ঢাকা, শুক্রবার 21 April 2017, ৮ বৈশাখ ১৪২৩, ২৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিএনপি ছাড়া কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না  -----মির্জা ফখরুল 

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপিকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায় বিদেশে গিয়ে বিভিন্ন সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। ভূটানে প্রতিবন্ধী সম্মেলনে গিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজের দেশের রাজনীতিকে পুরোপুরিভাবে প্রতিবন্ধী করে রেখেছেন। মানুষকে পঙ্গু করে দিয়েছেন। সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই। আসলে এই সরকারের অপকীর্তি বলে শেষ করা যাবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। গুম হওয়া বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ৫ বছর অতিবাহিত হওয়ায় এই সভার আয়োজন করে বিএনপি। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা এতে বক্তব্য রাখেন। 

মির্জা ফখরুল বলেন, গুম, খুন, হত্যা যেন আওয়ামী সরকারের নির্যাতনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। কারণ তারা মনে করছে এভাবে নিপীড়ন নির্যাতন করে ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু এভাবে ক্ষমতায় থাকা যায় না। এই সরকার গত কয়েক বছর দেশের মানুষের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে। অথচ সভ্য বিশ্বে এই গুম খুন আর নেই। এই সরকার জনগণের অধিকার রক্ষা করতে পারেনি। তারা আমাদের জীবনের অধিকার, ভোটের অধিকার ও নিরাপত্তা দিতে পারেনি।

তিনি বলেন, আজকে ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ৫ বছর হয়ে গেছে। একদিন দুদিন নয় পাঁচ বছর। এভাবে অসংখ্য নেতাকর্মীকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা গুম করে রেখেছে। তাদের পরিবারের অনেকে দীর্ঘকাল ধরে স্বজনের অপেক্ষায় আছেন। অনেকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলেও গেছেন।

গত বুধবার আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের দেয়া বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ভয় না দেখিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়ার পরিবেশ তৈরি করুন। ২০১৪ সালে কী নির্বাচন করেছেন? কোনো বিরোধী দল আপনার নির্বাচনে অংশ নেয় নাই। সেই নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে ও দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় নাই। বিএনপিকে কী করে নির্বাচনে আনবেন, সেই চেষ্টা করুন। ওই ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, বিএনপি নির্বাচনে না আসলে তার নিবন্ধন বাতিল হবে। আমরা নির্বাচন চাই। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার কথা আমরা কখনও চিন্তা করি না। কিন্তু সেই নির্বাচনে যাওয়ার জন্য তো একটা পথ লাগবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি ক্ষমতায় বসে থাকবেন, সমস্ত কল-কবজা নাড়বেন, ইলেকশন ম্যানিপ্যুলেটেড করবেন, আর আমাকে বলবেন তুমি নির্বাচনে যাও, সেটি হবে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, নিরপেক্ষ সরকার অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। অন্যথায় এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।

শেখ হাসিনার ভারত সফরের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর সম্পূর্ণরূপে একটি ব্যর্থ সফর। সেখানে তিনি শুধু দিয়েই এসেছেন। কোনো কিছু নিয়ে আসতে পারেননি। এজন্যই তিনি বলেছেন, ম্যায় পানি মাঙ্গা, লেকিন বিজলি মিলেগা, কুচ তো মিলা। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেই প্রমাণিত যে তিনি যা চেয়েছিলেন, তা পাননি। তার ভারত সফর একটি ব্যর্থ সফর। কারণ তার পেছনে জনগণ নেই।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, এই সরকারের গণভিত্তি নেই। তাই তারা ভারতের কাছে চুক্তির নামে সব কিছু বিলিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। যদি তাদের সাথে দেশের জনগণ থাকতো, জনগণের ভোটে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতেন তাহলে তিনি তিস্তার পানি চুক্তি ছাড়া অন্য চুক্তি সই করতেননা। তিনি এ ব্যাপারে দরকষাকষির ক্ষমতা হারিয়েছেন। কারণ তার সেই শক্তি নেই। সরকারের গুম খুন ও মামলার রাজনীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভবিষ্যতে এদের বিচার করা হবে।

বিরোধী মতের ওপর হামলা মামলার খতিয়ান তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন,কারও বিরুদ্ধে ১০টা, কারও ১৫টা, কারও ২০টা, কারও ৪০টা, কারও ১০০টা-১৪০টা মামলা আছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টা মামলা। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৮০টার কাছাকাছি মিথ্যা মামলা। সরকারবিরোধী আন্দোলন থামানোর কৌশল হিসেবে এভাবে মামলা দেয়া হচ্ছে। 

দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ভ্ইাস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার, খায়রুল কবীর খোকন, হাবিবউন-নবী-খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, শামা ওবায়েদ, কামরুজ্জামান রতন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, এবিএম মোশাররফ হোসেন, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ