ঢাকা, শনিবার 22 July 2017, ৭ শ্রাবণ ১৪২8, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বার্সেলোনাকে বিদায় দিলো জুভেন্টাস

অনলাইন ডেস্ক : অসম্ভবের স্বপ্নকে এবার আর বাস্তবে রূপ দিতে পারলো না স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় লেগে ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের সাথে ড্র করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো বার্সা। কারণ এই জুভেন্টাসের কাছে এক সপ্তাহ আগে তুরিনে প্রথম লেগ ৩-০ গোলে হেরেছিলো মেসি-নেইমার-সুয়ারেজরা। দু’লেগ মিলিয়ে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠলো জুভেন্টাস। যেখানে আগেই নাম লিখিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও ফরাসি ক্লাব মোনাকো।

গেল মাসেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই’র (পিএসজি) মুখোমুখি হয়েছিলো বার্সেলোনা। প্রথম লেগে পিএসজির মাঠে ৪-০ গোলে হারে বার্সা। এতে শেষ ষোলো থেকেই ক্যাটালানদের বিদায় দেখে ফেলে ফুটবল বিশ্ব। কিন্তু নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় বার্সা। ন্যু’ক্যাম্পে ফিরতি লিগে পিএসজিকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ৬-৫ গোলে জয় নিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় বার্সেলোনা। 

এরপর শেষ আটের প্রথম লেগে জুভেন্টাসের কাছে ৩-০ গোলে হেরে আবারো সেমিফাইনালে উঠার পথ কঠিন করে ফেলে বার্সেলোনা। তবে বার্সাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলো পিএসজির ম্যাচটি। ৪-০ গোলে পিছিয়ে থেকে, ৬-১ গোলে যদি ম্যাচ জিততে পারে তবে জুভেন্টাসের বিপক্ষে কেন-নয়! সেমিতে জায়গা পেতে হলে, দ্বিতীয় ঠেগে অন্তত ৪ গোলের ব্যবধানে জুভেন্টাসকে হারাতে হতো বার্সেলোনাকে। 

তাই স্প্যানিশ দৈনিক পত্রিকা মার্কা দ্বিতীয় লেগে জুভেন্টাসের ম্যাচের আগে তাদের শিরোনাম করেছিলো- ‘আরও একবার অসম্ভবের স্বপ্নে বার্সেলোনা।’ 

অসম্ভবের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে গতরাতে ন্যু’ক্যাম্পের পরিবেশ উত্তেজিত করে তোলে বার্সেলোনা। মুহুর্মুহু আক্রমনে শুধুমাত্র বার্সার খেলোয়াড়রাই নয়, স্বপ্ন দেখছিলো স্বাগতিকদের পতাকায় ঢেকে যাওয়া পুরো গ্যালারির দর্শকরা। এতে কোনঠাসা হয়ে পড়ে জুভেন্টাসের রক্ষণদূর্গ। কোনঠাসা হয়ে পড়লেও, সাহস হারায়নি জুভেন্টাসের রক্ষন প্রহরি দানি আলভেস-জর্জো কিয়েলিনি অ্যালেক্স সান্দ্রো, লিওনার্দো বনুচ্চিরা। বার্সেলোনার মুহুর্মুহু আক্রমনগুলো নসাৎ করেছেন তারা। 

অবশ্য ম্যাচের শুরুতে গোলের দু’টি সুযোগ পেয়েছিলো জুভেন্টাস। কোনটিই কাজে লাগাতে পারেননি আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুইয়েন। তবে ১৫ মিনিটে প্রথম গোলের পথ তৈরি করেও, তাতে ব্যর্থ হন মিডফিল্ডার ইভান রাকিটিচ। এর দু’মিনিট পর আরও সহজ সুযোগ বেখেয়ালি মনে নষ্ট করেছেন লেফ-ব্যাক উইঙ্গার জর্ডি আলবা।

১৯ মিনিটে আবারো গোলের পথ তৈরি করেন দলের সেরা তারকা লিওনেল মেসি। এবার মেসি বল যোগান দিয়েছিলেন দলের আক্রমনভাগের ভরসা লুইস সুয়ারেজকে। এবার ব্যর্থতার তালিকায় নাম তুলেন তিনিও। দু’মিনিট এবার গোল করতে না পারার তকমা গায়ে মাখেন নেইমারও। তাতে ৬ মিনিটের মধ্যে চারটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে বার্সেলোনা। প্রতিপক্ষের এমন গোল মিসের ধারাবাহিকতায় সাহস খুঁজে পান জুভেন্টাসের রক্ষণদূর্গ। তাই চাপে পড়েও, দলের রক্ষণদূর্গ সামাল দেন আলভেস-কিয়েলিনি-সান্দ্রো-বনুচ্চিরা।

এরপরও গোলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে বার্সেলোনা। কিন্তু ভাগ্য তাদের পক্ষে কথা বলেনি। তাই ৩১ মিনিটে মেসি ও ৪৩ মিনিটে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি সুয়ারেজ। ফলে প্রথমার্ধ গোল শূণ্যভাবেই শেষ হয়। 

দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এনে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠে বার্সেলোনা। গোলের জন্য জুভেন্টাসকে আরও চাপে ফেলে দেয় তারা। কিন্তু কোনভাবেই জুভেন্টাসের জালে বলকে স্পর্শ করাতে পারছিলো না বার্সা। 

৫২ মিনিটের পর ৬৬ মিনিটে গোলের সবচেয়ে ভালো সুযোগটা হাতছাড়া করে বার্সেলোনা। সুয়ারেজের কাছ থেকে বল পেয়ে গোলবারে দুর্দান্ত এক শট নিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু সেটি বার ঘেষে চলে যায়। 

আর শেষ দিকে মধ্য মাঠের দখল নিয়ে বার্সেলোনার সীমানায় পাল্টা আক্রমণ চালায় জুভেন্টাস। কিন্তু এখানে সাফল্য পায়নি তারা। রক্ষণদূর্গের প্রহরিরা বার্সার আক্রমনগুলো ব্যর্থতায় রুপ দিতে পারলেও, আক্রমনভাগের খেলোয়াড়রা গোলের স্বাদ নিতে ব্যর্থ হন। তাতে শেষ পর্যন্ত গোল শূণ্যভাবেই শেষ হয় কোয়ার্টারফাইনালের দ্বিতীয় লেগ। তাই ২০০২-০৩ মৌসুমের মতই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারফাইনাল থেকে আবারো বার্সেলোনাকে বিদায় দিলো জুভেন্টাস। ঐ মৌসুমে আসরের প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র হলেও, দ্বিতীয় লেগ ২-১ গোলে জিতে সেমিতে উঠেছিলো জুভেন্টাস। 

এমন ড্র’তেও আনন্দে নেচে উঠেন জুভেন্টাসের কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি , ‘আনন্দের মাত্রাটা অনেক বেশি। যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। দলের খেলোয়াড়দের জন্যই আজ জুভেন্টাসের আনন্দ বহুগুন বেড়ে গেছে। মাঠে তাদের দুর্দান্ত পারফরমেন্স, বার্সেলোনাকে টপকে আমাদের সেমিফাইনালে নিতে যথেষ্ট ছিলো।’

দ্বিতীয় লেগের আত্মবিশ্বাসে টগবগেই ছিলেন বার্সেলোনার কোচ লুইস এনরিকে। তাই তো তিনি বলেছিলেন, ‘যেখানে পিএসজিকে ৬-১ গোলে হারাতে পারি, সেখানে জুভেন্টাসকে ৪-০ গোলে হারানো আমাদের জন্য আরও বেশি সহজ।’

কিন্তু ম্যাচ শেষে এনরিকের চোখে-মুখে ভর করেছিলো হতাশার পাহাড়। তাইতো ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুষড়ে পড়েছেন বহুবার, ‘এভাবে বিদায় আমাদের কল্পনাতেও ছিলো না। এ ম্যাচে ভাগ্য সহায় থাকলে আমরা উৎতে যেতে পারতাম, কিন্তু আমরা তা পারিনি। দোষ কাকে দেবো বা ভুল কি ছিলো, তা এখনও বুঝতে পারছি না।’

দোষ-ভুল যাই থাকুক না কেন, আগামী রোববার আবারো বড় পরীক্ষায় নামতে হচ্ছে বার্সেলোনাকে। লা-লীগায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল’ক্ল্যাসিকো খেলবে বার্সা। ৩১ খেলায় ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রিয়াল। আর এক ম্যাচ বেশি খেলে ৭২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে বার্সেলোনা। এ ম্যাচে জয় না পেলে, লা-লীগার শিরোপা থেকে বঞ্চিত হবার পথে এক পা দিয়ে রাখবে বার্সা। 

তবে জুভেন্টাসের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ থেকে সাহস সঞ্চয় করতে পারে বার্সেলোনা। অসাধারন ফুটবল খেলেছে তারা। ম্যাচের পরিসংখ্যান কিন্তু তেমনই বলছে। পুরো ম্যাচে নিজেদের দখলে বার্সা বল রেখেছিলো ৬৫ শতাংশ। জুভেন্টাসের জালে শট নিয়েছিলো ১৯বার। এই পারফরমেন্স যদি রিয়ালের বিপক্ষে দেখিয়ে জয় ছিনিয়ে নিতে পারে, তবে উপকার বেশিই হবে মেসি-নেইমার-সুয়ারেজদের। সূত্র: বাসস। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ