ঢাকা, রোববার 23 July 2017, ৮ শ্রাবণ ১৪২8, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পুঁজিবাজারে আবার মন্দা আতঙ্ক

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অত্যন্ত সম্ভাবনাময়-বলছেন বাজার নিয়ন্ত্রকরা। কিন্তু বাজারে আস্থা ফিরেও যেন ফিরছে না। চলতি বছরের শুরুর দিকে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিতে সক্রিয় হতে শুরু করেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু এপ্রিলের শুরু থেকে বিশেষ করে গত দুই সপ্তাহে বাজারের মূল্য পতনে আবার হতাশার বৃত্তে বিনিয়োগকারীরা।  

২০১০ থেকে শুরু করে দীর্ঘ মন্দার পর গত ডিসেম্বর থেকে পুঁজিবাজার কিছুটা উত্থান ধারায় ফিরতে শুরু করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বাজারে উত্থান ধারা অব্যাহত থাকে। পরে কিছুটা পতন হলেও বেশ কিছু কোম্পানির দর বাড়তে থাকে। এতে কিছু কোম্পানির শেয়ার গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরে বেচাকেনা হয়। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গত ছয় মাসে সূচক বাড়ে প্রায় ১১০০ পয়েন্ট। এ সময় সূচক বৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিয়েছিল ছয় কোম্পানি। এপ্রিলের টানা দরপতনে মাত্র ১৪ কার্যদিবসে সূচক পড়েছে প্রায় ২৪৫ পয়েন্ট। দরপতনেও ওইসব কোম্পানি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর গত ডিসেম্বরের শেষ দিন ছিল ২৯ টাকা ৭০ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৬ জানুয়ারি সর্বোচ্চ ৪৭ টাকা ৮০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কোম্পানির শেয়ারদর ৩১ টাকা ৭০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে কোম্পানির দর সর্বোচ্চ ১৮ টাকা ৫০ পয়সা বেড়েছিল। কোম্পানিটির লভ্যাংশ ঘোষণার পর থেকে দর পতন শুরু হয়েছে। চলতি মাসে শেয়ারটির দর পড়েছে প্রায় ১২ টাকা।

সিটি ব্যাংক লিমিটেড শেয়ারদর গত ডিসেম্বর মাসের শেষ কার্যদিবসে ২৭ টাকা ২০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। পরে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে কোম্পানির শেয়ার সর্বোচ্চ ৪২ টাকা ৫০ পয়সায় বেচাকেনা হয়। গতকাল কোম্পানির শেয়ার ৩৬ টাকা ৪০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানির ব্যাংক খাতের এই শেয়ারদর প্রায় ছয় টাকার বেশি কমেছে।

আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের শেয়ার গত ডিসেম্বরের শেষ কার্যদিবসে ৩৪ টাকা ৮০ পয়সায় বেচাকেনা হয়। গত মার্চ মাসে কোম্পানির শেয়ারদর সর্বোচ্চ ৬৭ টাকা ৪০ পয়সায় বেচাকেনা হয়। গতকাল কোম্পানির শেয়ার ৫৪ টাকা ৬০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে উত্থানে যে কোম্পানিগুলোর শেয়ার অতি মূল্যায়িত হয়েছে। টানা পতনের ফলে বাজারে সেগুলোর শেয়ারই নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক প্রত্যাশা অনুযায়ী, লভ্যাংশ না দেওয়ায় ব্যাংকিং খাতের কোম্পানির প্রতি কিছুটা অনাগ্রহ সৃষ্টি হয় বিনিয়োগকারীদের। পরবর্তী সময়ে টানা পতনে এসব কোম্পানির শেয়ারদর কমতে থাকে। তবে বাজারে বিনিয়োগের চেয়ে ট্রেডারের ভূমিকা পালন করায়ও পতন অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

বর্তমান বাজার সম্পর্কে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ- ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংকের লভ্যাংশ না পাওয়ায় একটু অনাগ্রহ রয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।’ বাজারের পতন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের অভাব রয়েছে। এ বাজারে বেশিরভাগই ডে ট্রেডারের ভূমিকা রাখছে। আর এটাই বাজার স্থিতিশীলতার অন্তরায়।’

সাম্প্রতিক বাজারের পতন নিয়ে একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার আগ্রহ বেশি থাকে। মাঝামাঝি সময়ে মুনাফাভোগী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। যার ফলে বাজার সেল প্রেসার বেড়ে যায়। পরিণতিতে সূচকের পতন ঘটে।

বৃহস্পতিবার সূচক পড়লেও শেয়ারবাজারের গতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ছিল। দিনের শুরুতে সূচক পড়লেও দুপুর ১২টার দিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। কিছু বড় কোম্পানির দরপতনে সূচক পড়ে যায়। গতকালের বাজারে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বিএটিবিসি, জিপি, ডেসকোসহ আর্থিক খাতের কয়েকটি কোম্পানি। আর সূচক পতনে ভূমিকা রেখেছে আইসিবি, আল-আরাফাহ্ ও ইসলামী ব্যাংক। আইসিবির কারণে পাঁচ পয়েন্ট, আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের কারণে দুই দশমিক পাঁচ পয়েন্ট ও ইসলামী ব্যাংকের কারণে দুই পয়েন্ট সূচক পড়ে যায়।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট লেনদেনে ব্যাংকিং খাতের অবদান ছিল ১৫ শতাংশ, আর্থিক খাতের ১৪ শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অবদান ১৪ শতাংশ এবং বস্ত্র খাত ১৩ শতাংশ। তবে আগের দিনের তুলনায় গতকাল ব্যাংকিং খাতে লেনদেন কমেছে এক দশমিক ২৭ শতাংশ, বস্ত্র খাতে দশমিক ৬১ শতাংশ ও আর্থিক খাতে দশমিক ৫১ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে গতকাল লেনদেন বেড়েছে এক দশমিক শূন্য আট শতাংশ, টেলিকমিউনিকেশন খাতে দশমিক ৩২ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দশমিক ২৮ শতাংশ।- ঢাকা টাইমস

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ