ঢাকা, শুক্রবার 21 April 2017, ৮ বৈশাখ ১৪২৩, ২৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নরসিংদীর রায়পুরায় আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত আরো একজনের মৃত্যু

 

নরসিংদী সংবাদদাতা : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাসুদ (৩০) নামে আরো এক যুবক বুধবার গভীর রাতে মারা গেছে। এছাড়া দুই শতাধিক আহত নারী-পুরুষ এখনো বিনা চিকিৎসায় দাঙ্গা বিধস্ত এলাকায় পড়ে কাতরাচ্ছে। আহতদের মধ্যে অধিকাংশই গুলীবিদ্ধ বলে জানিয়েছেন ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক।  দাঙ্গা বিধস্ত বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের ৭টি গ্রামের মধ্যে দীঘলিয়াকান্দী, রাজনগর, চর-মেঘনা, বালুয়াকান্দী নামে ৫টি গ্রামে এ দাঙ্গা সংঘটিত হয়। তার দাবি অনুযায়ী এ ৫টি গ্রামের প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুনে ভস্মীভূত করা হয়েছে। ১২০ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে বুধবার সকালেই রায়পুরা থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ুন কবির, রায়পুরা সার্কেলের এএসপি বেলাল হোসেন, রায়পুরা থানার ওসি আজহারুল ইসলাম ঐ এলাকায় উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন এ চেয়ারম্যান। তাদের উপস্থিতিতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাড়া করা ২/৩ হাজার দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রধারী দাঙ্গাবাজদের নিয়ে এলাকায় ঢুকে আওয়ামী লীগ নেতা সাহেদ সরকারের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। দাঙ্গাবাজদের উচ্ছৃঙ্খলতা এতোই বেশি ছিল যে, অস্ত্রধারী ১২০ জন দাঙ্গা পুলিশও দর্শকের ভূমিকায় থাকতে বাধ্য হয়। দাঙ্গা চলাকালে বুধবার দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঐ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে মাইকিং করার পরও দাঙ্গা চলতে থাকে। বিকেলে আকাশের অবস্থা খারাপ দেখে দাঙ্গাবাজরা নিরাপদ স্থানে যেতে শুরু করে এবং ঝড় শুরু হলে দাঙ্গা থেমে যায়। এ দাঙ্গায় ২ শতাধিক লোক আহত হলে তাদের মধ্যে মুমূর্ষু অবস্থায় ৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ৪ জনকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে এবং ৬ জনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বুধবার দুপুরেই সাহেদ সরকারের পক্ষের ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল শারফিন (১৮) নরসিংদী জেলা হাসপাতালে মারা যায়। এছাড়া বুধবার গভীর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাসুদ (৩০) নামে সিরাজুল হকের পক্ষের এক লাঠিয়াল মারা যায়। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দাঙ্গা বিধস্ত এলাকাটিতে ভাংচুর, লুটপাট ও আগুনে ভস্মীভূত কয়লা-ছাই ছাড়া আর কিছুই নজরে পড়ে না। এলাকায় কিছু সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ টহল দিচ্ছে। বাঁশগাড়ী বাজারের একটি ঘরে স্থাপন করা হয়েছে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। 

রায়পুরার সার্কেলের এএসপি বেলাল হোসেন, ওসি আজহারুল ইসলাম দাঙ্গা বিধস্ত এলাকায় এখনো অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন রায়পুরা থানার ডিউটি অফিসার এসআই মানিক বণিক। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাঁশগাড়ীর দাঙ্গার ঘটনায় কোন পক্ষই থানায় মামলা করতে আসেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ