ঢাকা, শনিবার 22 April 2017, ৯ বৈশাখ ১৪২৩, ২৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুষ্টিয়ায় গমের উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : স্যালো চালিত ভ্রাম্যমাণ মাড়াই যন্ত্রে গম মাড়াই করা হচ্ছে -সংগ্রাম

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়া জেলায় চলতি বছরে গমের উৎপাদন বাম্পার ফলন হয়েছে। মূলত আবহাওয়া অনুকূল থাকার ফলে গমের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ফসলের মাঠে কৃষকের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে জেলায় ১৫ হাজার ৭শত ৩৮ হেক্টর জমিতে গমের চাষ করা হয়েছে, যার গড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার ১শত মেট্রিক টন। তবে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৬ হাজার ৮শত ৫০ হেক্টর ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬৮ হাজার ১শত ১ মেট্রিক টন হয়েছে বলে কৃষি কর্মকর্তারা দাবি করছেন। 

ইতিমধ্যেই জেলার সমস্ত মাঠ থেকে গম কাটতে শুরু করেছে কৃষকেরা। কাটার পর মাড়াই, ঝাড়াই, শুকানো আর বাজারজাত কিংবা বিক্রির জন্য হাটে বাজারে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। তবে গম মাড়াইয়ের স্যালো মেশিন চালিত ভ্রাম্যমাণ যন্ত্র গত কয়েক বছর আবিস্কৃত হওয়ায় কৃষকের স্বস্তি এসেছে। এক বিঘা জমির গম দেড় থেকে দুই ঘন্টার মধ্যেই মাড়াই ও ঝাড়াই করা হচ্ছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, চলতি মওসুমে বীজ বপনের পর থেকেই এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল থাকায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা হয়েছে। তিনি আরো জানান, উচ্চ ফলনশীল বীজ, মাঘ মাসের শেষের দিকে ভালো বৃষ্টিপাত এবং কিছুটা নাবিতে গম বপনের ফলে ফলন ভালো হয়েছে। চলতি বছরে জমি চাষ, বীজ, সার, সেচ, কীপনাশক ও লেবার খরচ বাবদ গড়ে বিঘা প্রতি গম চাষে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে কয়েকজন চাষী জানিয়েছেন।

জেলার কুমারখালী উপজেলার জোতমোড়া গ্রামের নিয়মিত গম চাষী আমিনুল ইসলাম বলেন, গমের ফলনে আমরা বেশ খুশি। কেশবপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল বারেক, আতিয়ার রহমান জানান, তার নিজের কোন জমি নেই। প্রতি বছর ২/৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে চাষ করে আসছি, এবারও কয়েক বিঘা জমিতে তারা গম চাষ করেছে। তারা জানায়, উৎপাদন ফলনও বিঘা প্রতি সন্তোষজনক ১২-১৫ মন হয়েছে। তাদের খরচ বাদে বেশ মুনাফা হবে বলে তারা জানান। ইতিমধ্যেই হাট বাজারে নতুন গম উঠতে শুরু করেছে। প্রতি মণ গম ৮শত থেকে ৯শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গমের এই দাম পেয়ে চাষীরা বেশ খুশি। জেলা কৃষি কর্মকর্তরা এব্যাপারে বলেন, গত বছর গমের ভালো দাম থাকায় এবছর চাষীরা গম চাষে ঝুঁকেছে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা অনেকটা নিশ্চিত হওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে। গমের উৎপাদন ভালো হলেও জেলার কোন কোন মাঠে পোকা ও ইঁদুরের উপদ্রপ ছিল।

 সদর উপজেলার লাহিনী পাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিম এব্যাপারে বলেন, তিনি প্রায় তিন বিঘা জমিতে গম চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে, তবে ইঁদুরের উপদ্রপ তাকে বেশ নাজেহাল করেছে। একই গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, বিশ প্রয়োগ করেও ইঁদুর মারতে পারিনি। তিনি ইঁদুর দমনে ব্যর্থ হলেও উৎপাদন ভালো হওয়ায় বেশ খুশি বলে মতামত দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ