ঢাকা, সোমবার 17 April 2017, ৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংবিধান পরিবর্তনের লক্ষ্যে তুরস্কে ঐতিহাসিক গণভোট

১৬ এপ্রিল, বিবিসি/আল জাজিরা : নব্য তুরস্কের ইতিহাসে দেশটির রাজনৈতিক পদ্ধতির সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল রোববারের এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে সংসদীয় গণতন্ত্র থেকে দেশটি প্রেসিডেন্ট শাসিত গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হবে।
এতে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হবেন এবং তাকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটির ক্ষমতায় দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। মতামত জরিপে দেখা গেছে, অল্প ভোটে ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হবে।
 দেশজুড়ে এক লাখ ৬৭ হাজার ১৪০টি ভোট কেন্দ্রে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। দেশটির পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়, দেশের বাদবাকী অংশে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। উভয় জায়গায় বিকাল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কথা। দেশটির প্রবাসী নাগরিকদের ভোট ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।
এই গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশটির মানুষ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এরদোগান ও তার সমর্থকরা বলছে, চলতি সংবিধান আরো উন্নত করার জন্য এই পরিবর্তন জরুরি।
‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইইউয়ের সঙ্গে এক চুক্তির পর তুরস্ক সিরিয়া ও ইরাক থেকে ইউরোপ অভিমুখি অভিবাসন প্রত্যাশীদের স্রোতের লাগাম টেনে ধরে।
সম্প্রতি গণভোটের প্রচারণা নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নাজুক হওয়ার পর ওই চুক্তি পুনর্বিবেচনার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। ধারণা করা হচ্ছে, গণভোটে জয়ী হলে তিনি ওই হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারেন।  গত বছরের জুলাইয়ে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৪০ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এক লাখ ২০ হাজার ব্যক্তিকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
রাতেই গণভোটের ফলাফল পাওয়া যাওয়ার কথা। নতুন প্রস্তাবিত সংবিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকারে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাজ করতে একাধিক ভাইস-প্রেসিডেন্টের নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। প্রেসিডেন্ট একাই জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে পারবেন। পার্লামেন্ট আর মন্ত্রীদের ব্যাপারে তদন্ত করতে পারবে না। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোটে পার্লামেন্ট সদস্যরা প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।
প্রেসিডেন্টের বিচারের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ পার্লামেন্ট সদস্যের সমর্থন লাগবে। পার্লামেন্ট সদস্যের সংখ্যা ৫৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ করা হবে। প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন একই দিনে হবে। প্রেসিডেন্ট দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর ২০১৯।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ