুনা করছে। প্রধান শিক্ষক এস কে এম জহির উদ্দীনসহ প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ ও ম্যানেজিং কমিটির একান্ত  প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি ২০০২ সালে জুনিয়র এমপিও ও ২০০৪ সালে সিনিয়র এমপিও লাভ করে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও এসএসসি শাখারও অনুমতি লাভ করে। প্রতি বছর বিদ্যালয়টি থেকে অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি পেরিয়ে কলেজ জীবনে প্রবেশ করছে। বিগত ২০ বছরে জেএসসিতে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ ও এসএসসির ফলাফলও খুবই সন্তোষজনক। নিয়মিত পাঠ দানের পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমও চলে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকগণ বিশেষ ভাবে ভুমিকা রাখেন। শালিখা উপজেলা থেকে ১৫ কিঃ মিঃ ও মাগুরা সহর থেকে ২০ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত বিদ্যালয়টি মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে প্রায় ১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। বিদ্যালয়টিতে  শিক্ষক সংখ্যা ১৬, কর্মচারি সংখ্যা ৩ জন রয়েছে। কিন্তু  শিক্ষক,কর্মচারি,শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীদের জন্য দুঃখের বিষয়  এখনও পর্যন্ত  সরকারি ভাবে প্রতিষ্ঠানে কোন প্রকার ভবণ নির্মাণ হয়নি। বিভিন্ন জন প্রতিনিধি বিভিন্ন সময়ে প্রতিশ্রুতি দেন বিদ্যালয়েটিতে সরকারি ভাবে একটি নতুন ভবণ নির্মানের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু আজও কোন প্রকার ভবণ নির্মান হয়নি বলে এলাকাবাসীরা জানান। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক এস কে এম জহির উদ্দীন বলেন-বিদ্যালয়টিতে সরকারি ভাবে ভবণের জন্য বারবার চেষ্টা করেও কোন ফল হচ্ছেনা। প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে দুইটি ঘর নির্মান করে নানান সমস্যার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের পাঠ দান করানো হচ্ছে।শ্রেণীকক্ষ কম থাকায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের খেলার মাঠেও ক্লাস নিতে হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে পর্যাপ্ত শ্রেণী কক্ষ না থাকায় কখনও একই কক্ষে, কখনও বা বিদ্যালয়ের মাঠে  ক্লাস নেয়া হচ্ছে।  ঘর গুলো টিনের ছাউনী হওয়ায় শীতের সময় যেমন প্রচুর ঠান্ডা তেমনই গরমেও অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এসব সমস্যার সমাধানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠানটি মাগুরার সদর উপজেলার মধ্যে হলেও শালিখা উপজেলার দিঘোলগ্রাম, সর্বসাংধা, গজদূর্বাসহ প্রায় ১১টি ও সদর উপজেলার প্রায় ৭টি গ্রামের ছেলে মেয়েরা এখানে লেখা পড়া করে আসছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ