ঢাকা, বুধবার 19 April 2017, ৬ বৈশাখ ১৪২৩, ২১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হাওরের কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখেও সরকার নির্বিকার -দুদু

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, হাওরের কৃষকদের দুঃখ -দুর্দশা দেখেও সরকার এখনও নির্বিকার রয়েছে। হাওরের কৃষকদের মতো প্রধানমন্ত্রীর  স্বপ্নও একদিন ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে।
 গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি এ এম মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন মাস্টার, আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমত উল্লাহ, বিএনপি নেতা কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, মিয়া মো:আনোয়ার প্রমুখ।
 শামসুজ্জামান দুদু বলেন, হাওর অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখেও সরকার নির্বিকার। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর করেন কি করে? আপনি প্রধানমন্ত্রী ভারত, ভুটান সফরে যেতে পারেন অথচ হাওর অঞ্চলে যেতে পারেন না। যে কৃষকরা এ দেশের প্রাণ তাদের পাশে দাঁড়ান না। তিনি আরও বলেন, এই হাওর অঞ্চলের কৃষকদের স্বপ্ন যেমন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে তেমনিভাবে আপনার অবৈধ ক্ষমতাও একদিন গণমানুষের চাপে গণবিস্ফোরণের মাধ্যমে ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবার আগেই হাওর অঞ্চলে দুর্গত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অথচ তিনি সেখানে যাননি। ভারত গিয়ে আজমীর শরীফ, দিল্লী যেতে পারেন হাওর অঞ্চলে যেতে পারেন না।
 দুদু বলেন, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দল হাওর অঞ্চলের কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়নি। আমাদের দলের মহাসচিব দুর্গত অঞ্চলগুলো সরেজমিনে দেখে এসে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। আমরা তার দাবির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি।
 হাওরাঞ্চলকে ‘দুর্গত এলাকা’  ঘোষণার দাবি জানিয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন বঞ্চিত এই হাওর এলাকার মানুষকে বছরে একটি বোরো ফসলের ওপর নির্ভর করেই চলতে হয়েছে। আর সড়ক যোগাযোগ নেই বললেই চলে গোটা হাওর এলাকায়। ফলে বর্ষাকালে নৌকা ও হেমন্ত মওসুমে হেঁটে তাদের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে হয়। ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে এবার মহা ধুমধামে  বৈশাখের উৎসব পালন করছি, তখন হাওর এলাকার ঘরে ঘরে বিরাজ করছে কৃষকের কান্না। তিস্তার পানির নায্য হিস্যা পাওয়ার ব্যাপারে যখন আমাদের কাকুতির শেষ নেই, তখন মমতা ব্যানার্জি বলছেন, তিস্তাচুক্তি হলেও পানি পাওয়া যাবে না, কারণ তিস্তায় পানি নেই। ঠিক তখন তিস্তার পানিই বেড়ে বাংলাদেশে  বৈশাখের আগেই প্রবেশ করে তলিয়ে দিয়েছে ক্ষেতের ফসল। উজানে বৃষ্টিপাত, ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ওপারে গজলডোবার বাঁধের সবগুলো গেট ভারত খুলে দেয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে আমাদের হাওর রক্ষাবাঁধগুলো নির্মাণে ঠিকাদারদের দুর্নীতির কারণে সময় মতো যথাযথভাবে নির্মিত হয়নি। ফলে এসব বাঁধ ভেঙে কিংবা বাঁধগুলো ডিঙিয়ে এবার সহজেই ঢলের পানি বোরো ফসলের ক্ষেতে ঢুকে পড়ে। আর এবার  চৈত্রমাসেই ফসলের ক্ষেতে পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ফসলই ছিল কাঁচা বা আধপাকা। বলা যায়, এবারের বন্যার ক্ষতিটা আর সব বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ