ঢাকা, মঙ্গলবার 18 April 2017, ৫ বৈশাখ ১৪২৩, ২০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে অবিলম্বে মূর্তি না সরালে কঠোর আন্দোলন

গ্রিক দেবীমূর্তি স্থাপন পবিত্র ইসলাম, আমাদের সাংস্কৃতি, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। অনতিবিলম্বে সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে উক্ত দেবীমূর্তি সরানোর জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম। অন্যথায় সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে ঈমানী ও নৈতিক অধিকার আদায় করা হবে ইনশাল্লাহ। তাতে দেশ মহা সংকটে পড়তে পারে। 

গতকাল সোমবার দেয়া শীর্ষ ইসলামী নেতৃবৃন্দ বলেন, মূর্তি স্থাপন, মূর্তি পূজা ও মূর্তি সংরক্ষণ ইসলামে চিরতরে হারাম ও জঘন্যতম শিরক। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন- “ তোমরা মূর্তি থেকে পরিপূর্ণরূপে দূরে থাকো। (সূরা হাজ্ব : ৩০) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- “নিশ্চয় আল্লাহ তা’য়ালা মূর্তিপূজা ও শিরক কখনো ক্ষমা করবেন না। (সূরা নেছা : ৪৮) আল্লাহ তা’য়ালা যুগে যুগে নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন মূর্তি ভাঙ্গার জন্য। অথচ ৯৫ ভাগ মুসলমানের এদেশের সর্বোচ্চ আদালতের সামনে মূর্তি স্থাপন করে ইসলামের দুশমনরা সরকার, দেশের বিচারব্যবস্থা ও ইসলাম প্রিয় জনতাকে মুখোমুখী দাঁড় করাতে চায়। উক্ত অশুভ শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতেই প্রধানমন্ত্রীর অজান্তে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে গ্রিক দেবীমূর্তি স্থাপন করেছে কিনা তা তদন্ত হওয়া জরুরি। 

উল্লেখ্য যে, গ্রিক দেবী মূর্তি স্থাপন পবিত্র ইসলাম ও আমাদের সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক তো বটেই বরং দেশের সংবিধানের ২ (ক), ১২ ও ২৩ অনুচ্ছেদের সম্পূর্ণ বিরোধী। ১৯৪৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোর্ট প্রাঙ্গনে দেবী মূর্তি স্থাপন করা ধৃষ্টতা কেউ দেখায়নি। 

শীর্ষ উলামায়ে কেরাম বলেন, আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের কাছে জোর অনুরোধ করছি, অনতিবিলম্বে সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রিক মূর্তি সরিয়ে ফেলুন। প্রধানমন্ত্রীর অগোচরে যারা সর্বোচ্চ আদালতের সামনে মূর্তি বসিয়েছে তাদের খুঁটির জোর কোথায়? তা খুঁজে বের করা দরকার। দেশকে নিয়ে চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক হতে না পারলে ঘাপটি মেরে থাকা কুচক্রি মহল ইসলাম, ইসলামী মূল্যবোধ ও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের মহাসর্বনাশ করে ছাড়বে। 

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- শাইখ মাওলানা আবদুল মোমিন, মাওঃ মোহাম্মাদ ইসহাক, হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হজুর, মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, শাহতলীর পীর মাওলানা আবুল বাসার, ফরায়েজী আন্দোলনের আমীর মাওলানা আব্দুল্ল¬াহ মোঃ হাসান, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের আমীর মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব মাওলানা শাহ আরিফ বিল্ল¬াহ সিদ্দীকি, মীরের সরাইর পীর মাওলানা আঃ মোমেন নাছেরী, টেকের হাটের পীর মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মুফতি মাওলানা আবদুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, মাওলানা সালেহ সিদ্দীকি, মাওলানা হাফেজ আবুল হোসাইন, মাওলানা নাসির উদ্দীন খান, শাহ এমদাদুল্ল¬াহ পীর সাহেব, শাহ ওয়ালিউল্ল¬াহ পীর সাহেব গাছতলা, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের আমির আধ্যাত্মিক গুরু শাইখ নুরুল হুদা ফয়েজী, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের জেনারেল সেক্রেটারি আল্লামা মুস্তাক ফয়েজী, ইসলামী ঐক্য মঞ্চ সভাপতি মাওলানা ইদ্রিস হোসাইন, সেক্রেটারি আবদুস সাত্তার, খাদেমুল ইসলাম জামাত আমির মাওলানা মুহিবুল্লাহ, সেক্রেটারি মাওলানা সারওয়ার হোসাইন, জাতীয় মুফাসসিরিন পরিষদ সভাপতি মাওলানা বেলাল হোসাইন ও সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল আমীন, জাতীয় ইমাম উলামা পরিষদের সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা ফজলুর রহমান ও মহাসচিব মাওলানা এবি.এম শফিকুল্লাহ, মাদরাসা মসজিদ ও খানকা ঐক্যপরিষদ সভাপতি মাওলানা রফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, ইসলামী সমাজ সভাপতি মাওলানা রফিকুর রহমান আল কাশেমী ও সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি জাকারিয়া, ইসলামের জনতা সভাপতি মুফতি আবদুল কুদ্দুস ও মহাসচিব হাফেজ আবুল কাসেম, ইসলামী সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি শাইখ যাইনুল আবেদীন ও সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহমান, তালিমুল কুরআন সোসাইটি মুফতি আবদুল হালিম, মহাসচিব মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, আল কুরআন ফাউন্ডেশন সভাপতি মুফতি জামাল উদ্দীন ও সেক্রেটারি মুফতি ইসহাক, জমিয়াতে উলামা দেওবন্দ পরিষদের সভাপতি হযরত মাওলানা মুহাদ্দেস আবদুল্লাহ কাসেমী ও সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক কাসেমী জাতীয় খতীব পরিষদের আমীর মুফতি মাওলানা মাউদুর রহমান, হুফ্ফাজ পরিষদ সভাপিত হাফেজ লেয়াকত হোসাইন ও সেক্রেটারি মুফতি মাহবুবুর রহমান, ইসলামী অন লাইন এ্যাক্টিভিটস সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা আবদুস সামাদ ও মহাসচিব মুফতি আবু আনাস, সম্মিলিত ইসলামিক জোটের আমির মাওলানা আবদুল বাকি, সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মনিরুজ্জামান, জাতীয় ইমাম সোসাইটির মহাসচিব মুফতি জোবায়ের আহমদ কাসেমী, প্রফেসর মাওলানা মুফতি ইসহাক মাদানী, হাফেজ মুফতি মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ ইখলাস উদ্দিন, মাওলানা আবু হানিফ নেছারী, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান, হাফেজ ফারুক হোসাইন, মাওলানা এহতেশামুল হক, নাস্তিক-মুরতাদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল ক্দ্দুুস আল কাসেমী ও মহাসচিব শাইখ আব্দুল কাউয়ূম, জাতীয় তাফসীর পরিষদ সভাপতি মাওলানা আব্দুল আখির ও মহাসচিব মাওলানা আবু দাউদ যাকারিয়া, ইসলাহুল মুসলিলিমিন সভাপতি মুফতি আবুল বাশার ও মহাসচিব মুহাদ্দিস হাসানুল ইমাম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ