ঢাকা, বুধবার 19 April 2017, ৬ বৈশাখ ১৪২৩, ২১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নীলফামারীতে একাধিক বিদ্যালয়ে বাড়তি টাকা নেয়ার অভিযোগ

নীলফামারী সংবাদদাতা : নীলফামারীতে একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নানা অজুহাতে বাড়তি টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বরাবরের মত এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তার কার্যালয় উদাসীন। এ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিজ সন্তানের ভবিষতের কথা চিন্তা করে তারা নীরবে এ সকল অবৈধ কর্মকান্ড হজম করছেন। জানা যায়, জেলার ডোমার উপজেলার ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে চলতি শিক্ষা বর্ষে বিদ্যালয়ে দরিদ্র ও অতি-দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনা বেতন ও অর্ধ বেতনে পড়ার সুযোগ দেয়ার জন্য দরখাস্ত আহ্বান করে। স্কুল কতৃপক্ষ হাতে লেখা আবেদন না নিয়ে ১০ টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ফরম বিক্রি করেছেন। এছাড়া ওই বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষার্থীদের নিবন্ধন বাবদ দুই কপি ছবি ছাত্র বা অভিভাবকগন বিদ্যালয়ে জমা দিলে তা গ্রহন না করে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০ টাকার বিনিময়ে ২ কপি পিপি সাইজ ছবি বিদ্যালয় থেকে নেয়া বাধ্যতামুলক করেছেন। এ ছাড়া ওই বিদ্যালয়ে এসিটিবি অ-অনুমোদিত গাইড বই দিয়ে চালানো হচ্চে শিক্ষা কার্যক্রম।
 যারা বিনা বেতনে বা অর্ধ বেতনে পড়বেন তাদেরই আবার ১০ টাকার বিনিময়ে ফরম কিনতে হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ে ছবির ব্যবসাকে ঘিরে সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে উপজেলা শহরের ডোমার বালিকা বিদ্যা নিকেতনে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে কোন প্রকার উপ-কমিটি নেই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একাই সকল আর্থিক বিষয় দেখাশোনা করায় দিন দিন দুর্নীতি বেড়েই চলছে। বাজারে সিলেবাস ৭ টাকা হলেও বিদ্যালয় কতৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে ২০ টাকার বিনিময়ে সিলেবাস কেনা বাধ্যতামুলক করেছে। বিদ্যালয়ের ১১ শ ছাত্রীর কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড প্রদান বাবদ। বছরের ৪ মাস শেষ হলেও তা এখনো দেয়া হয়নি। গত বছরেও একই কায়দায় ৩০০ ছাত্রীর কাছ থেকে টাকা নেয়া হলেও সে আইডি কার্ড এখনো সরবরাহ করা হয়নি। তাই এ বছর সে ব্যাবস্থা কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত অনুপস্থিতির কারনে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। যা নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে একাধিকবার জানানো হলেও কোন ব্যাবস্থা নেয়া হয়না বলে অভিযোগে প্রকাশ। এ ছাড়া একই উপজেলার চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের মোতালেব হোসেন নামের এক অভিভাবক সদস্য একমি প্রকাশনী নামের একটি প্রকাশনীর গাইড বই দিয়ে পাঠদান করাতে নানাভাবে পায়তারা চালিয়ে আসছেন। কমিটির ওই সদস্য’র দাবী মেনে নেয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকগন নানাচাপের মধ্যে রয়েছেন। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে ওই বিদ্যালয়ের পাঠদান প্রক্রিয়া। এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা মাধ্যেমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাকেরিনা বেগম জানান, বিনা বেতন বা অর্ধ বেতনে পড়ার আবেদন ফরম বা সিলেবাস বিক্রি করে টাকা নেয়ার কোন বিধান নেই। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এভাবে নানা প্রক্রিয়ায় টাকা আদায় করাকে তিনি বে-আইনী বলে দাবী করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ