ঢাকা, সোমবার 17 April 2017, ৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১২ ঘণ্টার মধ্যে রুট পারমিট না পেলে নিজের ১৮টি বাস জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি

নাটোর সংবাদদাতা : নাটোরে ১২ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী-বরিশাল রুটে বাস চলাচলের রুট পারমিট না পাওয়া গেলে আজ প্রকাশ্যে নিজের ১৮টি বাসে পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন আকিব পরিবহনের মালিক ও নাটোর জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ বাসিরুর রহমান খান চৌধুরী এহিয়া। রোববার দুপুরে নাটোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি নিজেকে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির বর্তমান পরিচালনা কমিটির বৈধ সাধারণ সম্পাদক দাবি করে বলেন, তার ঐ রুট বর্তমান অবৈধ কমিটি যোগসাজশের মাধ্যমে রোববার ভোর থেকে হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেয়। এসময় রাজশাহী বাস মালিক সমিতির লোকজন তার গাড়ির চালকসহ অন্যদের ওপর চড়াও হলে তারা গাড়ি রেখেই প্রাণের ভয়ে পালিয়ে নাটোরে আসেন। এহিয়া জানান, সোমবার ভোরের মধ্যেই তাকে বরিশাল রুটে গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেয়া না হলে প্রতিবাদ করে নিজের সবকটি গাড়িই আগুনে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দিবেন। এসময় তিনি বলেন, নাটোর শহরের রাস্তা ডাবল লেন করার অযুহাতে প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম শিমুল ঢাকা কোচস্ট্যান্ড শহরের এক প্রান্তে হরিশপুর টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হলেও আজও রাস্তার কাজ শুরু করা হয়নি। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করে বলেন, নতুন টার্মিনালে অফিস ঘর বরাদ্দের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হলেও পৌরসভায় জমা দেয়া হচ্ছে ঘরপ্রতি মাত্র এক লাখ টাকা করে।  তিনি আরো বলেন, গাড়ির মালিক না হলে ঘর বরাদ্দ দেয়ার নিয়ম না থাকলেও টুটুল নামে বাস মিনিবাস মালিক সমিতির এক কর্মচারীকে একটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মালিক সমিতির সদস্য ও  নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শরিফুল ইসলাম রমজান এবং নাটোর পৌরসভার মেয়র ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি উমা চৌধুরী জলি। পরে এই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে বিকালে সংবাদ সম্মেলন করেছে নাটোর জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতি। সমিতি কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবর রহমান বলেন, মোঃ বাসিরুর রহমান খান চৌধুরী এহিয়ার কোন রুট পারমিট তারা কখনই বন্ধ করেননি আর রুট পারমিট নিতে হলে সংবাদ সম্মেলন না করে তাকে সমিতির অফিসে আসতে হবে, কিন্তু তিনি আসেননি। তারা বলেন, সমিতির বর্তমান কমিটি একটি বৈধ কমিটি এবং এখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কোনই প্রভাব নেই। টার্মিনালে অফিস ঘর বরাদ্দের ব্যাপারে কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি। এমনকি অতিরিক্ত কোন টাকাও নেয়া হয়নি। তারা দাবি করেন এহিয়াই তার সময়ে অনেক আর্থিক অনিয়ম করে ক্ষমতা নিয়ম মাফিক হস্তান্তর না করেই পালিয়ে গেছেন। নিজের গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিলে দেশের সম্পদ নষ্ট হবে এবং বেশ কিছু শ্রমিক তাদের চাকরি হারাবেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজেদুল ইসলাম সাগর, বাস মালিক সমিতির কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ পিকে ও কামরুল ইসলাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ