ঢাকা, সোমবার 17 April 2017, ৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এক শ্রেণির মানুষ ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে -পুলিশ মহাপরিদর্শক

স্টাফ রিপোর্টার : জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে যারা কাজ করছেন তাদের চিহ্নিত করে সময় মতো প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেছেন, এক শ্রেণির মানুষ ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। তারা জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং জঙ্গিবাদে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। সময় মতো প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল রোববার পুলিশ সদর দফতরে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযানে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অর্থ প্রদান ও আহত পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইজিপি।
শহীদুল হক বলেন, জঙ্গিবাদ ধর্মের কারণে হচ্ছে না। ইসলামে কোথাও জঙ্গিবাদ নেই, যা আলেম-ওলামারাও বলেছেন। এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা বা মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে দেয়া যাবে না। সম্প্রতি পবিত্র কাবা শরিফ ও মসজিদে নববির খতিবরা এ দেশে এসেছেন। তারাও বলেছেন যে, ইসলামে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই।
রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিহিত করে তিনি বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক নেতার দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। বুঝে বা না বুঝে দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা সংগঠনের এ জাতীয় বক্তব্য জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করবে। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় জাতি যখন ঐক্যবদ্ধ, তখন তাদের এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন, মনগড়া, অলীক ও অসত্য বক্তব্য পরিহার করতে হবে।
তিনি বলেন, পুলিশের বীর সদস্যদের জঙ্গি বিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় এ জাতীয় অপপ্রয়াস পুলিশ এবং দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চালানো অভিযান নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে পুলিশের কাছে এসেই তার উত্তর জেনে নিন। জঙ্গিবাদ বিরোধী লড়াই আর দশটি প্রথাগত অপরাধীদের বিরুদ্ধে চালানো লড়াই থেকে ভিন্ন। আমরা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই করে যাচ্ছি। যারা জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। সময়মতো তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক আশ্বস্ত করে বলেন, কেউ যদি জঙ্গিবাদ থেকে ফিরে আসে তাহলে তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহায়তা করবে। কাউকে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে হবে না। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিই অনুসরণ করবে। তবে কেউ যদি জঙ্গিবাদের অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে চায় তাকে সর্বোচ্চ আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ পুলিশ।
অনুষ্ঠানে সিলেটে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযানের সময় নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী মো. আবু কয়সর ও মো. মনিরুল ইসলামের স্বজনদের বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ২০ লাখ করে মোট ৪০ লাখ এবং সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ৪ লাখ করে ৮ লাখ টাকার অনুদান দেয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মো. মোখলেসুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এইচআরএম) মঈদুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ও সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ