ঢাকা, সোমবার 17 April 2017, ৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাঁধের কারণে খালে কচুরিপানা জট যোগাযোগ ও কৃষিক্ষেত্রে সংকট

আমতলী: আমতলী উপজেলার সুবন্ধী বাঁধের কারণে ৩০ কিলোমিটার খালে কচুরীপানা জমে যাওয়ায় যোগাযোগ কৃষি মৎস্যখাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে Ñসংগ্রাম

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা: বরগুরা জেলার আমতলী উপজেলার সুবন্ধি বাঁধ চাওড়া, হলদিয়া, আমতলী সদরও আমতলী পৌরসভার প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ খালে পানির প্রবাহ না থাকায় কচুরীপানা পচে পানি নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি কাজে এ খালের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সেচ সুবিধা না থাকায় কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কচুরীপানায় ভরে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পরেছে।  কৃষকরা সহজে কৃষি পণ্য পরিবহণ করতে পারছে না ফলে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  হলদিয়া গ্রামের এক অংশ, চিলা ও চাওড়া চলাভাঙ্গা গ্রামের কৃষকরা পরিবহণ করতে না পারায় আউশ চাষ বন্ধ করে দিয়েছে। গৃহস্থালী কাজেও এ খালের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এমনকি গবাদি পশুও এ খালের পানি পান করছে না। দুর্গন্ধে খালের পাশ দিয়ে হাঁটা যায় না। মশা ও সাপের উপদ্রব এবং ঘরে ঘরে চর্ম রোগের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে।
ষাটের দশকে পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বাঁধটি নির্মাণ করলেও ১৯৮৬ সনে জনগণের দাবীর মুখে তৎকালীন উপজেলা  চেয়ারম্যান সুবন্ধি বাঁধ কেটে দেন। ২০০৮ সনে পানি উন্নয়ন বোর্ড জনগণের দাবী উপেক্ষা করে পুনরায় বাঁধ দেন। পরবর্তীতে পানি নিষ্কাশনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড সুবন্ধি পয়েন্টে দু’ব্যান্ডের একটি স্লুইস নির্মাণ  করলেও ৩০ কি.মি. লম্বা এবং প্রায় কোয়াটার কিমি প্রশস্ত  খালের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে দু’ব্যান্ডের স্লুইস কোনভাবেই যথার্থ নয়। সুবন্ধি সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসকের গঠন করা তদন্ত কমিটি একাধিকার সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি দু’ব্যান্ডের স্লুইস নির্মাণ করার আগে বিশ্ব ব্যাংকের টেকনিক্যাল এডভাইজরি গ্রুপের সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন করে যে সুপারিশ দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড তা মানেননি বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য,  বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় দু’ব্যান্ডের এ  স্লুইস নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যদিকে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি স্লুইস গেট আটকিয়ে মাছ ধরছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মানে লবণ পানি প্রবেশের অজুহাত তুললেও  বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন নদীগুলোর লবনাক্ততা বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ের স্টাডি বলছে, পায়রা বিষখালী এবং বলেশ্বর মোহনায় মার্চের প্রথম থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লবণাক্ততা থাকলেও তালতলীর পর পায়রা নদীতে লবণাক্ততা সহনীয় মাত্রার এবং বগি বাজারের পর থেকে লবণাক্ততা খুব কম।
আন্ধারমানিক এবং রামনা বাদ চ্যানেলের লোন্দা পয়েন্ট পর্যন্ত মার্চের প্রথম থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লবণাক্ততা থাকলেও সুবন্ধি পয়েন্টে লবণাক্ততা নেই কালেভদ্রে দেখা গেলেও তা খুবই সহনীয় মাত্রার সিডরের সময় সুবন্ধি খোলা ছিল। সুবন্ধি ও জলেখার স্লুইস থেকে আমতলী পর্যন্ত চাওড়া ও হলদিয়া খালের দু’পাড়ে ২১টি কার্লভার্ট ও ইনলেটসহ উচু রাস্তা রয়েছে। যে কারণে সিডরে এসব এলাকায় কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
শুধু পানি নিষ্কাশন নয় এ অঞ্চলের কৃষকের কৃষি পণ্য পরিবহন বাজারজাতকরণের জন্য সুবন্ধি উন্মুক্ত রাখা জরুরী।
মৎস্য, পশু সম্পদ ও দৈনন্দিন কাজ এবং প্রায় ৫শ’ জেলের  জীবন-জীবিকা ছাড়াও এ খালটি খোলা থাকলে যেমনি কৃষি উৎপাদন বাড়ে তেমনি কৃষি পণ্য বিশেষ করে ধান ডালসহ কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের দাম মণ প্রতি ২০ টাকা বেশী থাকে। তরমুজ এ অঞ্চলের সবচেয়ে বেশী উৎপাদিত কৃষি পণ্য। এ খালটি খোলা থাকলে পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা পেয়ে তরমুজের উৎপাদন বাড়ে তেমনি সহজ পরিবহণ ও বাজারজাতকরণের কারণে কৃষক ন্যায্য মূল্যও পায়। একটি স্টাডিতে দেখা গেছে, সুবন্ধি বাঁধের কারণে আমন এবং এ অঞ্চলে আউশের ফলন এক তৃতীয়াংশ কমে গেছে। অন্যদিকে আউশ ও তরমুজ উৎপাদনে সেচ খরচ দ্বিগুন বেড়েছে। এ বাধের কারণে কৃষি উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, মৎস্য, পশুপালন, পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যে ক্ষতির পরিমাণ বছরে ২শ’ ১৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত ৮ বছরে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৭শ’ ৫২ কোটি টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ