ঢাকা, মঙ্গলবার 18 April 2017, ৫ বৈশাখ ১৪২৩, ২০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সোনাগাজীতে ঝড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

এম এ হায়দার, ফেনী: আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে  ফেনীর সোনাগাজীর বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসল ও দেড় হাজারের অধিক ঘর বাড়ি গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত বুধবার বিকালে ঘূর্ণিঝড়ে সোনাগাজীর উপকুলীয় অঞ্চল লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এতে সরকারী হিসাব মতে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বুধবারের আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়,টানা ও ভারি শিলাবৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসময় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন ইউনিয়নে ৮৬৬টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও ১১০২টি বাড়িঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সোনাগাজী পৌর এলাকায় ১০০টি,চর মজলিশপুর ইউনিয়নে ১৭০টি বগাদানা ইউনিয়নে ২৫৭টি মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নে ৬০টি, মতিগঞ্জ ইউনিয়নে ৪৩৪টি, চর দরবেশ ইউনিয়নে ১১৭টি, চরচান্দিয়া ইউনিয়নে ৫৫টি, সোনাগাজী সদর ইউনিয়নে ৭০০টি, আমিরাবাদ ইউনিয়নে ৫৫টি, নবাবপুর ইউনিয়নে ২০টি কাঁচা ও আধা পাকা ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণ ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে প্রায় ২৩ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, বুধবারের ঝড়ে কৃষি খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রবি শস্য চাষীরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ঝড় ও শিলা বৃষ্টির প্রভাবে সোনাগাজীতে ১৪৩৫জন কৃষকের ৩১৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে প্রায় ১ কোটি ৬লাখ ৮০হাজার ৫শত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।আক্রান্ত হওয়া ফসলের মধ্যে মাঠে থাকা মরিচ ৭৫ হেক্টর, শাকসবজি ৫০ হেক্টর, আখ ১০ হেক্টর, ফেলন ৮০ হেক্টর, মুগ ডাল ৫০ হেক্টর, বাদাম ৫০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়। এর মধ্যে ৬৫ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ ও ২৫০ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। তবে ধান চাষেও আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শরীফুল ইসলাম বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও ফসলি জমি পরিদর্শন করে কৃষক ও বক্ল সুপারভাইজারদের সাথে কথা বলে তাদের দেয়া তথ্য মতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারন করে তালিকা তৈরী করেছি। তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদেরকে সহযোগীতার জন্য তথ্য বিবরণী দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিসের সিনিয়র অফিস সহকারী সফিকুর রহমান বলেন, ঝড়ে পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নের  ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা আমরাও প্রস্তত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তিনি আরো বলেন ঝড় শেষে দ্রুত সহায় সম্বলহীন ১৮৫ পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাউল,চিড়া ও মুড়ি বিতরণ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতায় আমরা ক্ষতিগ্রসসস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তিনি আরো বলেন, ঝড়ে সদর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ