ঢাকা, শনিবার 22 April 2017, ৯ বৈশাখ ১৪২৩, ২৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনা মহানগরীর সড়কের অধিকাংশ বেদখল

খুলনা: নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়ে এভাবেই ফুটপথ দখল করে বসানো হয়েছে হকারদের ....

খুলনা অফিস: খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়ের ৩০ ফুট সড়কের ২০ ফুটই দখল করে বসানো হয়েছে ইজিবাইক, ম্যান হুইলার আর সিএনজি স্ট্যান্ড। ফুটপথের নেই পা ফেলার সুযোগ। সেখানে পণ্যের পসরা নিয়ে বসে আছে হকাররা। বাধ্য হয়ে তাই যানবাহনের সাথে পথচারীদের চলাচল করতে হয় সড়কের অবশিষ্ট দশ ফুট জায়গা দিয়ে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই দিনভর লেগে থাকে তীব্র যানজট। আর এতে অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। শুধু নগরীর ডাকবাংলো নয়, খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের চিত্রটা এমনই। অবশ্য হকাররা বলছেন, সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনকে টাকা দিয়েই তারা ফুটপথে ব্যবসা করছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম ডাকবাংলো মোড় দিয়ে নিত্যদিন যাতায়াত করেন জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসনের কার্যালয়, আদালতপাড়া, কারাগার, সিটি কর্পোরেশনসহ এক ডজনেরও বেশি সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ হাজারো নগরবাসী। সাধারণ নাগরিকের মতো ওই সব শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরাও পোহান যানজটের বিপত্তি। অথচ রহস্যজনক কারণে সড়কের ওপর তৈরি করা অবৈধ স্ট্যান্ড, গাড়ি পার্কিং বা ফুটপথ দখলের বিপক্ষে কারোরই যেন মাথা ব্যথা নেই।
এমন অবস্থা শুধু ডাকবাংলো মোড়ে নয়, নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড় হয়ে ফেরিঘাট, পিকচার প্যালেস, শান্তিধাম মোড়, খানজাহান আলী সড়ক, রূপসা স্ট্যান্ড রোড ও ময়লাপোতা সড়কে তীব্র যানজটের অন্যতম কারণ ফুটপথ দখল। যে যেমনভাবে পারছে সে তেমনিভাবে দখলে রেখেছে ফুটপথ।  ফলে তীব্র যানজটে ভোগান্তি বাড়ছে জনসাধারণের। অবশ্য ফুটপথ যারা দখলে রেখে ব্যবসা করছেন তাদের দাবি সব কিছুই জানেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর হকারদের বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ফুটপথ দখলমুক্ত রেখে, মানুষের চলাচল নিবিঘ্ন ও দুর্ঘটনা এড়াতে সিটি কর্পোরেশন দ্র”ত ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা শহরবাসীর।
কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল হালিম বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। এখনও পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা পাননি। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে ওই ক্ষমতা তিনি পাবেন। তখন নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ফুটপথ দখলমুক্ত করা হবে।
কর্পোরেশনের এস্টেট অফিসার মো. নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, সিটি কর্পোরেশনে নতুন ম্যাজিস্ট্রেট যোগদান করেছেন। এখন নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ফুটপথ দখলমুক্ত করা হবে। কিন্তু কর্পোরেশনের কেউ হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয় এমন অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।
সিটি কর্পোরেশনের চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির-উল-জব্বার জানান, সড়ক, ফুটপথ ও ড্রেন সব পরিকল্পনা নিয়েই নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নিম্ন আয়ের লোকজন ওই সব ফুটপথ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ফুটপথ দখলমুক্ত করতে হলে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া দখলমুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি বলেছেন, ফুটপথ হকারমুক্ত করে নাগরিক ভোগান্তি দূর করার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। কর্পোরেশন না চাইলে তাদের পক্ষে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আর পুলিশের টাকা নেয়ার অভিযোগ অসত্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ