ঢাকা, মঙ্গলবার 18 April 2017, ৫ বৈশাখ ১৪২৩, ২০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আশাবাদের খবর

নানা অন্যায়-অবিচার, অপরাধ ও অনাচারের মধ্যে যদি কোন ভাল খবর শোনা যায় তাহলে মনে আশাবাদ জাগে। আর আশাবাদী মানুষরাই তো পারে সমাজ-সংসারে কাক্সিক্ষত অবদান রাখতে। ১৬ এপ্রিল পত্রিকান্তরে আশাবাদের একটি খবর মুদ্রিত হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়, ‘হয় মাদক ব্যবসা ছাড়তে হবে, নয় জেলে যেতে হবে’ এমন একটি বার্তা পাঠিয়েছে পুলিশ। এই বার্তা আর ১৬৩২ জন মাদক ব্যবসায়ীর নাম-ঠিকানা ও ফোন নম্বর সম্বলিত একটি তালিকা ছড়িয়ে দেয়া হয় দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে। এতে বদলে যেতে থাকে জেলার মাদক পরিস্থিতি। পুলিশ ও সামাজিক চাপে পড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা একে একে আত্মসমর্পণ করতে থাকে। তাদের অনেকেই এখন ফিরছেন সুস্থ জীবনে। কেউ ভ্যান চালান, কেউ গরুর খামার দিয়েছেন, কেউ চালান মাইক্রোবাস। পুলিশ বলছে, এই প্রক্রিয়ায় গত ছয় মাসে আড়াই শতাধিক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছেন। আর পুনর্বাসন করতে পুলিশ তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন ভ্যান ও সেলাই মেশিন। তালিকা করে, পুলিশী ভয় দেখিয়ে ও সামাজিক চাপে ফেলে মাদক ব্যবসায়ীদের সুপথে আনার ক্ষেত্রে দেশের উত্তরের সীমান্ত জেলা দিনাজপুরে যে সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা বেশ আশাপ্রদ।
উল্লেখ্য যে, দিনাজপুর জেলার সঙ্গে ভারতের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত দিয়ে মাদকের চালান আসছে অহরহ। কিন্তু তা বন্ধ করা খুবই কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন জেলার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা। তবে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার ওসি বলেন, আগে দিনাজপুরে মাদকের যে রমরমা অবস্থা ছিল এখন তা নেই। প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করা যায় যে, শুধু মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করেই ক্ষান্ত হয়নি দিনাজপুর জেলা পুলিশ। ‘আলোকচ্ছটা’ নামে ৫৬ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করেছে। এতে জেলার ১৩ উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীর নাম-ঠিকানা ও মুঠো ফোন নম্বর রয়েছে। গত মার্চের শেষের দিকে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার ২১ জন, বীরগঞ্জ থানার ৫ জন ও বিরল থানার ১০ জন সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, তারা স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছেন এবং সুস্থ আছেন। এরা সবাই মাদক ব্যবসা ছেড়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।
দিনাজপুরে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়ধর্মী তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। আইন-কানুন ও পুলিশী ভয় দেখানোর পাশাপাশি তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিক চাপে ফেলে দেয়া হয়েছে। এতে ভাল কাজ হয়েছে। একদিকে আইনের ভয়, অপরদিকে সামাজিক মান-মর্যাদার বিষয়, এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পুলিশ এই বার্তাটিও পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে যে, মাদক ব্যবসা করলে কোন রেহাই নেই। এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি পুনর্বাসন পরিকল্পনা থাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়ে উঠেছে। আমরা মনে করি, দিনাজপুর জেলার মতো দেশের অন্যান্য জায়গায়ও যদি সমন্বয়ধর্মী পদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যেতে পারে। প্রসঙ্গত এখানে আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভারতের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অহরহ প্রবেশ করছে মাদকদ্রব্য। বাংলাদেশ সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে মাদক কারখানা। ক্ষতিকর এমন উদ্যোগের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার ভারতের সাথে আলোচনা করতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ