ঢাকা, বুধবার 19 April 2017, ৬ বৈশাখ ১৪২৩, ২১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কপিলমুনিতে বাঁশ ও বেতশিল্প বিলুপ্তির পথে : কারিগররা পেশা বদলাচ্ছেন

খুলনা অফিস: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকা থেকে বাঁশ ও বেতশিল্প প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে। পরিবেশ বিপর্যয় তথা উপকূলীয় এলাকায় ঘুর্ণিঝড় আইলা, সিডর, নার্গিস ইত্যাদির কারণে এলাকাসমূহ প্লাবিত হওয়ায় লোনা পানির প্রভাব, বাঁশ ও বেত চাষে প্রয়োজনীয় পুঁজি ও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে বিলুপ্ত হতে বসেছে এই শিল্প। অন্যদিকে দেশীয় প্লাস্টিকের বাজার জমজমাট হওয়ায় এ পেশায় নিয়োজিতরা বর্তমান বাজারে প্লাষ্টিক পণ্য ও অন্যান্য দ্রব্যের সাথে পাল্লা দিতে না পারায় তাদের কার্যক্রম মুখথুবড়ে পড়ছে। যার কারণে গ্রাম থেকে হারিয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ সব শিল্প। এলাকাটিতে বাঁশ শিল্পের কারিগরদের ভাগ্যে নেমে এসেছে দুর্দিন। অনেকে তাদের পূর্ব পুরুষের পেশাকে আকড়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেও হিমশিম খেতে হচ্ছেন।
তথ্যানুন্ধানে জানা যায়, এক সময় পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে বাঁশের তৈরি সামগ্রীর কদর ছিল খুব বেশী। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন তা আর বিশেষ চোখে পড়ে না। অপ্রতুল ব্যবহার আর বাঁশের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাঁশ ও বেত শিল্পীরা তাদের বাপ-দাদার পেশাকে ছেড়ে অন্যান্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। হাতে গোনা কয়েকজন শিল্পের কারিগররা নিরূপায় হয়ে ঐতিহ্যটাকে আঁকড়ে ধরে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক সময় বাঁশের তৈরি কুলা, খাঁচা, চালনী, চাটাই, ডোল, ডালা খাদি, ঝুড়ি, পলো, চেয়ার, পাখা, টোপা প্রভৃতি বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হতো। এলাকার গ্রামগুলোতে এ সব শিল্পের চাহিদা ছিল অনেক বেশি, যার চাহিদা পূরণের সক্ষম ছিল এ শিল্পে নিয়োজিতরা। কিন্ত বিগত কয়েক বছর ধরে এ শিল্পে  অবস্থা অত্যন্ত। এ পেশায় দক্ষ শিল্পীদের পরিবারে দেখা দিয়েছে চরম দুরাবস্থ। যার ফলে কুটির শিল্পের উপর নির্ভরশীল পরিবারে চলছে দুর্দিন। বেকার হয়ে অনেকেই মানবেতার জীবন যাপন করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ