ঢাকা, বুধবার 19 April 2017, ৬ বৈশাখ ১৪২৩, ২১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বেপরোয়া পরিবহণ মালিকরা ৪০ ভাগ গাড়ি রাস্তায় নামেনি

স্টাফ রিপোর্টার : সিটিং সার্ভিস ও গেটলক বন্ধের পর বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পরিবহণ মালিকরা। অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং পরিবহণ মালিকদের কৃত্রিম গাড়ি সংকটে সরকারের নমনীয়তায় যাত্রীদের ভোগান্তি সীমা ছাড়িয়েছে। পরিবহণ মালিকদের চাপে উল্টো পিছু হটতে যাচ্ছে সরকার। সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, রাস্তায় স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ি কম। গাড়ি মালিকরা প্রভাবশালী। অভিযান শুরু হলে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে তারা। 

গতকাল মঙ্গলবারও বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বাসের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কোথাও ৮০ শতাংশ আবার কোথাও ৬০ শতাংশ গণপরিবহণ রাস্তায় ছিল। যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য মতে এখনো নগরীতে ৪০ শতাংশ পরিবহণ রাস্তায় নামছে না। ফলে পরিবহণ সংকটে পড়ে যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছে। রাস্তায় পরিবহণ বের না করে রাজধানীর সায়েদাবাদ, কমলাপুর, খিলগাঁও, গাবতলী, মহাখালী সড়কের পাশে সারি সারি গাড়ি থেমে ছিল। এ কারণে গাবতলী, মিরপুর, উত্তরা, আবদুল্লাহপুরে সবচেয়ে বেশি সংকট ছিল পরিবহরে। আগে থেকে মালিকরা চালকদের বারণ করায় রাজধানীজুড়ে গণপরিবহণের সংকটে জরুরি দরকারেও অনেক যাত্রী হেঁটে গন্তব্যে যান। কারওয়ান বাজার, পল্টন, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন, বাংলামোটর, মানিক মিয়া এভিনিউসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় ফাঁকা। 

বিআরটিএর চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান কোনো পরিবহণ কোম্পানি তাদের গাড়ি বন্ধ রাখলে রুট পারমিট বাতিল করার হুশিয়ারি দিলেও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কোন পরিবহণের রুট পারমিট বাতিলের কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। গত সোমবার তিনি বলেছিলেন, তারা গাড়ির রুট পারমিট নিয়েছে যাত্রীদের সেবা দেয়ার জন্য। এখন যদি কেউ গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি সৃষ্টি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। তাদের রুট পারমিট বাতিল করা হবে।

সিটিং সার্ভিস-গেটলক বন্ধের তৃতীয়দিনে গতকাল মঙ্গলবারও যাত্রীরা হয়রানি আর ভোগান্তি থেকে রেহাই পাননি। লোকাল বাসেই ভাড়া গুণেছেন সিটিং সার্ভিসের। আগের দিনের মতো রাস্তায় গাড়ি চলাচল ছিল কম। 

গণপরিবহণ সংকট সমাধান ও যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে গত তিনদিনেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরা। দুর্ভোগের শিকার যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, সিটিং সার্ভিস বন্ধ করার আগে সরকারের উচিত ছিল রাস্তায় বিকল্প গাড়ি নামানো। কারণ বিভিন্ন রুটের নিয়মিত গাড়িগুলোও প্রথম দিনের মতো গতকালও রাস্তায় নামেনি। বাস সংকট ছিল। আর যেসব গাড়ি নেমেছে, তাদের চালক ও হেলপাররাও যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। স্টপেজে ঠিকমতো গাড়ি দাঁড় করাচ্ছেন না। চলন্ত অবস্থায় যাত্রী তুলছেন। ভাড়া আদায় করছে আগের মতোই।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি অভিযোগ করেছে নগরীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধে সরকারি অভিযানের মধ্যে মিরপুর রুটে অধিকাংশ বাসে মাস্তান প্রকৃতির লোক রেখে যাত্রী শায়েস্তা চলছে। মিরপুর রুটে অধিকাংশ বাসে মাস্তান প্রকৃতির তিন-চারজন করে লোক দেখা গেছে। বাড়তি ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুললে যাত্রীদের অপদস্থ করেছে পরিবহণ শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল আহসান মজুমদার জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পাঁচটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ১৪০টি মামলা করা হয়েছে। ৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

গাড়ির মালিকরা অনেক প্রভাবশালী : ওবায়দুল কাদের

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গাড়ির মালিকরা সামান্য লোক নয়। এরা অনেক প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযানে নামলেই তারা গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে। তবে এ ভোগান্তি দূর করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রী তার দফতরের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

মন্ত্রী আরও জানান, চেয়ারম্যান মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। মালিকদের সঙ্গে বসে তিনি টোটাল (পুরো) বিষয়টি আবার রিভিউ (পর্যালোচনা) করে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এতে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরাও থাকবেন।

তিনি বলেন, পরিবহণ মালিকরা অনেক প্রভাবশালী। গাড়ি না নামালে দেশের বাস্তবতা অনুযায়ী চাইলেই তাদের বিরুদ্ধে কী কিছু করা যায়? তারা সংখ্যায় অনেক। বাস্তবতার নিরিখে চাইলেই ব্যবস্থা নেয়া যায় না। চালক-মালিকরা যখন অন্যায় করেন তখন সরকার ব্যবস্থা নিলে এর ফলে তারা রাস্তায় গাড়ি নামান না। তখন জনদুর্ভোগের পুরো দায়ভারটা মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে চাপে।

সরকার কি গণপরিবহনে নৈরাজ্য ঠেকাতে ব্যর্থ? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, সফলতা-ব্যর্থতা দুটোই তো আছে। নৈরাজ্য ঠেকাতে ব্যবস্থা না নিলে আপনারা (সাংবাদিকরা) লেখেন, সরকার নৈরাজ্য ঠেকাতে ব্যর্থ।’ আবার নৈরাজ্য ঠেকাতে রুট পারমিট বাতিল করতে গেলে মালিকরা একজোট হয়ে বাস নামায় না। তখন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। তখন আপনারা এর জন্য সরকারকে দোষারোপ করে লেখেন।

পরিবহণ মালিকরা ফের সিটিং সার্ভিস চালুর পাঁয়তারা করছে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেই বোঝা যাবে। তারা কী চায়, সেটি জানা যাবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা ফিটনেসের কথা বলেন, তারাই আবার অন্যায়ভাবে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালান। এসবের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিলে তারাই গাড়ি বন্ধ করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেন।

মন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, গাড়ি মালিকদের ডাকলেও তারা প্রাথমিকভাবে আসেন না, অনেক পরে আসেন। এর সঙ্গে অনেক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে।

তবে আগের চেয়ে পরিস্থিতি অনেক ভালো বলে মত দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, গতকালের (সোমবার) তুলনায় আজ রাস্তায় গাড়ি বেড়েছে। তবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম।

মাস্তান দিয়ে যাত্রী শায়েস্তা চলছে

শহরে সিটিং সার্ভিস বন্ধে সরকারি অভিযানের মধ্যে মিরপুর রুটে অধিকাংশ বাসে মাস্তান প্রকৃতির লোক রেখে যাত্রী শায়েস্তা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বাড়তি ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুললে যাত্রীদের অপদস্থ করা হচ্ছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গতকাল মঙ্গলবার বেলা একটায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজ্জাম্মেল হক চৌধুরী। সিটিং সার্ভিস নৈরাজ্য বন্ধ করার পর যাত্রী-ভোগান্তি পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি এমন অভিযোগ করেন। 

লিখিত বক্তব্যে মো. মোজ্জাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গত দুই দিনে নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যানবাহনের প্রায় ৪০ শতাংশ রাস্তায় নামানো হয়নি। বাসে চলতে গিয়ে নারী, শিশু ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকেরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি বলেন, বাসে সরকারি ভাড়ার তালিকা দেখতে চাওয়ায় বা তালিকা অনুযায়ী ভাড়া দিতে চাওয়ায় অনেক যাত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এমনকি হাত তোলার মতো ঘটনা ঘটছে। যাত্রী বাড়তি ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুললে তেড়ে এসে নানাভাবে অপদস্থ করা হচ্ছে। মিরপুর রুটে অধিকাংশ বাসে মাস্তান প্রকৃতির তিন-চারজন করে লোক রাখার দৃশ্য দেখা গেছে।

মো.মোজ্জাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সিটিং সার্ভিস বন্ধের নামে অঘোষিত পরিবহণ ধর্মঘট চলছে। এ ধর্মঘটে যেসব বাস জড়িত, তাদের রুট পারমিট বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একদিকে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই, অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাপা উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। নগরীতে যাত্রী-ভোগান্তি কমাতে জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দুর্ভোগ হতে পারে, এটা মনে রেখে ভালো কিছু পাওয়ার জন্য এই দুর্ভোগ মেনে নিতে হবে। মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আমরা অসহিষ্ণু হলে অভিযান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এ রকম উদ্যোগ এর আগে অনেকবার নেয়া হয়েছিল, মাঝেমধ্যে হয়। পরে বাস্তবায়িত আর হয় না। ফলে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হয়। মানুষ মনে করে, কয়েক দিন পরেই ঠিক হবে। সরকারের প্রতি অনুরোধ, এ অভিযানের উদ্যোগ যেন অব্যাহত থাকে। যেসব বাস রাস্তায় নামছে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

সিটিং সার্ভিস বন্ধের অভিযানের নামে ‘ইঁদুর-বেড়াল খেলা’ চলছে বলে মন্তব্য করে সাংবাদিক আবু সাইদ খান বলেন, অভিযান শুরু হলে বাসগুলো লুকিয়ে রাখা হয়, রাস্তায় নামে না। ফলে দুর্ভোগ বাড়ে যাত্রীদের। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

নৈরাজ্য বন্ধের দাবি জাতীয় কমিটির

সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে রাজধানীজুড়ে সৃষ্ট নৈরাজ্য ও জনভোগান্তি অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান এবং সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে এ দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির পরামর্শে এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত রোববার থেকে সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু পূর্বঘোষিত এ অভিযান শুরুর দিন সকাল থেকেই রাজধানীর সড়ক পরিবহণ খাতে দেখা দেয় চরম বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও জনদুর্ভোগ।

কমিটির নেতার অভিযোগ, এক শ্রেণির মালিক-শ্রমিকের খামখেয়ালিপনায় গত তিনদিন ধরে রাজধানীতে প্রায় ৪০ শতাংশ বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বিদ্যমান গণপরিবহণ সংকট আরও বেড়েছে। অন্যদিকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ হওয়ায় চলাচলরত বাস-মিনিবাসগুলোতে নির্ধারিত আসনের দ্বিগুণ যাত্রী বহন করছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলমান অভিযানের কারণে সিটিং সার্ভিসগুলো ইতোমধ্যে লোকাল সার্ভিস হয়ে গেছে। এসব বাস-মিনিবাসে প্রতিটি স্টপেজ থেকে যাত্রী ওঠা-নামা করলেও আগের সিটিং সার্ভিসের ভাড়াই নেয়া হচ্ছে। 

 মোটরযান চলাচল অধ্যাদেশে ইচ্ছাকৃতভাবে গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ রাখলে রুট পারমিট বাতিলসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। অথচ যেসব মালিক যানবাহন বন্ধ রেখে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বিআরটিএ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ