ঢাকা, সোমবার 17 April 2017, ৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হালখাতার জন্য প্রস্তুত খুলনার ব্যবসায়ীরা

খুলনা অফিস : পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত খুলনার ব্যবসায়ীরা। এক বছরের হিসেব নিকেশ চুকিয়ে আবারো নতুন খাতা খোলা হচ্ছে হালখাতায়। নতুন বছরকে বরণ করতে নতুন খাতা হালনাগাদ করা হচ্ছে। এ জন্য পয়েলা বৈশাখে ব্যবসায়ীরা হালখাতা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। পাওনাদারদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়িত করা হবে। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও বাকি সব টাকা আদায় হয় না। এমনকি আপ্যায়নের খরচও ওঠতে চায়না। হালখাতা নিয়ে ব্যবসায়ীরা জানালেন তাদের কথা।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। লোকের কাছে টাকা নেই। যে পাইকার মালামাল নিয়েছে সেও তা বিক্রি করতে পারছে না। সে বিক্রি করতে না পারলে মহাজনকে দিবে কি ভাবে। হালকাতা একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। চিরাচরিত বিষয়। ব্যবসায়ীক ঐতিহ্য ধরে রাখতে হালখাতা করতে হচ্ছে। আসলে সম্পূর্ণ পাওনা ওঠেনা।
চাল ব্যবসায়ী বাবুল সরকার জানালেন তার কথা। তিনি বলেন, চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে অনেক জায়গা পানিতে তলানো। উঠতি বোরো ধানে ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত। অনেক দোকানে হালখাতা করেনা। এতে খরচ বাড়ে টাকা ওঠেনা। ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
মসলা ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রহমান বলেন, হালখাতায় টাকা আদায় না হলেও পাইকারদের আপ্যায়িত করে খুশি করতে হয়।
পাইকারী ডাল ব্যবসায়ী তাপস সাহা জানান, হালখাতার একটা রেওয়াজ রয়েছে। বিভিন্ন পাইকারদের কাছে পাওনা রয়েছে। অনেক পাইকার নিয়মিত লেন দেন করেন। তারপরও হালখাতার ঐতিহ্যকে ধারে রাখতে এবং যাদের ওপর আমরা নির্ভরশীল তাদের একটু আপ্যায়ন করাতে হয়।
বস্ত্র ব্যবসায়ী মোল্যা ফরিদ আহমেদ বলেন, একজন পাইকার সারা বছর কেনা বেচা করে। বছরে একবার তাদের একটু যতœ সেবা করতে হয়। সব বাকি না উঠলেও সিংহ ভাগের বেশী আসে।
খুলনা ধান চাল বনিক সমিতির সভাপতি মুনির আহমেদ জানান, মানুষের কাছে টাকা নেই। অনেক ব্যবসায়ী ঋণের কষাঘাতে জর্জরিত দেনার দায়ে ব্যবসা বন্ধ টাকা পরিশোধ করতে পারছেন। ফলে হালখাতায় আশানুরূপ ফলাফল হয়না।
ব্যবসায়ীরা পুরোনকে বাদ দিয়ে নতুনকে বরণ করতে এবং হিসাবকে হালনাগাদ করতে বিভিন্ন বাইন্ডিং কারখানায় খাতার অর্ডার দিয়েছে। কারখানায় পুরাদমে চলছে লাল সালু কাপড়ের খাতা তৈরির কাজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ