ঢাকা, শনিবার 22 April 2017, ৯ বৈশাখ ১৪২৩, ২৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নতুন প্রজন্ম অনুপ্রবেশ করানো অপসংস্কৃতির প্রভাবে নির্বোধ হয়ে যাচ্ছে

বর্ষবরন বা পহেলা বৈশাখের নামে আমাদের দেশে নানান ধরনের অদ্ভুত সংস্কৃতি চর্চা শুরু হয়েছে। যেটার সাথে আমাদের মাটি ও মানুষের সম্পর্ক নেই। এ সকল কু-সংস্কৃতি জোর করে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। পালন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসবের পিছনে রয়েছে আমাদেরকে ধ্বংসের এক নকশা। যে  নকশা পরিচালনা করছে প্রতিবেশী বড় একটি দেশের কিছু সংখ্যক লোকজন। এদিকে আমাদের দেশে “মীরজাফরের” দোসররা তো আছেই। যারা প্রতিবেশী সেই দেশের আকাঙ্খা পূরণের জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছে। যার বিনিময়ে তারা কিছু আরাম আয়েশ পাচ্ছেন। আমাদের দেশে কিছু সংখ্যক তথাকথিত বুদ্ধিজীবী আছেন। যারা এ সব কু-সংস্কৃতিকে খুব পছন্দ করেন এবং এগুলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। এদের অধিকাংশই “আমুনের”অনুসারী। মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে এক বাজে সংস্কৃতি তারা এখানে চালু করেছে। যে মঙ্গল শোভাযাত্রা সনাতন ধর্মানুসারীদের পূজার অংশ। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে এক পূজার সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। যারযার ধর্ম সে পালন করবে সেটাতে কোন দোষ নেই। কিন্তু সনাতন ধর্মানুসারীদের পূজা কেন মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে? এসব বিষয় নিয়ে দেশে বর্তমান বিতর্ক চলছে। আমাদের দেশের কেউ কেউ পরদেশী সেই দেশের নকশা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা অধিকাংশ সময় এক তরফা, এক চেটিয়া কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। এদের অধিকাংশই ধর্ম বিরোধী শিক্ষায় শিক্ষিত। দ্বীন ধর্ম সম্পর্কে এদের ভালো জ্ঞান নেই। তাদের মধ্যে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের শিক্ষা নেই। তারা “আমুনের” “মীরজাফরের” অনুসারীদের টি.ভি টকশোতে ডেকে এনে এসব সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনায় বসেন। “আমুনের” মীরজাফরের অনুসারীরা এসবের ব্যাপারে কীভাবে সঠিক কথা বলতে পারেন? মাঝে মাঝে দু একজন ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত লোকজনকে টি.ভি টকশোতে ডাকা হলেও তারা তাদেরকে অপমান অপদস্ত করেন। সম্প্রতি তেজগাঁওয়ে অবস্থিত নামকরা ঋণখেলাপী এক ব্যক্তি মালিকানাধীন টিভিতে “আগুনের” অনুসারীদের সাথে ডাকা হয়েছিল হেফাজতে ইসলাম নামের সংগঠনটির একজন নেতাকে সেখানে হেফাজতের ওই নেতাকে ভালোভাবে কথা বলতে দেয়া হয়নি। যদিও সেদিন সুপ্রীম কোর্টের সামনের বিতর্কিত ওই মূর্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। কিন্তু সেই ঘটনাতো একটাই। বৈশাখের নামে মূর্তি পূজার সংস্কৃতি চালু এবং সুপ্রীম কোর্টের সামনের ওই মূর্তি বা ভাস্কর্য যাই বলা হোক না কেন। এগুলোর নেপথ্য কলকাঠিতো এক জায়গার। চুল পাকা বয়স্ক কিছুসংখ্যক তথা কথিত বুদ্ধিজীবীগণ মূর্তির পক্ষে নানান সাফাই গাইছেন। তারা ভাস্কর্য শব্দটি বলে মূর্তিকে “ডিফেন্স” করছেন। সেদিনের ওই টি.ভি টকশোতে মধ্যবয়স্ক নামকরা ভদ্র একজন আইনজীবী বললেন- (আমাদের যে মিলাদ পড়া হয় সেখানে যে, “বালাগাল উলা বিকামালিহী”পড়া হয় সেটাতো শেখসাদী লিখেছেন। তার কবরের পাশেও তোতার ভাস্কর্য আছে!) তিনি আইন নিয়ে এত গবেষণা করেন। সংবিধান নিয়ে নাড়াচাড়া করেন। অথচ তিনি জানেন না। সর্বোচ্চ সংবিধান পবিত্র কোরআনে মূর্তির লাইসেন্স দেয়া হয়নি। শেখ সাদীও বলে যান নি যে আমার মৃত্যুর পরে তোমরা আমার কবরের পাশে মূর্তি বা ভাস্কর্য বসিয়ে দিও! যেমন- সিলেটে হযরত শাহজালাল, শাহপরানের কবরের পাশে যে ভন্ডামী চলে, বাগেরহাটে হযরত খানজাহানের কবরের পাশে সে ভন্ডামী চলে। এসব তারা ওসিয়ত করে যাননি। ভন্ডরা মূর্খরা এসব করছে। এটা পবিত্র কোরআনের বিধান অনুযায়ী হচ্ছে না। তিনি সেদিন ভারতে উগ্রবাদী হিন্দুত্ববাদীদের গো রক্ষার নামে যে তারা গরু জবাই নিষিদ্ধ করেছে। সেটা কে তিনি কৌশলগত ভাবে সমর্থন করলেন। শূকরের কথা উঠিয়ে তিনি জঘন্য একটি ঘটনার সমর্থন দিলেন। এসব হয়েছে ধর্মবিরোধী শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে। তারা দ্বীনবিরোধী শিক্ষা অর্জন করেছে। অবশ্যই তারা মাঝে মাঝে কোরআন হাদিসের কথা বলেন। কিন্তু ভালো চর্চা না করে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন।   য় সাইফুল ইসলাম তানভীর
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- হে ইমানদারগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও লটারী এ সবই ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ। তোমরা তা হতে বিরত থাক। আশা করা যায় যে, তোমরা সাফল্য লাভ করতে পারবে। শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর যিকর ও নামাযে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায়। তাই তোমরা এ সব জিনিস হতে কি বিরত থাকবেনা? (আল-মায়িদাঃ ৯০-৯১)
বৈশাখী মেলার নামে আমাদের দেশে বিভিন্ন জায়গায় নানান অপকর্মের আসর বসে। সেখানে জুয়াও চলে। বৈশাখের নাম করে বিভিন্নবাজে ডিজাইনের জিনিসপত্র তৈরি করে বাজারে ছাড়ছে। শিশুদেরজন্য যেসব খেলনা তৈরি করা হচ্ছে- সেগুলোর আকৃতি মূর্তির ন্যায়।
বৈশাখের নামে বিভিন্ন পোশাক তৈরি করা হয়েছে। যেগুলোর ডিজাইন প্রাণীর ছবি বেষ্টিত। সেগুলোর প্রতি নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করে তোলা হচ্ছে। একটি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে- “বৈশাখের বাজার ১০ হাজার কোটি টাকা”। প্রতিবেশী সেই দেশের লোকেরা এদেশে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাদের সব দিকে লাভ। তারা এদেশের নতুন প্রজন্মকে অপসংস্কৃতি চর্চা করিয়ে নির্বোধ বানাচ্ছেন। আবার ব্যবসাও করে যাচ্ছেন। বৈশাখের উৎসবের নামে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দি গানের আসর বসে। সেখানে প্রচন্ড শব্দ দূষন করা হয়। নাচানাচি করা হয়। মদও পান করা হয়। ইলিশপান্তার নামে চলে আরেক অপসংস্কৃতির পসরা। ফাইভ স্টার হোটেলগুলোতে বৈশাখের নামে ডাকাতি ব্যবসা। মিডিয়াই তাদেরকে এ ধরনের অপসংস্কৃতির চর্চা করতে উৎসাহ দিচ্ছে এবং ডাকাতি ব্যবসা করতে সহযোগিতা করছে। সরকারীকর্মচারীদের দেয়া হচ্ছে বৈশাখী ভাতা। এটা ভয়ানক একটা প্রহসন এবং অর্থনৈতিক কর্মচারীরা এর সুযোগ পাবেন? এসব কিছুই রাষ্ট্রীয় অনাচার। এটা মেনে নেয়া যায়না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ