ঢাকা, বুধবার 19 April 2017, ৬ বৈশাখ ১৪২৩, ২১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গত দেড় বছর খুলনার সরকারি আইনজীবীরা বেতন-ভাতা পাননা!

খুলনা অফিস: খুলনায় আদালতে কর্তব্যরত সরকারি আইনজীবীদের (পাবলিক প্রসিকিউটর) প্রায় দেড় বছরের  বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া তাদের পারিশ্রমিক হিসেবে যে অনারিয়াম দেয়া হয় তা কাজের তুলনায় খুবই সীমিত। প্রতিদিন সরকারের পক্ষ হয়ে পিপি, এডিশনাল পিপি, বিশেষ পিপি, স্পেশাল পিপি, জিপি, এডিশনাল জিপি ও এপিপিদের প্রচুর পরিমাণ মামলা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। তবে সে তুলনায় তাদের বেতন-ভাতা কম, তাও আবার দেড় বছরের মতো বাকি থাকায় সংক্ষুব্ধ অনেকে।
সূত্রে জানা যায়, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে আদালতে বিচারাধীন মামলার কার্যক্রমে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীর সংখ্যা ১৩৭ জন। এদের মধ্যে খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি একজন, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি একজন, জিপি একজন, খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি একজন, জন নিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বিশেষ পিপি একজন, বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রইব্যুনালে বিশেষ পিপি একজন, বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে স্পেশাল পিপি একজন, এডিশনাল পিপি ১৩ জন, এপিপি ৯৬ জন ও এডিশনালসহ এজিপি ২০ জন রয়েছেন।
আদালত খোলা থাকলে এদের মধ্যে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)’র প্রতিদিনের বেতন-ভাতা (অনারিয়াম) ৫০০ টাকা, বিশেষ পিপি ও এডিশনাল পিপিদের ৫০০ টাকা, এপিপিদের ২০০ টাকা, জিপি, এডিশনাল জিপিদের মাসে তিন হাজার টাকা ও এজিপিদের মাসে সাড়ে সাতশ’ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। বেতন-ভাতা উত্তোলনের সময় এ টাকা থেকে সরকারি ভ্যাট ও উৎসেকর বাবদ ১৫ শতাংশ  কর্তন করে রাখা হয়।
খুলনা আদালতে কর্মরত একাধিক এডিশনাল পিপি, এপিপি, এজিপি’র সাথে আলাপকালে জানা যায়, মাসের মধ্যে শুক্রবার ও শনিবার দিয়ে আটদিন সরকারি ছুটি রয়েছে। এছাড়াও বিশেষ দিনের দুই একদিন সরকারি ছুটি থাকে। গড়ে প্রতি মাসে ১৮ থেকে ২০ দিন কর্মদিবস পাওয়া যায়। ওই কর্ম দিবসগুলোতে সরকারের পক্ষে যে পরিমাণ মামলা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয় তার তুলনায় বেতন-ভাতা একেবারে অপ্রতুল। তারা জানান, আমাদের পারিশ্রমিক খুবই কম, তার ওপরে আবার দেড় বছরের মতো (প্রায় ১৫ মাস)’র টাকা বকেয়া রয়েছে। 
খুলনা জেলা প্রশাসনের জেএম শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনার পিপি, বিশেষ পিপি, জিপি, এডিশনাল পিপি, এপিপি ও এজিপিদের চলতি মাসে একটি করে চেক দেয়া হচ্ছে।  তবে এটি ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা। 
খুলনার জিপি বিজন কৃষ্ণ মন্ডল জানান, আমাদের দাবি ছিলো ঢাকার মতো আমাদের মাসিক বেতন করে দেয়া হোক। কিন্তু এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। ঢাকায় কর্মকর্তাদের মাসে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। আর আমরা মফস্বলে কঠোর দায়িত্ব পালন করেও বৈষ্যম্যের শিকার হচ্ছি।
খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি কাজী আবু শাহীন বলেন, প্রতিদিন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। প্রচুর পরিমানে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে আইনী লড়াইয়ে অংশ নিতে হয় সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত কৌঁসুলিদের। তবে সেই তুলনায় বেতন-ভাতা বা অনারিয়াম যাই বলেন খুবই অপ্রতুল। তাছাড়া বকেয়া রয়েছে অনেক মাসের অনারিয়াম। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ