ঢাকা, শনিবার 22 April 2017, ৯ বৈশাখ ১৪২৩, ২৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রিমিয়ার ক্রিকেটে জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক কলাবাগান খেলাঘর

স্পোর্টস রিপোর্টার : ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক কলা বাগান, খেলাঘর। শেষ পাঁচ ওভারে জয়ের জন্য ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের প্রয়োজন ছিল ৪৫ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট। ৪ উইকেট খুইয়ে উল্টো ১০ রানে হেরে যায় দলটি। আর তাতে এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় মোহাম্মদ আশরাফুলের কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। গতকাল শুক্রবার বিকেএসপিতে কলাবাগানের দেয়া ২৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ভিক্টোরিয়া। ষষ্ঠ উইকেটে মইনুল ইসলামকে নিয়ে ১০৯ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে কলাবাগানকে জয়ের স্বপ্ন দেখান হৃদয়। দলীয় ২১৭ রানে হৃদয়কে আউট করে ম্যাচে ফিরে আসে কলাবাগান। এরপর ১৩ রান যোগ করতে আরেক সেট ব্যাটসম্যান মইনুলকে হারালে উল্টো চাপে পড়ে যায় ভিক্টোরিয়া। এরপর শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত রান তুলতে গিয়ে দ্রুত আরও ৩টি উইকেট হারালে আর পেরে ওঠেনি দলটি। ফলে ৯ উইকেটে ২৪৯ রানে থামে দলটি। ভিক্টোরিয়া পরোক্ষ ৪৬ রানে ২টি উইকেট নেন। বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে প্রথম জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি ও পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব। দুই নবীন দলের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পায় খেলাঘর। অমিত মজুমদারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও নাজমুস সাদাতের ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে ৭৭ রানের বড় জয়ই পেয়েছে দলটি। খেলাঘরের দেয়া ২৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ৭০ রান করেন ইরফান শুক্কুর ও সাজ্জাদ হোসেন। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর ফলে ৪৫.১ ওভারে ২১১ রানেই অলআউট হয়ে যায়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন শাহানুর রহমান। এছাড়া সাজ্জাদ ৩৯ ও ইরফান ৩৫ রান করেন। খেলাঘরের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন সাদিকুর রহমান তাজিন, তানভির ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম জনি। এর আগে অমিত মজুমদারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও নাজমুস সাদাতের হাফ সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ২৮৮ রানের বড় সংগ্রহ করে খেলাঘর। পারটেক্সের পক্ষে ৬৯ রানে ৩টি উইকেট পান জুবায়ের আহমেদ। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন মামুন হোসেন ও নুরজ্জামান মাসুম।
ব্যাটসম্যান আল আমিনের বোলিং ঘূর্ণিতে বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ঢাকা মোহামেডান ক্লাবকে। ফতুল্লায় তাদের ডার্কওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। গতকাল শুক্রবার বৃষ্টির কারণে ডার্কওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৪১ ওভারে ১৪৯ রানের লক্ষ্য পায় প্রাইম ব্যাংক। দলীয় ৫৩ রানে চাঁদ বিদায় নিলে চাপে পড়ে যায় দলটি।
চাঁদের বিদায়ের পর তাইবুর পারভেজকে নিয়ে দলের হাল ধরেন সাব্বির। অপরাজিত ৯৭ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন এ দুই ব্যাটসম্যান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৮ রান করেন সাব্বির। পারভেজ ৪২ বলে ৫০ রান করেন। মোহামেডানের পক্ষে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম, শুভাশিস রায় ও এনামুল হক জুনিয়র। এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে মোহামেডান। ম্যাচের ১৯ ওভারের পর বৃষ্টি আসলে সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ হয়। এরপর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বৃষ্টি থামলে ম্যাচের দৈর্ঘ কমিয়ে ৪১ ওভারে আনা হয়। বৃষ্টির পর বল হাতে নিয়েই জ্বলে ওঠেন আল আমিন। তার ঘূর্ণি বোলিংয়ে হাফ সেঞ্চুরির ৪ রান আগে ফিরে যান তামিম। এরপর রহমত শাহকেও তুলে নিয়ে মোহামেডানকে চাপে ফেলে দেন তিনি। তামিম-রহমতকে তুলে নিয়েও সন্তুষ্ট হননি আল আমিন। এরপর রকিবুল হাসান, নাজমুল মিলন ও মেহেদী হাসান মিরাজকেও তুলে নেন এ তরুণ। শেষ পর্যন্ত তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৬-০-২৫-৫। আর তার বোলিং তোপে এদিন মাত্র ১৪২ রানেই গুটিয়ে যায় মোহামেডান। মোহামেডানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন তামিম। প্রাইম ব্যাংকের আল আমিন জুনিয়রের দিনে দারুণ বোলিং করেছেন আল আমিন হোসেনও। ২৬ রানে ২টি উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ