ঢাকা, বুধবার 19 April 2017, ৬ বৈশাখ ১৪২৩, ২১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চাটখিলে শালিস বৈঠকে সন্ত্রাসী হামলা ফাঁকা গুলী ছুঁড়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন

চাটখিল (নোয়াখালী) সংবাদদাতা : চাটখিল উপজেলার মুরাইম ইসলামপুর বাতা মার্কেটে শালিস বৈঠকে সন্ত্রাসী হামলা ফাঁকা গুলী ছুঁড়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ব্যাপারে চাটখিল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
থানার অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১১ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে ইসলামপুরের সাবেক মেম্বার ও উপজেলা দলিল লিখক সমিতির সভাপতি আবুল কালামের ছেলেদের সাথে পারিবারিক কলহের জের ধরে, ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, বর্তমান মেম্বার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শালিসে বসলে উভয় পক্ষের কথা কাটা-কাটির মধ্যে ইসলামপুর হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসার সভাপতি সালাহ উদ্দিন কাদের কথা বলতে চাইলে তাকে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলী করতে উদ্যত হয়, সন্ত্রাসী দের অস্ত্রের মোহড়া দেখে এলাকাবাসী সৌর চিৎকার শুরু করলে সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলী ছুঁড়তে ছুঁড়তে স্থান ত্যাগ করে চলে যায়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় ইসলামপুর মুরাইমের সাবেক মেম্বার ও দলিল লিখকের ছেলে আলমগীর হোসেন লিটন, ওয়াসিম রাব্বানী শিপন, তাদের স্ত্রীদের সাথে মা-সামছুন্নহারের দীর্ঘদিন ঝগড়া বিবাধ লেগেই আছে, তাই তারা গত ৬ মাস আগে পৃথক হয়ে আলাদা বসবাস করতে থাকে, কিন্তু বৃদ্ধ পিতা-মাতার কোন খোঁজ-খবর রাখেনা অপরদিকে মাতা-পিতাকে তারা বিভিন্ন স্থানে গালি-গালাজ ও মার-ধরের হুমকি দিতে থাকে এ-সমস্যা সমাধানের জন্যে গত ৫ এপ্রিল বুধবার শালিস বৈঠকের কথা ছিল, শালিস বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ছোট ছেলে শিপন ও তার স্ত্রী ঘরে ঢুকতে চাইলে তার মা শামছুন্নাহার বলেন যে সমস্যার সমাধান না করে তোমরা ঘরে আসিওনা।
 একথা বলার সাথে সাথে শামছুন্নাহারের ছেলে শিপন আপন মাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ ও বেদম মার-ধর করে, শিপনের স্ত্রী তানিয়া আক্তার পুষ্প, শাশুড়িকে হাই হিল জুতা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে বড় ছেলের মেয়ে এস.এস.সি পরিক্ষার্থী জেরিনা বাধা দিতে এগিয়ে এলে শিপন ও তার স্ত্রী জেরিনকেও মার-ধর করে, এতে জেরিনের হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে যায়, জেরিনের চিৎকারে তার মা পান্না এগিয়ে আসলে তাকেও মেরে মুখ হাত ও গলা থেতলে দেয়, এসব গঠনা লিটনের সামনে ঘটলেও লিটন বাধা দেয়নি, তবে লিটনের মায়ের কান্নার শব্দ পেয়ে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে শিপনকে জুতা পেটা করে। এ-সকল গঠনা নিয়েই ১১ এপ্রিল মঙ্গলবার ইউপি চেয়ারম্যান সোলায়মান শেখ এম.এ. স্থানীয় ইউপি মেম্বার শহিদ উল্যা, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও এলাকার গণ্য-মাণ্য ব্যক্তি বর্গের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠক বসে।  কিন্তু সাবেক মেম্বার, দলিল লিখক আবুল কালাম ও তার স্ত্রী শামছুন্নাহারের বিরুদ্ধে নিজের ওরসজাত সন্তানেরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে আসে, যাতে শালিস বন্ডুল হয়ে যায়।
এলাকার প্রবীন ব্যক্তিবর্গ বলেন কালামের ছেলেরা মা-বাবার গায়ে হাত তুলেছে যা অন্ধকার যুগকেও হার মানিয়েছে, লিটন-শিপনের বৃদ্ধ মা কান্নারত কন্ঠে এ প্রতিনিধিকে বলেন আমার গর্ভের সন্তানেরা আমাকে মার-পিট করে আহত করেছে, এর চেয়ে দুঃখের আর কিছুই হতে পারে না।
 এ-ব্যাপারে চাটখিল থানার অফিসার ইনসার্জ নাসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করিব। ইউপি চেয়ারম্যান সোলায়মান শেখের ফোনে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগ কেটে দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ