ঢাকা, শুক্রবার 21 April 2017, ৮ বৈশাখ ১৪২৩, ২৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার হুঁশিয়ারি

এপ্রিল ২০, রয়টার্স/পার্স টুডে : ‘আগ বাড়িয়ে ব্যাপক শক্তিশালী’ হামলা চালানো হবে বলে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সঙ্গে ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার’ জন্য হুঁশিয়ার করেছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে চাপ সৃষ্টির পথ খোঁজা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন যখন এমন কথা বলছেন তখন উত্তর কোরিয়া এ হুঁশিয়ারি দিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। উন ঘনিষ্ঠ ও একমাত্র মিত্র চীনের পরামর্শ উপেক্ষা করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।

উত্তর কোরিয়া নিয়মিতভাবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে আসছে। গত শনিবার জাতীয় দিবস ‘সূর্যের দিনে’ দেশটি রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের এক সামরিক প্যারেডে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক প্রদর্শনী করে দেশটি। এর পরদিন রোববার নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

এ পরিস্থিতিতে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে টিলারসন বলেন, “উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে সবগুলো অবস্থান পর্যালোচনা করে দেখছি আমরা। এগুলোর মধ্যে সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা থেকে শুরু করে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টির অন্যান্য পথগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ংকে আমাদের সঙ্গে ফের আলোচনার বসানোর বিষয়টিও থাকছে, তবে আগে যেভাবে আলোচনা হয়েছে তার চেয়ে অন্যভাবে আলোচনা করবো আমরা।”

এশিয়া সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে জানান, উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে ‘কৌশলগত ধৈর্যের সময়’ শেষ হয়ে গেছে।

লন্ডন সফররত দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ানও উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। অপরদিকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির দাপ্তরিক মুখপাত্র রোদোং সিনমুন বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আমাদের সঙ্গে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত হবে না।

“এ ধরনের কিছু হলে আগ বাড়িয়ে ব্যাপক শক্তিশালী হামলা চালানো শুরু করা হবে, এতে তাৎক্ষণিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়া ও এর আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী দখলদার বাহিনীকেই শুধু সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হবে না, যুক্তরাষ্ট্রের মূলভূমিকেও ছাইয়ে পরিণত করা হবে।” এসব বক্তব্য ব্যাখ্যা করে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি রোদোং সিনমুন।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে আগে যে ধারণা করা হতো তার চেয়ে অনেক বেশি পরমাণু বোমা দেশটির অস্ত্রভা-ারে আছে। দেশটিতে অন্তত ৩০টি পরমাণু বোমা রয়েছে। এ ছাড়া, তিন বছরে এ সংখ্যা দ্বিগুণ করার মতো বোমা তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদানও দেশটির কাছে আছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক সংস্থা ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এসব তথ্য দিয়েছে। আর এতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বোমার সংখ্যা নিয়ে আগে যে ধারণা করা হতো তা পুরোপুরি বদলে গেছে। দেশটি নতুন পরমাণু শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে। এ ছাড়া, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পরমাণু বোমা দিয়ে হামলার সক্ষমতা এখনই দেশটির আছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।১৯৯৯ সাল দেয়া হিসাবে আমেরিকা মনে করতো পিয়ংইয়ং’য়ের হাতে একটি বড়জোর দু’টি পরমাণু বোমা রয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে দেশটির পরমাণু বোমার সংখ্যা বেড়ে ১০টি হতে পারে বলেও সে সময় ধারণা ব্যক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড অলব্রাইট আরো বলেন, প্লুটোনিয়াম এবং ইউরেনিয়াম উৎপাদন বাড়ানোর কারণে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বোমার সংখ্যা বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, কাগজ কলমের হিসাবের ভিত্তিতে বলা যায় যে উপগ্রহ পাঠাতে যে রকেট ব্যবহার করা হয় তা দিয়ে আমেরিকায় পরমাণু হামলা চালাতে পারবে উত্তর কোরিয়া। অবশ্য এ জাতীয় হামলার কোনো কার্যকারিতা থাকবে না বলেও ধারণা ব্যক্ত করেন তিনি। অবশ্য তিনি বলেন, আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএমের জন্য কার্যকর পরমাণু ওয়ারহেড উত্তর কোরিয়া তৈরি করতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু নোডোং ক্ষেপণাস্ত্রে বসানোর উপযুক্ত ক্ষুদ্র পরমাণু ওয়ারহেড উত্তর কোরিয়া তৈরি করেছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ায় হামলা চালানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ