ঢাকা, বুধবার 19 April 2017, ৬ বৈশাখ ১৪২৩, ২১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মমতার দৃষ্টি শহরের দিকেই গ্রামগুলোতে উন্নতি অধরা

রাজ্যশ্রী বকসী, কলকাতা : ভোট আসে ভোট যায়, উন্নতি হয় না গ্রামগুলোর। এমনি এক গ্রাম  মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি থানার হিরলা গ্রাম বছরের পর বছর অদ্ভূত রকমের অনিয়ম চলে আসছে এখানে।
স্থানীয় মানুষের অভিযোগ সেখানকার নদীর উপর কালভার্ট দিয়ে তৈরি রাস্তায় পায়ে হেঁটে পার হতে গেলেও টাকা দিতে হয়। অথচ শুকনো নদী, প্রসাশনের সেদিকে কোন নজরই নেই। অবশ্য প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি বলে জানান গ্রামবাসী।
হিরলা গ্রামের মধ্যে রয়েছে ‘পাগলা’ নদী। সারা বছরের মধ্যে তিনমাস জল থাকে। বাকি সময় শুকনো নদী। যাতায়াতের জন্য নদীর উপরে কালভার্ট বসিয়ে রাস্তা করা হয়েছে। বাইকে করে সেই রাস্তা পার হতে লাগে দশ টাকা। সাইকেলে গেলে লাগে পাঁচ টাকা। আর হেঁটে পার হতে লাগে তিন টাকা। এমনকি গ্রামের রাখালদের মাস প্রতি ১০০ টাকা করেও দিতে হয়।
স্থানীয় সুতি থানার বংশবাটি থেকে পাড়াইপুর পর্যন্ত রাস্তাটি প্রায় ৩৩ কিলোমিটারের। এটি বীরভূম জেলার মুরারই থানা থেকে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে আসার অন্যতম সহজ পথ।
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় এই রাস্তাটির শিলান্যাস করেন। ৩৩ কিলোমিটারের মাঝে তিনটি সেতুর প্রয়োজন ছিল। প্রথম দুটি সম্পূর্ণ হয়ে গেলেও হিরলা গ্রামের সৈতুটি এখনও তৈরি হয়নি। আর সেই সুযোগে ফেরিঘাট ডাকের নাম করে টাকা তোলা হচ্ছে।
কিন্তু জল না থাকলে ফেরি কোথায়? তাহলে কেন টাকা দিতে হবে? হিরলা ও তার পাশের গ্রাম রাতুরি, আলুয়ানি, নয়াগ্রাম, হাডুয়া সহ এলাকার ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। কারও ছাড় নেই।
স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষায় খেয়া পারাপার হওয়ার জন্য টাকা লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু বছরের অন্য সময় নদী শুকনো। পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায়। তখন কেন পয়সা দিতে হবে?
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী প্রদীপ সাহা জানান, প্রতিদিন ভ্যান নিয়ে যাতায়াত করেন তিনি। তিনি বলেন, আমাকে প্রতিদিন ১০ টাকা পারাপার খরচ দিতে যেতে হয়। বন্যা হলে তো আরও বেশি। কখনও ২৫ টাকা তো কখনও ৩০ টাকা। সাবির শেখ ও জুলমত আলি নামে দুই স্থানীয়র অভিযোগ একই।
ফেরি ঘাটের ইজারদার জানান, জল থাকুক বা না থাকুক রাস্তা ব্যবহার করলেই ধার্য টাকা দিতেই হবে।এটাই এখানকার নিয়ম।
বিষয়টি নিয়ে বংশবাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান খুকি রাজবংশী বলেন, আমি খবর পেয়েছি। এখন আমি জানব ঘাটটি ডাক হয়েছে কি না? বিডিওকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
সুতি-১ ব্লকের জয়েন্ট বিডিও সুদীপ বসু বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু জানি না। খবর নিয়ে দেখছি।
এই ঘটনা ছাড়াও সেখানকার বিপুল মানুষের রয়েছে আরও একটি বড় সমস্যা। আজও এই গ্রামের বাসিন্দাদের জল আনতে হাঁটতে হয় কয়েক কিলোমিটার গরম পড়ার আগেই জলকষ্ট শুরু হয়ে যায় মুর্শিদাবাদের সুতি থানার এই গ্রামগুলিতে। গ্রামের পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তর থেকে একটি সাবমার্সিবল বসানো হলেও বর্তমানে তা অকেজো। তাই পানীয় জল সংগ্রহে গ্রামের বাসিন্দাদের যেতে হয় কয়েক কিলোমিটার দূরের মাঠে বসানো একটি ডিপটিউবওয়েলে। যদিও বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান।
মুর্শিদাবাদের সুতি থানার এই গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামগুলোতে বাস করে প্রায় পনেরো হাজার মানুষ। গ্রামবাসীদের জল আনতে হয় কয়েক কিলোমিটার দূরের মাঠের মাঝে ডিপটিউবওয়েল থেকে। বারবার অফিসে জানিয়েও কোনও লাভ হয় না।পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি।
গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান খুকি রাজবংশী বলেন, “গ্রামে কল নেই আমি জানতাম না। কয়েকদিন আগে জানতে পেরেছি। ব্যবস্থা নেব।”আরও এক আধিকারিক জানালেন, ‘আমি দু’মাস হল এখানে এসেছি। খোঁজ নিয়ে দেখব কী সমস্যা হয়েছে। আমাদের কোনও ফল্ট নেই। ইলেকট্রিক ঠিক হয়ে গেলে আবার সাপ্লাই হবে।”
ভোটের সময় সমস্ত দলের নেতানেত্রীরা প্রায় প্রত্যেকদিন ঘোরে এই গ্রামগুলোতে। কত আশা, কত স্বপ্ন দেখিয়ে ভোট আদায় করে দলগুলো। কিন্তু যেই ভোটে একবার জিতে গেলেই ব্যাস-পাঁচ বছরের জন্য বাবুদের আর টিকিটিও দেখা যায় না। এমনই নানা অভিযোগ স্থানীয়দের গলায়। আখেরে কিন্তু লোকশান সেই গরীব মানুষগুলোরই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ