ঢাকা, শনিবার 22 April 2017, ৯ বৈশাখ ১৪২৩, ২৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার আশংকা: বাড়বে ব্যয়

খুলনা অফিস: খুলনা-মংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আর ব্যয় বেড়ে গেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মংলার অর্থনৈতিক গুর”ত্ব বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীরা খুলনা অঞ্চলে আরো বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। সমৃদ্ধি ঘটবে এ অঞ্চলের অর্থনীতির।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা-মংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরুর ইতোমধ্যে কেটে গেছে ৬ বছর ৪ মাস। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ২৪ শতাংশ। প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময় আছে মাত্র ১ বছর ২ মাস।  ২০১০ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১৮ সালের জুন মাসে।
সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) খুলনা-মংলা রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন করে। পরে ২০১২ সালের নবেম্বরপ প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পায় ভারতের সিইজি নিপ্পন কোয়িজেভি প্রতিষ্ঠান।
খুলনা-মংলা রেললাইন প্রকল্পের  জন্য ৭৫০ একর জমির প্রয়োজন হবে। এজন্য খুলনার ৪০১ দশমিক ২৭৯০২ একর, বাগেরহাটের ২৭৫ দশমিক ০২৫৭ একর ও মংলা বন্দর কর্তৃপরে ৭৩ দশমিক ৩৫৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে লুপ লাইনসহ রেলওয়ে ট্রাকের দৈর্ঘ্য ৮৬ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ হবে। এর মধ্যে রূপসা নদীর ওপর স্থাপিত রূপসা সেতুর দেড় কিলোমিটার যুক্ত হবে ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার রেলসেতু। এ ছাড়া ২১টি ছোটখাট ব্রিজ ও ১১০টি কালভার্ট নির্মিত হবে। ফুলতলা থেকে মংলা পর্যন্ত ৮টি স্টেশন হবে। স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুলতলা, আড়ংঘাটা, মোহাম্মদনগর, কাটাখালী, চুলকাঠি, ভাগা, দিগরাজ ও মোংলা। এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে ২৪ শতাংশ বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেললাইনের জন্য ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এবং ব্রিজ নির্মাণর জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা । বাকি টাকা জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় হবে। খুলনা-মংলা রেলপথ প্রকল্পটির কাজ ৩টি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি রেলসেতু, অপরটি রেল লাইন এবং অন্যটি টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিং।
বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ও ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই রেলপথটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের রেল লাইন তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইরকনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়া ব্রিজ তৈরির জন্য ওই বছরের ২৪ আগস্ট ভারতের লারসেন অ্যান্ড টার্ব নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়।
প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, খুলনা-মংলা রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে রূপসা নদীতে রেলসেতু নির্মাণের কাজ শুর” হয়েছে। তিনি বলেন, রেল লাইন নির্মাণের জন্য মাটি ভরাটের কাজ দ্র”ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য জোর চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ