ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 April 2017, ৭ বৈশাখ ১৪২৩, ২২ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্ধারিত ভাড়ায় ফিরছে সিটিং সার্ভিস

রাজধানীতে বাস কম চলায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। ফার্মগেট থেকে তোলা ছবি -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীতে গণপরিবহনে সিটিং সার্ভিস-গেটলক বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। তিন দিনের মাথায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কৃর্তপক্ষ (বিআরটিএ) পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দিল। এ সময়ে বিআরটিএর ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও বাম্পার রাখার বিরুদ্ধে অভিযানও বন্ধ থাকবে। তবে সিটিং সার্ভিসে সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তা তদারকির জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে। সিটিং সার্ভিস বন্ধের পর রাজধানীর গণপরিবহন খাতে নৈরাজ দেখা দিয়েছিল। যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকরা লোকাল বাসেও সিটিং সার্ভিসের ভাড়া আদায় করে। যাত্রীদের দুর্ভোগে ফেলতে থেমে থেমে বাস থামানো এবং  মালিকপক্ষ রাস্তায় গাড়ি বের করা বন্ধ করে দেয়। এতে করে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। 

গত মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যে সিটিং সার্ভিস ফের চালুর আভাস মিলেছিল। তিনি বলেছিলেন গাড়ির মালিকরা সামান্য লোক নয়। এরা অনেক প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযানে নামলেই তারা গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে। তবে এ ভোগান্তি দূর করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি। মন্ত্রী তখনই জানান, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। মালিকদের সঙ্গে বসে তিনি টোটাল (পুরো) বিষয়টি আবার রিভিউ (পর্যালোচনা) করে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। 

রাজধানীর এলেনবাড়িতে গতকাল বুধবার বিকালে বিআরটিএ’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান বলেন, সিটিং সার্ভিস বন্ধ হওয়ার পর গত কয়েক দিনে সাধারণ মানুষকে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, সে কারণেই ১৫ দিনের জন্য সিটিং সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই ১৫ দিনের মধ্যে পরিবহন খাতে বিরাজমান পরিস্থিতি নিরসনে কী করা যায়, সে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মশিয়ার রহমান জানান, সিটিং সার্ভিস চললেও তাতে বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ভাড়ার ব্যাপারে আপস করবো না। সরকারি হিসাবে কিলোমিটার প্রতি যা ভাড়া আছে, তা নিতে হবে। 

যাত্রীরা যদি চায়, তাহলে সিটিং সার্ভিসকে একটি আইনি কাঠামোয় আনার পরিকল্পনা নেয়া হবে।

পরিবহন মালিকদের চাপে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম সীমিত বা স্থগিত করা হয়েছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে জনগণ। জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এজন্য আইন ভাঙা যাবে না। আইন মেনে ভাড়া আদায় করতে হবে।

যারা বিভিন্ন কারণে গাড়ি বন্ধ রেখে গণপরিবহনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে তাদের বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে মশিয়ার রহমান বলেন, যারা রাস্তায় যানবাহন নামায়নি আমরা তাদের অনেকের তালিকা তৈরি করেছি। এখনও তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৈঠকে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, নাঈমুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, সিটিং সার্ভিস চলাচলে আসলে কোনো নিয়ম-নীতি নেই। কিন্তু রাজধানীর কিছু নাগরিক এটিকে চায়। তাই এটিকে রাখা যেতে পারে। তবে এটা রাখার চলা একটি আইনি বৈধ কাঠামো দরকার।

গত ৪ এপ্রিল গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধের ঘোষণা  দেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ এপ্রিল থেকে আংশিক বন্ধ হয় কথিত সিটিং সার্ভিস। তবে লোকাল সার্ভিসেও ভাড়া নেয়া হচ্ছিল সিটিং সার্ভিসের মতোই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ