ঢাকা, শুক্রবার 21 April 2017, ৮ বৈশাখ ১৪২৩, ২৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারতের স্বার্থে সুন্দরবন বিনাশী রামপাল প্রকল্প

 

খুলনা অফিস : খুলনায় উপকূলীয় মহাসমাবেশে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের মিথ্যাচার ছড়িয়ে সরকার রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবন বিনাশী অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এ সব প্রকল্পে প্রয় ৫০ লক্ষ মানুষ জীবন-জীবিকা হারিয়ে উদ্বাস্তেু পরিণত হবেন, পাঁচ কোটি মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে অরক্ষিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণের বোঝা চাপবে বাংলাদেশের ঘাড়ের উপর। ভারতীয় হ্যাবি ইলেট্রিক কোম্পানি নির্মাণ কাজ ও কয়লা জোগান দিয়ে মুনাফা লাভ করবে। আর এক্সিম ব্যাংক ঋণের ব্যবসা করবে। বাংলাদেশের ভাগে থাকবে শুধু লোকসান ও সর্বনাশ। বেশি দামে বিদ্যুৎ, দীর্ঘমেয়াদী ঋণ আর সর্বপোরি বাংলাদেশে প্রধান প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুন্দরবনে অনিবার্য ধ্বংস করবে। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, সুন্দরবনের কাছে বেআইনিভাবে জমি বন দখল করছে, যারা কমিশন ভোগী, যারা ভাড়াটে বিশেষজ্ঞ তারা ছাড়া দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ এবং জনগণ সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনের শক্তি। উন্নয়নের অনেক বিকল্প আছে কিন্তু সুন্দরবনের কোন বিকল্প নেই। 

উপকূলীয় অঞ্চলের পাঁচ কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকি রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবন বিনাশী অপতৎপরতা বন্ধ, এ অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ঘরে ঘরে সূলভে গ্যাস ও বিদ্যুৎ এর দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় খুলনা মহানগরীর শহীদ হাদিস পার্কে উপকূলীয় মহাসমাবেশ তিনি এ সব কথা বলেন। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবানে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ এই মহাসমাবেশে যোগ দেন। 

জাতীয় কমিটির খুলনার সংগঠক ডা. মনোজ দাসের সভাপতিত্বে ও জেলা আহবায়ক এস এ রশীদ এবং সদস্য সচিব মোস্তফা খালিদ খসরুর পরিচালনায় মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা টিপু বিশ্বাস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। 

মহাসমাবেশে অবিলম্বে এ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে রামপাল লং মার্চসহ কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে-২৫ এপ্রিল থেকে ২৫ জুন উপকূলীয় অঞ্চলে জেলা-উপজেলায় সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগ। মে মাসে সরকারের ব্যয়বহুল পরিবেশ বিধ্বংশি, ঋণ নির্ভর বেশি দামের বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনার বিপরীতে সুলভ, পরিবেশ বান্ধব, ঋণ বা অপচয় মুক্ত ও দেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন ও দেশব্যাপি তা নিয়ে জনমত গঠন। ১৫ জুলাই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে টেকসই পরিবেশ বান্ধব কর্মসংস্থান নির্ভর উন্নয়নের পরিকল্পনা উপস্থাপন। ২৫ জুলাই শ্যামনগর থেকে শরণখোলা উপকূলীয় মানুষদের মানববন্ধন এবং তার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে দেশী-বিদেশী সংহতি কর্মসূচি। ৯ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন আন্দোলনে যুক্ত সকল দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ, সংগঠন ও ব্যক্তিদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সুন্দরবন কনভেশন। এর মধ্যেও রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবন বিনাশী প্রকল্প বাতিল না করা হলে রামপাল লং মার্চ, দেশব্যাপী হরতালসহ আরো কঠোর কর্মসূচি নেয়া হবে।

মহাসমাবেশের পূর্বে জাতীয় কমিটির সদস্য সংগঠনগুলি পৃথক-পৃথকভাবে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে মিছিল বের করে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ