ঢাকা, শনিবার 22 April 2017, ৯ বৈশাখ ১৪২৩, ২৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিদ্যালয়ের সময়সূচী মানছেন না পত্নীতলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো

পত্নীতলা (নওগাঁ) সংবাদদাতা : মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা মানার প্রয়োজন মনে করছেন না পত্নীতলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সকাল ১০.০০টা হতে বিকেল ৪.০০টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ২.৩০মিনিট হতে ৩.০০টার মধ্যেই ছুটি হয়ে যায় অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আর বিদ্যালয় ছুটির পরেই শুরু হয়ে যায় প্রাইভেট বাণিজ্য। একজন শিক্ষকের যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে ক্লাসে ব্যস্ত থাকার কথা সে সময়ে সেই শিক্ষক ব্যস্ত হয়ে পড়ছে প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে। বিষয়টি হতবাক করার মতো ঘটনা হলেও এ নিয়ে যেন মাথাব্যথা নেই কোন পক্ষেরই। বিদ্যালয়ে সঠিকভাবে ক্লাস না হওয়ায় সঙ্গত কারণেই ছাত্র-ছাত্রীরা ঝুঁকছেন প্রাইভেটের দিকে। আর এই সুযোগ লুফে নিচ্ছেন অসাধু শিক্ষকরা। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মনিটরিং বিভাগও যেন তাকিয়ে আছেন চাতক পাখির মতো।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে উপজেলার বিভিন্নস্থানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো বিকেল ৩.০০টার আগেই বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা সদরের চেয়ে গ্রামের স্কুলগুলোর অবস্থা আরো খারাপ । গ্রামে প্রাইভেট প্রবণতা কম হলেও শহরের অলিতে গলিতে টিউশনি আর কোচিং সেন্টারের ছড়াছড়ি। শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদি যখন কম ছিল তখনই তাঁদের দায়িত্ববোধ বেশী ছিল। বর্তমানে সুযোগ-সুবিধা বেশী হওয়ায় তাঁরা ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। সেই সাথে রয়েছে রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি। অনেক প্রধান ও সহকারি শিক্ষক আছেন যারা গায়ে রাজনৈতিক সাইনবোর্ড লাগিয়ে দাপটে ঘুরে বেড়ান। এক্ষেত্রে কাহারো কোন কিছুর করার সাহস থাকে না। রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য মাধ্যমিক শিক্ষার অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে বলেও তাঁরা মনে করেন।
গত মঙ্গলবার মহাদেবপুর হতে পত্নীতলা আসার পথে দেখা গেছে পত্নীতলা উপজেলার অন্তর্গত পত্নীতলা-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের কাঁটাবাড়ী মোড়ের পার্শ্বে অবস্থিত কে,এম,এইচ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিকেল ৩.০০টায় দল বেঁধে বাড়ি ফিরছেন। এ বিষয়ে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা ছুটির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। প্রতিদিন তাদের এ রকম সময়েই ছুটি দেওয়া হয় বলেও তাঁরা জানান। এ বিষয়ে বুধবার দুপুর ১২টায় কে,এম,এইচ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওমর ফারুকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকেন। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওয়াজেদ আলী মৃধার সাথে কথা বললে তিনি জানান, মানসম্মত শিক্ষার ক্ষেত্রে নওগাঁ জেলার মধ্যে পত্নীতলা উপজেলা পিছিয়ে আছে। গত ২০ মার্চ আমি উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। এখানে এসে একটি বিষয় লক্ষ্য করছি শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছেমতো কাজ করছে। আমি পত্নীতলায় যোগদানের পর সম্প্রতি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ক্লাস পরিচালনার জন্য সকল বিদ্যালয়ে চিঠি প্রদান করেছি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে প্রতি মাসে সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ ধরণের সমস্যা অচিরেই সমাধান করা হবে বলেও তিনি মত দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ