ঢাকা, শনিবার 22 April 2017, ৯ বৈশাখ ১৪২৩, ২৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাপাহার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট

সাপাহার (নওগাঁ) সংবাদদাতা : তিব্র শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে সাপাহার উপজেলা সদরের প্রথম নারী শিক্ষার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। সরকারী ঘোষণার কিছু দিন পর হতেই শিক্ষক সংকট লেগেই রয়েছে এ বিদ্যালয়ে।
শিক্ষার্থীদের কলরবে এক কালের জমজমাট ও সরগরম বিদ্যালয়টি এখন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো বাহিরের আধিক্য অতীতের তুলনায় বাড়লেও শিক্ষার জৌলুস শিক্ষার্থীর উপস্থিতি প্রায় জিরোর কোঠায় নেমে এসেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১১জন শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩জন এই ৩জন শিক্ষক দিয়েই চলছে এককালের শ্রেষ্ঠ নারী শিক্ষা  বিদ্যাপিঠ সাপাহার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠ দান। এ ছাড়া একসময় যেখানে সাড়ে ৮শত শিক্ষার্থীর কলরবে মুখরিত হয়ে থাকত পুরো বিদ্যালয় ক্যাম্পাস বর্তমানে সেখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৬ষ্ঠ শ্রেণী হতে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত মাত্র ১৬১জনে। বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে ৯ম শ্রেণীতে ৪জন ও ১০ম শ্রেণীতে ৬জন শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিষয়ে লেখা পড়া করছে।
জানা গেছে অতীতে এলাকায় নারী শিক্ষায় ব্রতী হয়ে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য এলাকার শিক্ষানুরাগী প্রবীণ ব্যক্তি আলহাজ্ব ডাঃ তাহের উদ্দীন আহম্মেদ ১৯৭৩ সালে উপজেলা সদরে এক খন্ড জমির উপর একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এর পর বিদ্যালয়টি এলাকায় প্রথম নারী শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়তেই থাকে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ও শিক্ষার গুনগত মান বিশ্লেষণ করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহাম্মাদ  এরশাদ গত ১৯৮৭ সালে সাপাহারে রাষ্ট্রিয় এক সফরে এসে বিদ্যালয়টিকে সরকারী ঘোষণা করেন সে হতে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এলাকায় নারী শিক্ষায় এক অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে। সারা জেলায় হাতে গোনা দু’একটি সরকারী বিদ্যালয়ের মধ্যে সাপাহার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় একটি। বিদ্যালয়টি শুরু থেকে বেশ সুনাম ও জাঁকজমকের সাথে পরিচালিত হয়ে আসলেও দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে চরম শিক্ষক সংকটে ভুগছে।
দশ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে শূন্য রয়েছে গণিত শিক্ষকের মত একটি গুরুত্বপুর্ণ পদ। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট লেগে থাকায় অভিভাবকগণ তাদের মেয়েদের আর ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ