ঢাকা, শুক্রবার 21 April 2017, ৮ বৈশাখ ১৪২৩, ২৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কেশবপুরে পুলিশের সাথে ডাকাতদের গুলী বিনিময়কালে ক্রস ফায়ারে ডাকাত নিহত যুবলীগ নেতা আটক॥ অস্ত্র উদ্ধার

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের কেশবপুর সাগরদাঁড়ি সড়কের চৌরাস্তা মোড়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের সাথে গুলী বিনিময়ে এক ডাকাত ক্রস ফায়ারে নিহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আশরাফুল ইসলাম নামের এক যুবলীগ নেতাকে আটকসহ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ সময় ২ পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার মনিপুর গ্রামের মকবুল সানার ছেলে একাধিক মামলার আসামী ইউনুস আলী (৩৫) ও কেশবপুর উপজেলার দেউলী গ্রামের অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আব্বাস উদ্দীনের ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে  ১০/১২ জনের একদল ডাকাত গত ১৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে কেশবপুর সাগরদাঁড়ি সড়কের চৌরাস্তা মোড়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় কেশবপুর থানার টহলরত পুলিশ ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলী ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলী ছোড়ে। এ সময় ডাকাতদের গুলীতেই ডাকাত ইউনুস আলী নিহত হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে যুবলীগ নেতা আশরাফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পুলিশ গুলীবিদ্ধ অবস্থায় ইউনুস আলীকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় কেশবপুর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে হত্যা, অস্ত্র ও ডাকাতির অভিযোগে পৃথক ৩টি মামলা করেছেন।

থানায় আটক আশরাফুল ইসলামের পিতা আব্বাস উদ্দীন জানান, গত ১৯ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩ টার সময় পুলিশের পোশাক পরা একদল লোক তার ছেলেকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি চৌরাস্তা মোড়ে দুই ভাটা মালিক ভাটা স্থাপনার কাজ চালিয়ে যেতে থাকলে আশরাফুলের নেতৃত্বে গ্রামবাসী মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। এ বিরোধের জের ধরে বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা পুলিশকে ম্যানেজ করে তার ছেলেকে ফাঁসিয়েছে। তাকে বেদমভাবে পেটানো হয়েছে। পুলিশ বলছে বর্তামান তার ছেলে সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

কেশবপুর থানার ওসি সহিদুল ইসলাম বলেন, ডাকাদের সাথে পুলিশের গুলী বিনিময়কালে পুলিশ ৩ রাউন্ড ফাকা গুলী বর্ষণ করেছে। ঘটনাস্থল থেকেই আশরাফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এ সময় কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও আব্দুল জলিল আহত হয়। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক ৩টি মামলা হয়েছে। যার নং-১৮,১৯ ও ২০। 

মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম সরোয়ার বলেন, পুলিশের হাতে আটক আশরাফুল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিল। বর্তামান সে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। তার আটক রহস্যজনক বলে তিনি দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ