ঢাকা, সোমবার 17 April 2017, ৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনার আহ্বান

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আদর্শ নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত “জাতীয় নির্বাচন : নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে নাগরিক ভাবনা” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন নিয়ে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাকে পুনরায় সেই ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ‘৫ জানুয়ারির সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়সহ বিরোধী দলের নেত্রী যে মন্ত্রণালয় চাইবে সেই মন্ত্রণালয় দিতে তিনি প্রস্তুত। কিন্তু সেদিন তৎকালীন বিরোধী দল নেতা বেগম খালেদা জিয়া না না বলেছিলেন। আজকে তার মাশুল জনগণকে গুণতে হচ্ছে।’
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘জাতীয় নির্বাচন : নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে এ আহ্বান জানান। আদর্শ নাগরিক আন্দোলন-এর প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আদর্শ নাগরিক আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি এ আলোচনা সভা আয়োজন করে।
ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ‘এ দেশের সবকিছু ক্ষমতার ঊর্ধ্বেই চলে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর শেষ কথাই হচ্ছে সবকথা। তিনি না চাইলে কোনো অবস্থাতেই কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আজ যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) অস্বীকার করছেন, সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার জন্য তারা তখন জামায়াতকে সাথে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছিল। অথচ আজ তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বোঝে না।’
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে ড. একিউএম বদরুদ্দোজা বলেছেন, ‘এই নির্বাচন কমিশনারের নিজের অস্তিত্ব বলে কিছু নেই। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রেসক্রিপশনেই চলবেন। নিজের যে স্বকীয়তা রয়েছে এবং স্বাধীনতা রয়েছে তা তিনি কখনোই প্রয়োগ করবেন না। এর আগেও আমরা আরেকটি নির্বাচন কমিশনকে দেখেছি তার চেয়ে ইনি খুব একটা ভাল হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি না। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে আবারো একটি ভোটারবিহীন নির্বাচনের আশংকা থাকছে।’
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন-গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় সংসদের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি, নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহিল মাসুদ, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির ভাইস-চেয়ারম্যান মো. এজাজ হোসেন, সাবেক মন্ত্রী সিরাজুল ইসলাম, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সহ সভাপতি মো. লিয়াকত হোসেন, এম. জে সৌরভ, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহনূর ইসলাম শাহীন, এস.এম কামাল উদ্দিন ইসমাইল, এম. সাইফুল ইসলাম মজুমদার, খন্দকার মহিউদ্দিন মাহি, আবু সাইদ পাটোয়ারী, হারুন অর রশীদ, হারুন চেয়ারম্যান, রেজাউল করিম প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন আদর্শ নাগরিক আন্দোলন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আল-আমিন ও সিনিয়র যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম ইঊনুস।
জনগণের ভাষা বুঝে আন্দোলনে সকলকে এক প্লাটফর্মে আসার আহ্বান জানিয়ে বিশেষ অতিথি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘বিরোধীদলের নেতাকে অহমিকা ছাড়তে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে আমাদের জন্য কি এনেছে জাতি জানতে চায়। তিনি সবকিছু যে দিয়ে এসেছেন তা দেশবাসী দেখেছে। দেশের মানুষের জন্য তার দরদ থাকলে দেশে গুম-খুন এভাবে চলতো না।’
তিনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, ‘আপনারা যারা ক্ষমতার রাজনীতি করতে চান কিংবা ক্ষমতায় যেতে চান তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ আপনারা জনগণের জন্য অঙ্গীকার করুন। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে র‌্যাবকে উঠিয়ে দেবেন। গুম-খুন বন্ধ করবেন এবং কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবেন।’
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘দেশের দুই নেত্রী তাদের নির্দেশ ছাড়া কেউ জোরে কাশিও দেন না। আমি অনুষ্ঠানে আসার আগে বিষয়টি ফেসবুকে দিয়েছিলাম। সেখানে ৫ শত জন মন্তব্য দিয়েছে। কেউ বিশ্বাস করে না বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। এখন যদি কোনো নির্বাচন হয়, আর সেই নির্বাচনে এদেশের মানুষ ভোট দিতে পারে, তাহলে বর্তমান সরকার বা আওয়ামী লীগের অস্তিত্বই থাকবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ