ঢাকা, মঙ্গলবার 18 April 2017, ৫ বৈশাখ ১৪২৩, ২০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

২৩ এপ্রিল পর্যন্ত আরেক দফা বাড়লো হজ্বের নিবন্ধনের সময়

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৭ সালে হজ্ব পালনে ইচ্ছুক বাংলাদেশীদের নিবন্ধনের সময়সীমা ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। বেসরকারি এজেসিগুলো শর্তসাপেক্ষে নিবন্ধন করবে। গতকাল সোমবার বিকালে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বেইলি রোডের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও হজ্ব এজেন্সি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে যারা হজ্ব পালন করবেন তাদের নিবন্ধন সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছিল ২৮ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত। প্রাক-নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে এমন অভিযোগ নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্বন্ধ শুরু হওয়ায় নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ রাখে এজেন্সি মালিকরা। এরপর ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়ায় ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ সময়ও নিবন্ধন করা থেকে বিরত থাকে বেসরকারি হজ্ব এজেন্সি মালিকরা। পরবর্তীতে গতকাল ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত তৃতীয় দফা সময় বাড়ায় সরকার। এ সময় মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, কোনো অবস্থাতেই আর সময় বাড়ানো হবে না। বরং নিবন্ধন না করলে নির্ধারিত প্রাক-নিবন্ধিত ক্রমিক নম্বর ২ লাখ ১৭ হাজার ২৮৮ সিরিয়ালের পর থেকে নিবন্ধন শুরু করা হবে। বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় হাব নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। বৈঠকে শর্তসাপেক্ষে নিবন্ধন করতে সম্মত হয় হাব। ফলে নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হয়। শেষ পর্যন্ত হাবের দাবি মেনে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধর্মমন্ত্রণালয়। ২৩ এপ্রিলের পর  হজ্বযাত্রীর প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে। পরে কোটা পূরণ করতে আরো হজ্বযাত্রীর নিবন্ধন করা হবে বলে জানা গেছে।
হাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাহার বলেন, সরকার ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী হজ্বযাত্রীর নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল ১৭ এপ্রিল সোমবার। কিন্তু হাবের দাবি দাওয়া মেনে না নেয়ায় ও হাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হজ্বযাত্রীদের নিবন্ধন বন্ধ রাখে হজ্ব এজেন্সিগুলো। এ কারণে হজ্বযাত্রীর নিবন্ধন নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি হয়। এই জটিলতা নিরসনে গতকাল বিকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীর বাসায় মন্ত্রী ও ধর্ম মন্ত্রণলায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে হাব নেতারা। বৈঠকে কিছু শর্তাসাপেক্ষ নিবন্ধন করতে সম্মত হয় হাব। এতে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন হয়। বৈঠকে হজ্বযাত্রীর নিবন্ধনের সময়সীমা বেধে দেয়া হয় ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময়ের এজেন্সি মালিকরা তাদের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন হাবের মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহ, হাবের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন আহমেদ, হাব নেতা আব্দুস ছোবহান ভুঁইয়া প্রমুখ।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ বাংলাদেশী হজ্ব পালনের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ