ঢাকা, মঙ্গলবার 18 April 2017, ৫ বৈশাখ ১৪২৩, ২০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় মাদক মামলায় তিন ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন

খুলনা অফিস : খুলনায় মাদক মামলায় তিন মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ সাত জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
দুই মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঃ খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে দুইজন মাদক বিক্রেতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পাঁচহাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। গত রোববার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এসএম সোলায়মান এ রায় ঘোষণা করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার বহেরা গ্রামের মৃত সার উদ্দিনের ছেলে মো. কাওসার (৩২) ও খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার মৌখালি গ্রামের মোজাহার মোল্লার ছেলে মো. এনামুল মোল্লা (২১)। এ মামলার অপর আসামী সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার বহেরা গ্রামের মৃত সেলিমের স্ত্রী আম্বিয়াকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। রায় ঘোণণাকালে উভয় আসামী পলাতক রয়েছেন।
 বেঞ্চ সহকারী ছায়েদুল হক শাহিন জানান , ২০১১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে নগরীর গল্লামারি মোড় থেকে অভিযান চালিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশ ৭২ বোতল ফেন্সিডিলসহ কাওসার ও এনামুলক গ্রেফতার করে। এঘটনায় এসআই মো. আব্দুল হালিম বাদি হয়ে ৪জনের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন (নং ৩১)। ওই বছরের ২৪ নবেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আমিরুল ইসলাম আদালতে ৩জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এ মামলার অপর আসামী নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার শাহিনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়। মামলায় রাষ্ট্রপরে কৌশুলী ছিলেন বিশেষ পিপি আরিফ মাহমুদ লিটন ও এপিপ মো. আকতারুজ্জামান।
নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঃ মাদক ব্যবসার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হেমায়েত হাওলাদার (১৮) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। গত রোববার খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এস এম আবদুস ছালাম এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৬মার্চ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দৌলতপুর থানাধীন নতুন রাস্তার মোড় এলাকায় অভিযান চালায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর সদস্যরা। সেখান থেকে ৩০বোতল ফেন্সিডিলসহ ফুলবাড়িগেট পুরাতন মাইল পোষ্ট এলাকার শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে হেমায়েত হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়। এঘটনায় অধিদপ্তরের পরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার শিকদার বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় ওই দিনই মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. ফারুক সুলতান একই বছরের ৬এপ্রিল হেমায়েতকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন বিশেষ পিপি এডভোকেট ফরিদ আহমেদ।
তিনজনের কারাদণ্ড ঃ নগরীর খালিশপুর থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের পৃথক মামলায় ৩জনের জেল-জরিমানা করেছে আদালত। রোববার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীদুল ইসলাম পৃথকভাবে এ রায় ঘোষণা করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, খালিশপুর দুর্বার সংঘ ক্লাবের পাশের বাসিন্দা মো. নান্নুর ছেলে মো. নয়ন (২৩), নয়াবাটি এলাকার ইকরাম খানের ছেলে মো. রু-ল আমিন (২০) ও খালিশপুর আনসার উদ্দিন সড়কের মৃত মইন মোল্লার ছেলে মো. মোদাচ্ছের মোল্লা (৪৫)। নয়ন ও রু-লকে ১বছর কারাদ- ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর ১০ পিচ ইয়াবাসহ খালিশপুর ফিরোজ স্মৃতি সংঘ ক্লাবের সামনে থেকে মো. নয়ন ও মো. রু-ল আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এঘটনায় এসআই জেল্লাল হোসনে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কাদের আহমেদ একই বছরের ৫ নবেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
অপরদিকে ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর মুজগুন্নী এলাকা থেকে ৭পিচ ইয়াবাসহ মো. মোদাচ্ছের মোল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এঘটনায় এসআই মো. আনোয়ার হোসেন বাদি হয়ে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ ২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মোদাচ্ছেরকে ২বছর কারাদণ্ড ৩হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৭দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
এক জনের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড : মাদক বিক্রির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় পৃথক দু’টি ধারায় ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ এর ১৯ (১) টেবিলের ১ (ক) ধারায় ৭বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৯ (১) টেবিলের ৯ (খ) ধারায় আরো ৭বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি উভয় ধারার দণ্ড একের পর এক কার্যকর হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী হলেন যশোর জেলার বেনাপোল পোর্ট থানার সাদিপুর বড়আঁচড়া গ্রামের মৃত কবির হোসেনের স্ত্রী রুবিনা বেগম ওরফে ঝর্না (৪০)। দ-প্রাপ্ত রুবিনা বেগম পলাতক রয়েছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৪ নবেম্বর বিকেল ৪টার দিকে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকা থেকে ঝর্না বেগমের দেহ তাল্লাশি করে একশ’ পিস ইয়াবা ও ১০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় অধিদপ্তরের এসআই নিরঞ্জন কুমার সিকদার বাদি হয়ে ঝর্নার বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ২৯ নবেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম ঝর্নার কিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি এডভোকেট সুলতানা রহমান শিল্পী ও এপিপি এডভোকেট মো. কামরুল হোসেন জোয়ার্দ্দার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ