ঢাকা, মঙ্গলবার 18 April 2017, ৫ বৈশাখ ১৪২৩, ২০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জনগণের মধ্যে বিভক্তি নেই আমরা সঠিক পথেই আছি -এরদোগান

দেশের অভ্যন্তরে বিরোধী শক্তি এবং ইউরোপের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর চরম বিরোধিতা সত্ত্বেও সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে তুর্কী জনগণ। জনগণের এই রায় তুরস্কের ইতিহাসে আরেকটি অনন্য অধ্যায়।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদলু এজেন্সি জানায়, সদ্য সমাপ্ত রেফারেন্ডামে ৯৯.৯৭ ভাগ ভোট গণনার পর দেখা যায়, সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান পরিবর্তন তথা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রায় ৫১ দশমিক ৪১ ভাগ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে না ভোট পড়েছে ৪৮ দশমিক ৫৯ ভাগ।

এর মাধ্যমে যেমন শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে এরদোগানের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেল তেমনি তুরস্ককে আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়ার পথে গোড়াপত্তন হলো বলেই মনে করছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জনগণের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই, আমরা সবাই সঠিক গন্তব্যেই আছি : এরদোগান

রয়টার্স জানায়, গণভোটের রায় সম্পর্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, ‘আমরা আমাদের সঠিক গন্তব্যেই আছি। এখন এটিকে (প্রেসিডেন্ট শাসিত নতুন ব্যবস্থা) এগিয়ে নিতে হবে। দেশের জন্য আমাদেরকে আরো বেশি পরিশ্রম করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, দেশের জনগণের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই। সবাই সঠিক পথের পক্ষেই রয়েছেন।

ঐতিহাসিক গণভোটে রায় পাওয়ার পর ইস্তাম্বুলে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, ‘বিশ্বের অন্য জাতির দ্বারা আমরা বহু আক্রান্ত হয়েছি। আপনারা দেখেছেন পশ্চিমারা আমাদের ওপর কি ন্যক্কারজনক আক্রমণই না করেছে।’

গত রোববারের গণভোটে এরদোগানের ক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষে বেশিরভাগ ভোট পড়েছে। গণভোটের এ রায়ে দেশটিতে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। ফলে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে দেশটি প্রেসিডেন্ট শাসিত ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদলু এজেন্সি জানায়, ৯৮ ভাগের বেশি ভোট গণনার পর দেখা যায়, সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান পরিবর্তন তথা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রায় ৫১ দশমিক ৩৬ ভাগ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে না ভোট পড়েছে ৪৮ দশমিক৬৪ ভাগ।

বিজয়ের পর এরদোগান বলেন, ‘তুর্কি জনগণের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ আমাদের দেশের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম, আমরা আমাদের ক্ষমতাসীন ব্যবস্থা জনগণের রাজনৈতিক আকাক্সক্ষার মাধ্যমে পরিবর্তন করতে যাচ্ছি।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট জানান, ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে স্পষ্টতই সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেয়েছেন তিনি। এখন সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।

তবে রিপাবলিকান পিপলস পার্টিসহ (সিএইচপি) প্রধান দুই বিরোধী দল গণভোটের এই ফল প্রত্যাখ্যান করেছে।

নির্বাচনে অনিমের অভিযোগ তুলে দল দুটি বলছে, রাষ্ট্রীয গণমাধ্যম ভোটের হিসেবে গড়মিল করেছে।

তারা এই ফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ৬০ শতাংশ ভোট পুনর্গণনার দাবি তুলেছে।

এদিকে, ইস্তাম্বুলসহ তুরস্কের বিভিন্ন শহরে গণভোটে ‘জয়’ উদযাপন করছেন এরদোগানের সমর্থকরা। রাতভর তারা সড়কে দেশের পতাকা হাতে উল্লাস করে।

আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন একে পার্টির সদর দফতরে সমর্থকরা ভিড় করেন এবং তারা স্লোগান দিয়ে, গাড়ির হর্ণ বাজিয়ে উল্লাস করেন।

এরদোগানের সমর্থকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট নির্বাহী ক্ষমতা পেলে তা দেশকে উন্নত করবে।

এরদোগানের বক্তব্যের আগে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়ায় দেশটির জনগণেকে ধন্যবাদ জানান।

আঙ্কারায় একে পার্টির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় শুরু হলো। অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরা সবাই এক দেহে ভাইবোনের মতো। আমরা একই সত্তা, একই জাতি।’ গণভোটে জয়ী এরদোয়ানের হাতে ‘সর্বময় ক্ষমতা’।

এপ্রিল ১৭, রয়টার্স: রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে আরও ক্ষমতা তুলে দিতে আধুনিক তুরস্কের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড়’ সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্নে আয়োজিত গণভোটে জয় পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান, যার মধ্য দিয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত তার ক্ষমতায় থাকার পথ তৈরি হলো।

বিবিসি জানিয়েছেন, ৯৯.৪৫ শতাংশ ভোট গণনায় এরদোগানের সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৫১ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে প্রায় ৪৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ, এরদোগান শিবির স্বল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছে।

এর ফলে তুরস্কে সংসদীয় গণতন্ত্রের বদলে পুরোমাত্রায় প্রেসিডেন্টের নির্বাহী শাসন শুরু করা যাবে, এরদোগানের হাতে আসবে প্রভূত ক্ষমতা, দেশটির আধুনিকায়নের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ বলে তার সমর্থকদের দাবি।

অবশ্য তুরস্কের প্রধান দুটি বিরোধী দল বলছে, তারা গণভোটের এই ফলাফল চ্যালেঞ্জ করবে।

দেশটির রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) ৬০ শতাংশ ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছে। সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে গেলে এরদোগান আরও বেশি কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠবেন বলে বিরোধী শিবিরের শঙ্কা।

বিবিসির খবরে বলা হয়, গণভোটে জয়ের পর এরদোগানের সমর্থকরা বড় শহরগুলোর রাস্তায রাস্তায় পতাকা নিয়ে উল্লাস শুরু করে। অন্যদিকে এরদোগানবিরোধীরা ইস্তাম্বুলে হাড়ি-পাতিল পিটিয়ে বিক্ষোভ দেখায়।

রয়টার্স জানিয়েছেন, রোববার তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং দেশের বাকি অংশে ভোট শুরু হয় স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি জায়গায় সহিংসতা হয়, দিয়ারবাকির এলাকায় ভোট কেন্দ্রের কাছে গুলীতে নিহত হন তিনজন।

গত বছরের জুলাইয়ে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত তুরস্কে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; চাকরিচ্যুত হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার লোক। এরদোগান সরকারের এই দমননীতির কড়া সমালোচনা করে আসছে পশ্চিমা দেশগুলো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এক চুক্তির পর সিরিয়া ও ইরাক থেকে ইউরোপ অভিমুখী অভিবাসন প্রত্যাশীদের ¯্রােতে লাগাম দিয়েছিল তুরস্ক। সম্প্রতি গণভোটের প্রচার নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নাজুক হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে ওই চুক্তি পুনর্বিবেচনার হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

 রোববার রাতে গণভোটে জয়ের ঘোষণা দিয়ে স্বভাবসুলভ উত্তেজক ভঙ্গিতে ৬৩ বছর বয়সী এরদোগান বলেন, তার এই জয়কে অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে।

 সেই সঙ্গে তিনি মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরিয়ে আনতে আরেকটি গণভোটের প্রস্তাব তোলেন, যার বাস্তবায়ন ঘটলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তুরস্কের সমঝোতার আর কোনো পথ থাকবে না।

ইস্তাম্বুলে নিজের সরকারি বাসভবন হুবার প্রাসাদে এক ব্রিফিংয়ে এরদোগান বলেন, “তুরস্ক আজ এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করতে যাচ্ছি।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ