ঢাকা, মঙ্গলবার 18 April 2017, ৫ বৈশাখ ১৪২৩, ২০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কোনোভাবেই ভ্যাট কমানো হবে না -অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, নতুন ভ্যাট আইন আগামী ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে। তিনি আরও বলেন, ভ্যাট ১৫ শতাংশই হবে। কোনোভাবেই ভ্যাট কমানো হবে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, ভ্যাট সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ করা হোক।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ভ্যাট আইন বিষয়ে ব্যবসায়ী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, এসবিসিসিআই’র প্রথম সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান, একে আজাদ, এফবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা ও ভ্যাট আইন বিশেষজ্ঞ মঞ্জুর আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অফকোর্স কার্যকর হচ্ছে। রেট কী হচ্ছে- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, টু থিংস আই হ্যাভ টোল্ড দেম দ্যাট ইট ইজ গোয়িং টু বি ইফেক্টিভ ফার্স্ট অব জুলাই। রেট উইল বি অনলি ১৫ পারসেন্ট।

এই দুই পয়েন্ট ব্যবসায়ীরা মেনে নিয়েছেন কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, মানবে কি মানবে না, সেটা তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন।

এদিকে বৈঠক শেষে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, দেশে ২ কোটি ২৪ লাখ মাঝারি ব্যবসায়ী রয়েছে। এই মার্জিনাল বিজনেস কমিউনিটির জন্যই আমরা এখানে রিপ্রেজেন্ট করছি। আমরা চাই এটা সিমপ্লিফাইড ওয়েতে এবং বিজনেস কমিউনিটিকে যুক্ত করে তারপর যাতে ভ্যাট আইনের প্রয়োগ করা হয়।

তিনি বলেন, যেহেতু ২০১২ সাল থেকে এটা পর্যন্ত ড্রাগ করছে, সেহেতু অবসারভেশন ইজ জেনুইন। তিনি এটা বিবেচনায় নিয়েছেন। আমরা ভ্যাট ১০ শতাংশ রাখার কথা বলেছি। উনি নোট নিয়েছেন, উনি (অর্থমন্ত্রী) বলেছেন, আরেকবার ক্ষুদ্র আকারে আলোচনা করে বাস্তবায়নে যাবেন।

ভ্যাট আইন কার্যকর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা চাই, আমাদের বিষয়গুলো সুরাহা করে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে যেন তা করা হয়। উনি জনগনের প্রতিনিধি। জনগণের সরকার। জনগণের সেন্টিমেন্ট এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সেন্টিমেন্টকে উপেক্ষা করে এটি করবে না বলে আমাদের বিশ্বাস।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, আজকের ফলপ্রসু এবং যুক্তিপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। শেষ করার আগে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ক্ষুদ্র আকারে আরেকবার বসবেন। একদিকে ভ্যাট আইনটা যেমন কার্যকর করতে হবে। অপরদিকে দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থকেও আমাদের রক্ষা করতে হবে। বিশেষ ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে আমাদের দেশিয় শিল্প সেগুলোও আমাদের আলোচনা করতে হবে। কারণ আমরাতো আমাদের দেশিয় শিল্পকেও সংরক্ষণের চেষ্টা করি। এই সরকার বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবে।

ভ্যাট আইন বিশেষজ্ঞ মঞ্জুর আহমেদ বলেন, আমরা যেটা বলতে চাই, অর্থমন্ত্রী কিন্তু এক্সটেনশন অব ব্যুরোক্রাসি না। আমলারা যা বলে দেবে, তা করা তার কাজ না। উনি জনগণের প্রতিনিধি। তাকে কনজিউমার ইন্টারেস্ট দেখতে হবে। ১৫ শতাংশের টোটাল ভ্যালু কনজিউমার লেভেলে যাতে ৪৫ শতাংশ না হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি, যারা কিনে কনজিউমারের কাছে বিক্রি করেন, সেখানে ভ্যাটের রেট যেন দশমিক ৫ শতাংশের বেশি না হয়। ইউরোপে এটা দশমিক ৮ শতাংশ আছে। আমাদের এখানে যাতে সবাই ভ্যাট দিতে আগ্রহী হয়। ১৫ শতাংশ দিতে হলে কেউ আগ্রহী হবে না। তাতে জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়বে। মুদ্রাস্ফীতি হবে।

মঞ্জুর আহমেদ বলেন, আমরা প্রতি ১০০ টাকায় ৫০ পয়সার প্রস্তাব করেছি, সরকার ১ টাকা করলেও আমাদের আপত্তি নাই। এটা হলে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বাড়বে না। জিনিসপত্রের দাম নাগালে থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ