ঢাকা, সোমবার 17 April 2017, ৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গাইবান্ধার রাস্তাঘাটে অবৈধ যানবাহন দুর্ঘটনা বাড়ছে

জেলা সদরের সড়কগুলো নছিমন, করিমন, ভটভটি, অটো রিকসা আর ট্রলির দখলে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলা এসব যানবাহনের কারণে অনেকেই ঝরে গেছে অনেক মূল্যবান প্রাণ। আবার চিরতের পঙ্গুত্ববরণ করেছেন অসংখ্য মানুষ। বেপরোয়া গতি আর প্রশিক্ষণ ছাড়া অদক্ষ চালকের কারণে ঘটেই চলেছে দুর্ঘটনা অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এ বাহনের চালকরা কখনও যাত্রী, কখনও কাঁচামাল আবার অনেক সময় বড় বড় গাছের গুঁড়ি নিয়ে ফ্রি স্টাইলে প্রধান প্রধান সড়কে চলছে, এসব যানবাহন চলাচলের ওপর কড়া নজরদারীর অহ্বান করেছেন জেলার সচেতন মহল।
সূত্র জানায়, নানা দিক দিয়ে এই জেলার গুরুত্ব অপরিসীম। রাজনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান এমনকি কর্মসংস্থান সবদিক দিয়ে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য জেলা গাইবান্ধা দিন দিন দেশের মধ্যে একটি অন্যতম সম্ভাবনাময়ী জেলা হিসেবে পরিচিত লাভ করতে শুরু করেছে। ৮২টি ইউনিয়ন ও ৩ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ জেলাতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বসবাস। এক সময়ে কৃষি প্রধান হিসেবে সর্বত্র এর পরিচিত থাকলেও বর্তমানে ব্যবসা ও চাকরিতেও জেলার মানুষ সুনাম কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন। আধুনিকতার ছোঁয়া শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে শুরু করেছে। কিন্তু সেই আধুনিকতার ছোঁয়া আজ মানুষকে অনেকটা অসহায় করে ফেলেছে। জানা গেছে, দেশ বিভাগের পরও এ জনপদের মানুষ বাসা-বাড়ী, রাস্তা-ঘাট সব জায়গায় ছিল নিরাপদ। আজ থেকে ১০ বছর আগেও গাইবান্ধা জেলা ছিল শান্তি প্রিয় একটি জেলা। সেই জেলার মানুষ নানা কারণে আজ এক অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে বসবাস করছে। বিশেষ করে এখানে বসবাসরত এমনকি অন্য জায়গা থেকে আগত মানুষ জনের নিরাপদে সড়কে চলাচল যেন দুরূহ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। জেলার সাথে উপজেলাগুলোর যোগাযোগ সড়কের ব্যস্ততা লেগেই আছে।  গাইবান্ধা থেকে ৭টি থানায় যোগাযোগের সবচেয়ে সুবিধা হল বাস টেম্পু অটো রিকসা যা পাকা রাস্তা বিশ্ব রোড মিনি বিশ্বরোডে চলাচল করছে ।এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য রয়েছে অসংখ্য কাঁচা-পাকা সড়ক। আছে প্রতিটি সড়কই যেন অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। অবৈধ নছিমন, করিমনসহ নানা নামের যানের কাছে সড়কগুলো জিম্মি হয়ে পড়েছে। সূত্র জানায়, বর্তমান সময় যাতায়াতের অন্যতম একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে স্যালো ইঞ্জিনচালিত বিভিন্ন বাহারী নামের সব যানবাহন।
 এসব যানবাহন এলাকাতে আসার পর উপকারের চেয়ে অপকার বেশি পেয়েছে মানুষ। তাদের বেপরোয়া চলাচলের ফলে প্রতিনিয়ত জেলার কোথাও না কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কেউ অকালে চলে যাচ্ছে  না ফেরার দেশে। আর যারা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাচ্ছেন তারা অনেকেই হয়ে যাচ্ছেন চিরতরের জন্য পঙ্গু। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে পঙ্গুত্ববরণকারীরা দিন দিন বোঝা হয়ে উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে জেলাসদরসহ উপজেলা গুলোর প্রতিটি গ্রামে হাজার হাজার অবৈধ স্যালো মেশিনচালিত যানবাহন আছে। কখনও তারা কাঁচা তরকারী বোঝাই করে ছুটে চলেছে অন্য জেলাতে। কখনও যাত্রী নিয়ে নিজ জেলা এমনকি অন্য জেলাতে চলছে তো চলছেই। আবার অনেক সময় বড় বড় গাছের গুঁড়ি বোঝাই করে ব্যস্ততম সড়কগুলো দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাচ্ছে। ধারণ বাহন করার ক্ষমতার চেয়ে ৩/৪ গুণ বেশী মালামাল নিয়ে তারা ছুটছে। এই সব বাহনের অধিকাংশ চালকই সড়কে যানবাহন চালানোর জন্য উপযুক্ত নয় বলে অনেকেই জানান। তাদের নেই তেমন কোন প্রশিক্ষণ, নেই অভিজ্ঞতা। চরম ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী সাধারণ একটু কম খরচে অল্প সময়ে গন্তব্যে যেতে পারছে তাই চেপে বসছেন এই সব বাহনে।
এছাড়া বিভিন্ন মালামাল বহনে খরচ একটু কম হওয়ায় অনেকেই এই সব বাহনের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। এই সব অবৈধ যানবাহনের পাশাপাশি ইটভাটার ট্রাক এখন মানুষ হত্যার যান হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। ফলে জেলার সচেতন মহল মনে করেন অবৈধ এই যান চলাচলের ওপর সরকারের কঠোর নজরদারী বাড়ানোর এখনই সময় তা না হলে দিন দিন ক্ষতির পাল্লা ভারী থেকে ভারীই হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ