ঢাকা, বুধবার 19 April 2017, ৬ বৈশাখ ১৪২৩, ২১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঐতিহাসিক জয়ে এরদোগানকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের অভিনন্দন

১৮ এপ্রিল, বিবিসি/আল আরাবিয়া : গণভোটে জয়ী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র।
গত রোববারের ওই গণভোটে জিতে এরদোগান ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছেন।
গণভোটে ৫১ দশমিক চার শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন এরদোগান। জনতার এ রায়ের মাধ্যমে তুরস্ক পার্লামেন্ট শাসিত রাষ্ট্র থেকে প্রেসিডেন্ট শাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
ইউইউ তাদের মনোভাবের বিপরীতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরদোগানকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েই এরদোগানকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প। মূলত সিরিয়ার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসাই এই ফোনের উদ্দেশ্য।
কিন্তু তারপরও প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মূলত ইউরোপীয় নেতাদের ছেড়ে কাতার, গিনি, জিবুতি ও ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দল হামাসের কাতারে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন।
ট্রাম্পের ফোনে এরদোগানের সমর্থকরা উচ্ছ্বসিত হবেন। এর মাধ্যমে তাদের নেতার জয় বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্রের অনুমোদন পেল বলেই মনে করবেন তারা। অপরদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের হুঁশিয়ারি ও এরদোগান কর্তৃক পশ্চিমা সমালোচকদের তিরস্কারের পরও ট্রাম্পের এ অভিনন্দনে হতাশ হবেন এরদোগান বিরোধীরা; আর এটি তুরস্কের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভাজনকেই আরো স্পষ্ট করে তুললো।
এই ফোন কলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট এরদোগানের মধ্যকার মিলগুলোও ফের স্পষ্ট হয়ে উঠলো। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন সিরিয়ায় আইএসের সঙ্গে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কুর্দি যোদ্ধাদের সমর্থন দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ তুরস্ক। তবে তুরস্কের ব্যর্থ গণঅভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ভূমিকা নিয়ে নেটোভুক্ত দেশদুটির সম্পর্কে গভীর তিক্ততা সৃষ্টি হয়।
ধারণা করা হচ্ছে এসব তিক্ততাকে পাশ কাটাতেই এরদোগানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প। কারণ সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থানের পক্ষে তুরস্ককে পাশে পাওয়া দরকার তার।
এদিকে তুরস্কে তৃতীয়বারের মতো জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানোর গণভোটে জয়ের একদিন পরই আসলো আবারও জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা।
গত সোমবার আঙ্কারায় উপ-প্রধানমন্ত্রী নুমান কুরতুলমুস সাংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দু’দিন পর জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। 
দেশটির প্রধান দুই বিরোধী দল গণভোটে তাদের পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপল’স পার্টি (সিএইচপি) এই ফলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা ৬০ শতাংশ ভোটের পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছে।
গণভোট জয়ের একদিন পরই আসলো জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা। গত বছর জুলাইয়ে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পর থেকে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এর মেয়াদ বাড়ানো হলো।
উল্লেখ্য, গত বছর ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার নেওয়ার দাবি করে, যা দেশটির টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করে দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে’ সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের ক্ষমতা দখল করেছে। টেলিভিশনের পর্দায় পড়ে শোনানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এখন ‘শান্তি পরিষদ’ দেশ চালাবে এবং কারফিউ ও সামরিক আইন জারি থাকবে। একই সঙ্গে তুরস্কের বিদ্যমান বৈদেশিক সব সম্পর্ক বহাল থাকবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রাধান্য পাবে। কারফিউর বিরোধিতা করে এরদোগানের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর সব অংশের সমর্থন না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতায় জনগণ রাস্তায় নেমে এলে বিদ্রোহী সেনাদের উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
এখন পর্যন্ত অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষকে কারাবন্দি করা হয়েছে। এক লাখেরও বেশি সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত ও বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনা, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাসহ বেসামরিক প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সাংবাদিকও রয়েছেন। অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমের অন্তত ১৫০টি সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর।
এদিকে গণভোটে বিজয়ী হওয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানকে অভিনন্দন জানিয়েছে সৌদি আরব।
মন্ত্রিপরিষদের সাপ্তাহিক  বৈঠকে গত সোমবার এরদোগানের নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ এরদোগান ও তার দেশের জনগণকে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে রায় দেয়ায় অভিনন্দন জানায়।
 সৌদি সরকার আশা করে, এ রায়ের মাধ্যমে তুরস্ক উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যাবে। পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়ে তুর্কি জাতি এক নতুন স্তম্ভে পা রাখল।
এর আগে গণভোটে বিজয়ের পর সোমবার এরদোগানকে ফোন করে অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংবিধান সংশোধনে তুরস্কের ৫১ ভাগের বেশি জনগণ 'হ্যাঁ' ভোট দেন। আর 'না' ভোট পড়ে ৪৯ শতাংশ নাগরিক। ১৬ এপ্রিল এই গণভোটের মাধ্যমে তুরস্ক সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে কার্যত প্রেসিডেন্সিয়াল শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ