ঢাকা, মঙ্গলবার 18 April 2017, ৫ বৈশাখ ১৪২৩, ২০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নানা স্থাপনায় ঢাকা পড়েছে লিনিয়ার পার্কের সৌন্দর্য

খুলনা অফিস : খুলনার লিনিয়ার পার্কটির দক্ষিণ পাশে গা ঘেঁষে দুই কোণায় নির্মিত হয়েছে একটি রাজনৈতিক দলের বটিয়াঘাটা উপজেলার ১নং জলমা ইউনিয়নের কার্যালয়। তার ঠিক মাঝখানে উঁচু উঁচু তাঁবু টাঙ্গিয়ে প্রতিনিয়ত বসছে কাঁচা বাজার। এছাড়া সামনের সরু সড়কের দু’পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ভ্যান-রিকশার গ্যারেজ ও চায়ের দোকান। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের পাশাপাশি বাজার, দোকান-পাট ও স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনায় ঢাকা পড়েছে নগরীর গল্লামারী এলাকায় ময়ূর নদীর তীরে অবস্থিত লিনিয়ার পার্কের সামনের অংশ। কিন্তু সেদিকে কোন নজর না দিয়েই পার্কটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ওই পার্কের সৌন্দর্য্যহানি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে নগরবাসীর চিত্ত-বিনোদনের জন্য ময়ূর নদীর তীরে ১৪ একর জায়গা ঘিরে একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর ২০১২ সালে পার্কটি তৈরির কাজ শুরু করে কর্পোরেশন। প্রকল্প থাকে, আরসিসি পিলার ও তার কাটার প্রাচীর, প্রবেশ দ্বারের বাম পার্শ্বে ৫টি দোকান ঘর, এন্ট্রিপ্লাজা (টিকিট কাউন্টার ও এন্ট্রিগেটসহ), পার্কিং জোন, রেস্টুরেন্ট, অফিস সেড ও সিকিউরিটি সেড, বাঘ ও হরিণের ২টি রেপ্লিকা, ৪ তলা অভজারভেশন টাওয়ার, ১০টি আমব্রেলা সেড, ২টি টয়লেট, ওয়াকওয়ে, ২টি পিকনিক সেড (কিচেনসেডসহ), ডেকোরেটিভ বাউন্ডারী ওয়াল। চিলড্রেন জোনের মধ্যে ৪টি সী স, ১টি সী স সার, ৪টি পেন্ডুলাম, ৪টি ক্লাম্বিং পোল, ২টি মেরী গ্রাউন্ড, জ্যাম্পিং প্যাড, ২টি স্লিপার, আর্টিফিসেয়াল টানেল, বৈদ্যুতিক খুঁটি, বৈদ্যুতিক খুঁটি (আর সি সি সি ঢালাই) ইত্যাদি।
জানা গেছে, প্রায় ২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৩ সালের জুনের দিকে এ পার্কের কাজ শেষ করা হয়। এর পর নানা জটিলতায় পার্কটির চালুর প্রক্রিয়া থমকে যায়। কিন্তু সবকিছু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গত বছরের শেষের দিকে ইজারাদার নিয়োগ করে কর্পোরেশন। এ অবস্থায় ইজারাদারের নিজস্ব অর্থে পার্কটি সুন্দরবনের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য গাছপালায় পাখিদের নিরাপদ স্থান, গোলপাতা ঘর ও সুইমিং নির্মাণ করছে। এছাড়া চায়না থেকে বিভিন্ন রাইডস এনে আরও সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হবে। এসব কাজ শেষ হলে আগামী জুন মাসের মধ্যেই জনগণের জন্য পার্কটি উন্মুক্ত করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ