ঢাকা, সোমবার 17 April 2017, ৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সনদের মান গ্রহণে কওমী স্বকীয়তায় কোনো ছাড় দেইনি -আল্লামা শাহ আহমদ শফী

শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ১৩ এপ্রিল কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি) এর সমমান প্রদান করে প্রজ্ঞাপন জারির পর কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদের মান বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যগণ এক জরুরী বৈঠকে মিলিত হন। চট্টগ্রামের দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসায় মহাপরিচালকের কার্যালয়ে গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে এই বৈঠক শুরু হয়ে বেলা দেড়টায় শেষ হয়। বৈঠকে সনদের মান বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে কওমী মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ও দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরে কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও এবং আরবি) এর সমমান প্রদান করায় মহান আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করা হয়। পাশাপাশি এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রীমহোদয় ও কর্মকর্তাগণকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হয় এবং ৬ বোর্ডের আওতাধীন মাদ্রাসাসমূহে চলতি শিক্ষাবর্ষের দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে গ্রহণসহ আরো কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে মাদ্রাসা বোর্ডের কর্মকর্তাগণ সনদ বিষয়ে প্রাপ্ত এই অর্জনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সকল চক্রান্ত নস্যাত করার জন্য উলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে আরো দৃঢ় রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক) সভাপতি শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মুফতী ওয়াক্কাস, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতী রূহুল আমীন, মুফতী আরশাদ রাহমানী, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুফতী ফয়জুল্লাহ, মাওলানা যোবায়ের আহমাদ চৌধুরী, মাওলানা মুফতী জসীম উদ্দীন, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতী শামসুদ্দীন জিয়া, মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মুসলিহ উদ্দীন রাজু, মাওলানা মুফতী নূরুল আমীন, মাওলানা উবায়দুর রহমান মাহবুব, মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা নূরুল হুদা ফয়জী, মাওলানা কাজী আখতার হোসাইন, মাওলানা ইউসুফ, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা আব্দুল জাব্বার প্রমুখ।
বৈঠকে বেফাক সভাপতি শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদের সরকারী মানগ্রহণ বিষয়ে গত ১১ এপ্রিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ওলামায়ে কেরামের বৈঠক নিয়ে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে বলেন, বেফাকসহ অপরাপর কওমী মাদ্রাসা বোর্ডসমূহের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের আলোকেই সেদিন প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক হয়েছে এবং দাওরায়ে হাদীসের সনদের মান গ্রহণে আমাদের পূর্বঘোষিত শর্তে সামান্যতমও ছাড় দেয়া হয়নি। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে আমাদের পূর্ব ঘোষিত যৌক্তিক অবস্থান গ্রহণ করেই যে সনদের মান প্রদান করা হয়েছে, তাতেই আমরা যে নীতিতে অবিচল অটল ছিলাম সেটা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, সবসময় ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতার বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমি কাজ করে আসছি। এই ঐক্য গড়ে তোলার স্বার্থে অনেক সময় আমার নিজস্ব মতামত ও সিদ্ধান্তেও ছাড় দিয়ে থাকি। কারণ, ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতার ঐক্যবদ্ধ মজবুত অবস্থান ছাড়া বর্তমানের বহুমুখী ইসলামবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা অনেক কঠিন।
উল্লেখ্য, কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদের মান বাস্তবায়ন কমিটির গতকালের বৈঠকে নি¤েœাক্ত সিদ্ধান্তসমূহ সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়।
“আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমীয়া বাংলাদেশ” নামে সর্বোচ্চ সংস্থার আওতায় দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষা গ্রহণ ও সনদ বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একসাথে সকল বোর্ডের আওতাধীন মাদ্রাসাসমূহে দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। চলতি শিক্ষাবর্ষের দাওরায়ে হাদীসের চূড়ান্ত পরীক্ষা ১৫ মে সোমবার থেকে ২৫ মে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গ্রহণের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়।
বেফাক থেকে ৬ জন এবং অন্য ৫ বোর্ড থেকে ১ জন হারে মোট ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপকমিটি গঠন করা হয় এবং গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মাওলানা শামসুল হককে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এই কমিটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার থেকে কোন ধরনের আর্থিক সহযোগিতা বা সুবিধা গ্রহণ করবে না মর্মেও সিদ্ধান্ত হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত ৬ বোর্ডে নিবন্ধিত দাওরায়ে হাদীসের মাদ্রাসাসমূহ “আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমীয়া বাংলাদেশ” সংস্থায় নিবন্ধিত মাদ্রাসা বলে গণ্য হবে। ৬ বোর্ডের আওতার বাইরে থাকা কোনো মাদ্রাসা এই সংস্থায় পৃথকভাবে নিবন্ধিত হতে পারবে না।
বর্তমানে যে মাদ্রাসা যে বোর্ডে নিবন্ধিত, এই বৎসর সেই বোর্ডেই থাকতে হবে। অন্য বোর্ডে যেতে পারবে না। এর বাইরে আরো কয়েকটি দাফতরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ