ঢাকা, মঙ্গলবার 18 April 2017, ৫ বৈশাখ ১৪২৩, ২০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত মূর্তি সরাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত গ্রিক দেবী থেমিসের মূর্তি সরিয়ে ফেলতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক নিয়মিত বৈঠকে এক অনির্ধারিত আলোচনায় প্রসঙ্গটি উঠলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন তিনি। 

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এ বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক মন্ত্রী বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া বৈঠকে ‘রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) আইন-২০১৭’ ও ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) আইন-২০১৭’ এর খসড়ায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং আয়কর অধ্যদেশ-১৯৮৪ এর বিধানাবলী আয়কর আইন-২০১৭ হিসেবে পাস করার জন্য নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ৭-১০ এপ্রিল ভারত সফরে ৩৫টি দলিল, ১১টি চুক্তি এবং ২৪টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানানোর পাশাপাশি ভুটান ও ওমানের সাথে পৃথক দুইটি চুক্তির বিষয়ে অবহিত করা হয়।

জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় এক অনির্ধারিত আলোচনায় হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টের সামনে স্থাপিত জাস্টিসিয়া বা ন্যায় বিচারের প্রতীক হিসেবে বিতর্কিত গ্রিক দেবী থেমিসের মূর্তির প্রসঙ্গটি তোলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি জাজেস কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করতে গিয়ে রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যের প্রশংসা করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই আলোচনায় অংশ নেন। তিনি আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে যে কোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার কথা আবারও বলেন। এসময় তিনি নিজেই প্রসঙ্গক্রমে হাইকোর্টে স্থাপিত থেমিসের মূর্তি নিয়ে কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টের সামনে একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য বানালেও সেটিকে আবার শাড়ি পরানো হয়েছে। গ্রিক দেবী কি শাড়ি পড়তো নাকি? আর এটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যে জাতীয় ঈদগাহ থেকেও চোখে পড়ে। আর এটি আসলেই দর্শনীয় কোনো ভাস্কর্য হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি গত শনিবার জাজেস কমপ্লেক্স উদ্বোধনের পর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে একান্তে কথা বলেছি। তাকে জানিয়েছি, ভাস্কর্যটি দর্শনীয় হয়নি। গ্রিক দেবীকে শাড়ি পরানো হয়েছে। এটি নিয়ে বিতর্কও উঠেছে। হয় এটি হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে ফেলুন অথবা এমনভাবে রিপ্লেস করুন বা ঢেকে দিন যাতে এটি জাতীয় ঈদগাহ থেকে দেখা না যায়। তিনি (প্রধান বিচারপতি) বিষয়টি দেখবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।’

এদিকে, বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, ‘রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) আইন-২০১৭’ এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিপরিষদ। রাজশাহী টাউন ডেভেলপমেন্ট অথরিটিকে পরিবর্তন করে নতুন আইনে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করা হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন আইনে জলাধার আইনটিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জলাধার বলতে, জলাধার আইনে যে সংজ্ঞা আছে সেটাই এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর আইনের ২৫ ধারায় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড হতে পারে। সচিব আরো বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের এলাকাটি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলাকা হিসেবে গণ্য করা হবে। ওই এলাকায় সরকারের মহাপরিকল্পনা ও ভূমি আইন ভঙ্গ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। 

এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) আইন-২০১৭’ এর খসড়ায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর সভার বিধানেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। বিআরডিবি আইন অনুযায়ী দুই মাসে একবার বোর্ড সভা হতো। নতুন আইন অনুযায়ী প্রতি ছয় মাসে একবার সভা হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী থাকবেন বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব থাকবেন ভাইস চেয়ারম্যান, বোর্ডের মহাপরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এক তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম পূর্ণ হবে।

সভায় আয়কর অধ্যদেশ-১৯৮৪ এর বিধানাবলী আয়কর আইন-২০১৭ হিসেবে পাস করার জন্য মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। এ আইনে এ পর্যন্ত আনা সব সংশোধনী নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে স্বাক্ষরের জন্য তৈরি করা ‘এগ্রিমেন্ট অন দ্য প্রমোশন অ্যান্ড রেসিপ্রোকল প্রটেকশন অব ইনভেস্টমেন্ট বিটুইন দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল অব বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য সুলতানাত ওমান’ এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মধ্য দিয়ে উভয় দেশের মধ্যে বিনিয়োগের পরিমাণ, সুযোগ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উভয় দেশ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ভুটান সফর উপলক্ষে ‘এগ্রিমেন্ট অন কালচারাল কো অপারেশন বিটুইন দ্য রয়েল গভর্নমেন্ট অব ভুটান অ্যান্ড দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল অব বাংলাদেশ’ এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে। চুক্তিটি হবে ৫ বছরের জন্য। পরে আরো ৫ বছরের জন্য নবায়ন করা যাবে।

ভারতের সঙ্গে ৩৫ দলিল ১১ চুক্তি ২৪ এমওইউ স্বাক্ষরিত : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ভারত সফর করেছেন। এ সফর সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় বলা হয়, সফরে ৩৫টি দলিল, ১১টি চুক্তি ও ২৪টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ও বিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ‘কালারফুল (বর্ণিল)’ ও অনেক ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ সফরে শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে আতিথিয়তা গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে অবস্থান করার সুযোগ পৃথিবীর স্বল্পসংখ্যক বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান পেয়ে থাকেন। 

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের রেপ্লিকা হস্তান্তর : এদিকে, বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর রেপ্লিকা হস্তান্তর করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। জানা গেছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী এ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

আরো জানা গেছে, দেশের প্রথম কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহটির উৎক্ষেপণে খরচ হবে ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স ও ফ্যালকন ৯ উৎক্ষেপণযান ব্যবহার করে ফ্লোরিডার লঞ্চ প্যাড থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হবে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে পরামর্শকের দায়িত্ব পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল (এসপিআই)। প্রতিষ্ঠানটি নকশা তৈরি, গ্রাউন্ড স্টেশন ব্যবস্থাপনা, বাজার মূল্যায়ন, স্যাটেলাইট বাজারজাতকরণ এবং স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ