ঢাকা, শুক্রবার 21 April 2017, ৮ বৈশাখ ১৪২৩, ২৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আবাহনী ও গাজীর টানা তৃতীয় জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার : ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে আবাহনী ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে হ্যাট্টিক জয়ের স্বাদ পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড। গতকাল নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আজ ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৩২ রানে হারিয়েছে আবাহনী। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন আবাহনীর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দলের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩২৭ রানের বড় স্কোর পায় আবাহনী। ভারতীয় উদয় কাউল ১২০ বলে ৯৪, অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ৪২ বলে ৪৯, নাজমুল হোসেন ৫৬ বলে ৪৯, ওপেনার উইকেটরক্ষক লিটন দাস ৪৯ বল ৪৮ ও শুভাগত হোম ১৭ বলে ৪৪ রান করেন। ব্রাদার্সের কাজী কামরুল ইসলাম ও অলক কাপালি ২টি করে উইকেট নেন। জবাবে ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকীর ব্যাটে চড়ে ভালোই এগোচ্ছিলো ব্রাদার্স। কিন্তু অন্যপ্রান্ত দিয়ে জুনায়েদকে ভালোভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি অন্য কোন ব্যাটসম্যানরা। ফলে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯৫ থেমে যায় ব্রাদার্স। সেঞ্চুরি পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ১১২ বলে ১১৪ রান করেন জুনায়েদ। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন মিজানুর রহমান। ৩ উইকেট শিকার করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন আবাহনীর শুভাগত হোমনেন। তাই ম্যাচের সেরা হয়েছেন তিনি। 

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। গাজী গ্রুপ ৮ উইকেটে হারায় লিজেন্ড অব রুপগজ্ঞকে। গতকাল টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৪ ওভারে মুশফিকুর রহিমের দল রুপগজ্ঞ অলআউট ১৫৬ রানে। টানা তৃতীয় জয় পেতে গাজী হারায় ২ উইকেট, অব্যবহৃত থাকে ১১ ওভার। বিজয়ী দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলাম খেলেছেন ১০৬ বলে অপরাজিত ৬২ রানের দৃঢ়তা ভরা ইনিংস। আসল কাজটা আগেই সেরে ফেলেছেন হায়দার ও ভারতীয় অলরাউন্ডার রসুল। বৃষ্টির জন্য ৪৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে রূপগঞ্জকে গুটিয়ে দিয়েছেন খুব কম রানে। ছোটো লক্ষ্য তাড়ায় এনামুল হকের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটিতে দলকে ভালো সূচনা এনে দেন জহুরুল। ৪৫ বলে দুটি ছক্কা আর তিনটি চারে ৩৪ রান করা এনামুল হককে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১০ ওভারের টানা স্পেলে ২৭ রান দিয়ে ওয়ানডে অধিনায়ক নেন এক উইকেট। দ্বিতীয় উইকেটে ৭৯ রানের জুটিতে দলকে জয়ের একদম কাছে নিয়ে যান জহুরুল-মুমিনুল হক। মাহমুদুল হাসানকে উড়াতে গিয়ে সায়েম আলমের তালুবন্দি হয়ে ফিরেন মুমিনুল। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ৫৩ বলে খেলা ৪৪ রানের ইনিংসটি গড়া ৬টি চারে। বাকিটুকু সহজেই সেরেছেন জহুরুল-নাসির। এর আগে ১২ রানের মধ্যে ফিরে যান রূপগঞ্জের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান। দলটির প্রথম আট ব্যাটসম্যানের মাত্র দুই জন পৌঁছান দুই অঙ্কে। মাহমুদুল হাসান ও মুশফিকুর রহিম পারেননি নিজেদের ইনিংস খুব একটা বড় করতে। চোটের জন্য খেলেননি আগের ম্যাচে শতক করা নাঈম ইসলাম। তার অভাব পূরণ করতে পারেননি অন্য কেউ। ৯২ রানে ৮ উইকেট হারানো রূপগঞ্জের ইনিংস দেড়শ ছাড়ায় মোশাররফ হোসেন ও মোহাম্মদ শরীফের দৃঢ়তায়। তবে ম্যাচের ফলে তা কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। শুরুতে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেওয়া হায়দার পরে বিদায় করেন প্রতিরোধ গড়া মোশাররফ ও শরীফকে। ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তরুণ বাঁহাতি পেসার জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। রসুল আঁটসাঁট বোলিংয়ে ১৭ রানে নেন ৩ উইকেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ