ঢাকা, শনিবার 18 November 2017, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বোমার 'মা' এবং 'বাবা'

অনলাইন ডেস্ক: সারা বিশ্ব যদি একটি গ্রাম হয়, তাহলে এই একগ্রামের দুই প্রধান মোড়ল হচ্ছে আমেরিকা আর রাশিয়া। কিন্তু এক গ্রামে দুই মোড়ল হলে যা হয়, একজন বানালেন মাদার অব অল বোম্বস তো অন্যজন বানালেন 'ফাদার অব অল বোম্বস। আসুন এবার সে মা-বাবাদের সাথে একটু পরিচিত হই। 

আফগানিস্তানে মোতায়েনের পর এই প্রথম যুদ্ধে ব্যবহার করা হলো ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি)’৷ অ্যামেরিকার ভাণ্ডারে থাকা নন-নিউক্লিয়ার বোমাগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় বোমা৷ কিন্তু, এটি কেন ‘মাদার অফ অল বম্বস’?

অধিকাংশ বোমার মধ্যে তেল এবং অক্সিডাইজার থাকে বিস্ফোরণের জন্য৷ কিন্তু ‘মাদার অফ অল বম্বস', যা এমওএবি নামেও পরিচিত, আলাদা৷ এটি থার্মোবেরিক অস্ত্র যা আসলে বিস্ফোরণের জন্য গন্তব্যের বাতাসে থাকা অক্সিজেন ব্যবহার করতে পারে৷ আর অক্সিডাইজার বহন করতে না হওয়ায় বোমাটি আরো বেশি বিস্ফোরক জ্বালানী উপাদান বহন করতে পারে৷ 

সাধারণ বোমাগুলো অল্প একটু এলাকার মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়৷ কিন্তু এমওএবি'র মতো থার্মোবেরিক বোমাগুলোতে থাকা বিস্ফোরক উপাদান এরোসলের মতো বিস্ফোরণস্থলের বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে যায়, ফলে বিশাল এলাকাজুড়ে আগুন লেগে যায়৷ দ্য ফাউন্ডেশন অফ ডেমোক্রেসিস-এর বিল রোজিও এই বিষয়ে বলেন, ‘‘এটা আসলে কার্যত বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন শুষে নেয় এবং বাতাসে আগুন জ্বালিয়ে দেয়৷ আর এভাবে এমন সব জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম হয় যা সাধারণ বোমার আওতার বাইরে৷'' 

এই বোমা পরিবহন এবং নিক্ষেপের ধরনও ভিন্ন৷ এটিকে কার্গো বিমানে করে গন্তব্যের কাছাকাছি নিয়ে আকাশে ছেড়ে দেয়া হয়৷ এরপর স্যাটেলাইট গাইডেন্স সিস্টেম এবং পাখার মাধ্যমে কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছানো হয়৷ বিশ্বের অন্যতম বড় ‘স্মার্ট' বোমাও এটি৷

এমওএবি সাধারণত ভূপৃষ্ঠ থেকে ছয় ফুট উঁচুতে বিস্ফোরণ ঘটায়৷ এটি নয় মিটার লম্বা এবং এক মিটার প্রশস্ত৷ এটির ওজন ৯,৫০০ কিলোগ্রাম, যা হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার চেয়ে দ্বিগুণ৷ এর আবরণ বেশ পাতলা, যা বিস্ফোরণে সর্বোচ্চ ক্ষতি নিশ্চিত করতে করা হয়েছে৷ বোমাটি বিস্ফোরণ স্থলের দেড়শ' বর্গমিটার এলাকার গাছপালা নিমিষে পরিষ্কার করে ফেলতে সক্ষম৷

মিলিটারি সরঞ্জাম বিষয়ক ওয়েবসাইট ডিগল ডটকমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একটি এমওএবি তৈরিতে খরচ হয় ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ আর এখন অবধি এ রকম বিশটি বোমা তৈরি করা হয়েছে, যাতে সকুল্যে খরচ হয়েছে ৩২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ অবশ্য একটি বোমা তৈরিতেই ৩২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে বলছেন, যা সঠিক নয়৷

রাশিয়ার কাছেও একইরকম বোমা রয়েছে, যেটির নাম সেদেশ দিয়েছে ‘‘ফাদার অফ অল বম্বস''৷ এটি আকারে এমওএবি'র চেয়ে ছোট হলেও চারগুণ বেশি শক্তিশালী৷ তবে কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে সেই বোমার বিস্ফোরণ এখনো ঘটায়নি রাশিয়া৷

তবে এর থেকেও বেশি শক্তিশালী অপারমাণবিক বোমা নাকি আছে রাশিয়ার হাতে। যে বোমার নামকরণ করা হয়েছে 'ফ্যাদার অব অল বোম্বস'। এর ওজন কম হলেও ধ্বংসের ক্ষমতা চারগুণ বেশি।

২০০৭ সালে রাশিয়া এ ধরনের বোমার প্রথম পরীক্ষা চালায়। ‘ফাদার অব অল বোম্বস’-এর ওজন ৭০৫৮ কেজি হলেও ৪৪ টন বিস্ফোরক বহন করতে এটি সক্ষম যা যুক্তরাষ্ট্রের মোআবের চেয়ে চার গুণ বেশি। তবে বোমাটির চিত্র গণমাধ্যমে এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: -এআই/এসিবি (এএফপি, এপি) এবং ডেইলি মেইল 

ডি.স/আ.হু

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ