ঢাকা, সোমবার 17 April 2017, ৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ড্রেজিং না থাকায় নাব্যতা সংকটে মংলা বন্দর

স্টাফ রিপোর্টার : নাব্যতা সংকটে মংলা বন্দরে কন্টেইনারবাহী বড় জাহাজ চলতে পারছে না। ইতোমধ্যে ২৯ ভাগ জাহাজ বন্ধ হয়ে গেছে। উচ্চমূল্যের ৮৩ ভাগ আমদানি এখন বন্ধ হওয়ার পথে। নাব্যতা সংকট  দূর  করা না হলে এই বন্দরের রাজস্ব আদায় হুমকিতে পড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, আর্থিক, নাব্যতা, কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের যন্ত্রপাতি আর কাস্টম হাউজের আস্থা এই চার সংকটে অচল হয়ে পড়েছে মংলা বন্দর। কাস্টম হাউজের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মংলা বন্দর দিয়ে উচ্চশুল্কের পণ্য আমদানি কমেছে ৮৩ শতাংশ। একইভাবে বছরের ব্যবধানে এ বন্দরে কন্টেইনারবাহী জাহাজ আসা কমেছে ২৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। আবার খুলনা অঞ্চলের পাট, চিংড়িসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানিকারকরা মংলার পরিবর্তে দ্বারস্থ হচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরের। ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে সময়। সেই সঙ্গে রাজস্ব হারাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে মংলা বন্দরের চেয়ারম্যান কমোডর এ কে এম ফারুক হাসান বলেন, এ বন্দরে কন্টেইনার আনার খরচ চট্টগ্রামের চেয়ে তুলনামূলক বেশি। এছাড়া পশুর নদীর নাব্যতা ক্রমেই কমছে। এতে অনেক জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারছে না। পশুর নদীর নাব্যতা কমায় এ বন্দরের সর্বোচ্চ সক্ষমতার ৫০-৬০ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছি আমরা।
তিনি আরো বলেন, ‘ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হলে বন্দরের গতি বাড়বে। বন্দরের কাজের জন্য হাইস্পিড বোট দরকার। সরকারের কাছে নতুন জাহাজ চাই। পাশাপাশি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ছয়টি নতুন ড্রেজার মেশিন দরকার। জলযান ক্রয়, ইয়ার্ড বাড়ানোসহ অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ জরুরি।
তবে দক্ষিণাঞ্চলের আমদানি-রফতানিকারকসহ অনেক ব্যবসায়ীর মনে আশার সঞ্চার করেছে মংলা বন্দর। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রামপাল প্রকল্প ও পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এখনই। এ অঞ্চলে গড়ে উঠতে শুরু করেছে নতুন কলকারখানা।
কাস্টম হাউজ সূত্রে জানা গেছে, মংলা বন্দরে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় গাড়ি। অথচ এখন গাড়ি আসা কমে গেছে। গত এক বছরে এ বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি কমেছে ৪ শতাংশ। পাশাপাশি গাড়ি খালাসের হার কমেছে ৬ শতাংশ। এছাড়া কন্টেইনার পণ্য আমদানি ও খালাসের হার কমেছে যথাক্রমে ৩৪ দশমিক ৫৪ ও ৫৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।
এদিকে মংলা বন্দরে পড়ে রয়েছে দেড় হাজারের বেশি গাড়ি। পাশাপাশি আটকে আছে ৮০০টির বেশি কন্টেইনার। কাস্টম হাউজের তথ্য অনুযায়ী, মংলা বন্দরে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কন্টেইনারবাহী বিদেশী জাহাজ আসে ৭২টি। তবে এর পর থেকে জাহাজের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬৭, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৩৪ ও ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের প্রথম আট মাসে এসেছে ২৪টি জাহাজ। বিদেশী জাহাজে আসা কন্টেইনার খালি করার পর সেগুলোয় পণ্য রফতানি করেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু মংলায় জাহাজের সংকট থাকায় এ অঞ্চলের রফতানিকারকরা চিংড়ি ও পাট রফতানির জন্য ছুটছেন চট্টগ্রাম বন্দরে।
মংলা কাস্টমসের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুলতান হোসেন খান বলেন, ড্রেজিংয়ের অভাবে সাড়ে আট ফুট গভীরতার বেশি জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারে না। আমদানি পণ্য ছাড়ানোর সময় হয়রানির শিকার হন ব্যবসায়ীরা। হয়রানির আশঙ্কায় এ বন্দর দিয়ে অনেকেই শিল্পের জন্য ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আনতে চান না। ফলে কন্টেইনারবাহী বেশির ভাগ জাহাজ চলে যায় চট্টগ্রাম বন্দরে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ