ঢাকা, মঙ্গলবার 18 April 2017, ৫ বৈশাখ ১৪২৩, ২০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অবিলম্বে কওমী মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি অপসারণ করতে হবে -শিবির সভাপতি

গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম অঞ্চল দক্ষিণ আয়োজিত সদস্য শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, কওমী মাদরাসা স্বীকৃতির দাবি শুধু কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থী বা আলেমদের নয় বরং তা ছিল এদেশের সকল ইসলামপ্রিয় ছাত্রজনতার প্রাণের দাবি। এই স্বীকৃতি বাস্তবায়ন নিয়ে কোন রাজনীতি বা টালবাহানা গ্রহণযোগ্য হবে না। একই সাথে সর্বোচ্চ বিচারাঙ্গণে গ্রীক দেবীর মূর্তি স্থাপন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ঈমান ও আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক। অবিলম্বে কওমী মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি অপসারণ করতে হবে।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম অঞ্চল দক্ষিণ আয়োজিত সদস্য শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণ শাখার সভাপতি আব্দুল জব্বারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মোতাছিম বিল্লাহ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলনে।
শিবির সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে বহুকাল ধরে হাজার হাজার কওমী মাদরাসা দ্বিনি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত তাদেরকে সরকারী স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ন্যায্য স্বীকৃতির জন্য কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থী ও আলেমগণ সীমাহীন পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম শীর্ষ নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কওমী মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরকারী স্বীকৃতি প্রদানের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন এবং চারদলীয় জোট সরকার ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট প্রজ্ঞাপণ জারী করে কওমী মাদরাসাকে সরকারী স্বীকৃতি প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন তাদের বিদ্বেষ পূর্ণ আচরণের কারণে এই স্বীকৃতি আলোর মুখ দেখেনি। উপরন্তু, পুলিশি অভিযান, হয়রানী ও আলেম ওলামাদের গ্রেফতার করে তারা মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের চেষ্টা করেছে। কিন্তু কওমী মাদরাসার আলেমগন দাবি আদায়ে নিরলস পরিশ্রম অব্যাহত রেখেছিলেন। এই স্বীকৃতি সেই পরিশ্রমেরই ফসল। একই সাথে স্বীকৃতি বাস্তবায়ন পর্যন্ত সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা আশাকরি সরকার কওমী মাদরাসার স্বকীয়তা অক্ষুণœ রেখে দ্রুত এই স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, সর্বোচ্চ বিচারাঙ্গণে গ্রীক দেবীর মূর্তি স্থাপন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ঈমান ও আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক। মূর্তি স্থাপনের পর থেকেই দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ওলামা, ইসলামী সংগঠন ও রাজনৈতিক দল তা অপসারণের দবি করে আসছে। তীব্র দাবির মুখে গত ১১ ডিসেম্বর দেশের শীর্ষ আলেম ওলামাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মূর্তি অপসারণের আশ্বাস দেন। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায় সরকার মূর্তি না সরিয়ে চতুরতার আশ্রয় নিতে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন সূত্র বলছে, মূর্তি না সরিয়ে তা নামাযের সময় কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হবে। আমরা হুশিয়ার করে বলতে চাই আলেম সমাজের কাছে কৃত ওয়াদা বাস্তবায়ন নিয়ে কোন টালবাহানা জনগণ মানবে না। আগামী রমজান মাসের আগেই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি অপসারণ করতে হবে।
তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, অতীতে আওয়ামীলীগ ও তার শরীক দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা বহুবার কওমী মাদরাসাকে জঙ্গিবাদের কারখানা বলেছেন। মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে হেয় করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছেন। জনগণের কাছে কওমী মাদরাসাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দেশবাসী তা গ্রহণ করেনি। আমরা মনে করি কওমী মাদরাসা নিয়ে জনগণের মতামতের ব্যপারে সরকারের বোধদয় হয়েছে। সুতরাং আমরা আশা করি সরকার এই স্বীকৃতির দ্রুত বাস্তবায়ন করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিবেন। একই সাথে সতর্ক করে বলতে চাই, এই স্বীকৃতির বাস্তবায়ন ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি অপসারণ নিয়ে কোন রকম গড়িমসি বা অপরাজনীতি ছাত্রজনতা মেনে নিবে না। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ