ঢাকা, শনিবার 22 April 2017, ৯ বৈশাখ ১৪২৩, ২৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দাকোপে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ ডুবো জালের সাহায্যে বিষ প্রয়োগে চলছে মৎস্য নিধন

খুলনা অফিস: সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের অধীন নলিয়ান রেঞ্জের আওতায় বনবিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় চলছে মৎস্য সম্পদ নিধনের মহাউৎসব। একদিকে জেলেদের জিম্মি করে আদায় করা হচ্ছে অর্থ, অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ জাল নিষিদ্ধ খালে ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে মাছের প্রজনন ব্যবস্থা ধবংস করা হচ্ছে।
সমুদ্রের যে সকল শাখা নদী বা খাল সুন্দরবনের মধ্যে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত সেখানে মাছ ধরা সরকারীভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু সরকারি ওই আদেশ বাস্তবায়নে যাদের উপর দায়িত্ব সেই বনরক্ষীরা নিজেরাই অবৈধ অর্থের লোভে দেশের মৎস্য সম্পদ ধবংসে জেলেদের প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করছেন এমন অভিযোগ উপকূলবাসীর। নলিয়ান রেঞ্জ অফিসের আওতায়, কালাবগী, বানিয়াখালী স্টেশন, আদাচাকী, মরাপশর টহলফাঁড়ীর বনরক্ষীদের বির”দ্ধে অর্থের বিনিময়ে নিষিদ্ধ ডুবোজাল ব্যবহারে জেলেদের সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট বস কর্মকর্তারা গতানুগতিক তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। কালাবগী স্টেশনের ঠিক বিপরীত পাড়ে নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ডিপোপল্লী। যেখানে ছোট বড় মিলিয়ে ১৮/২০ টি মাছের ডিপো স্থানীয় এবং বহিরাগত দাদুনে জেলেদের মাধ্যমে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র জানায়, বন বিভাগ এবং দাকোপ থানা পুলিশকে ক্ষেত্র বিশেষ মাসিক ও মওসুম চুক্তিতে অর্থ দিয়ে এই অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলেরা জানায়, সাধারনত যে কোন খালে নিষিদ্ধ ডুবোজাল ব্যবহারে বন বিভাগকে গোনে জাল প্রতি ৬/৭ শ’ হারে টাকা দিতে হয়। কিন্তু মাছের প্রজনন খাল হিসেবে প্রবেশ নিষিদ্ধ হাডডোরা, ঝাপসী, ঝনঝনিয়া, শিপসার বাওন, গোড়ারচর, শেখের খাল, কালীরচর, চালোপট্টি, সাহেবখালী, ভদ্রা, মরাপশর এলাকায় প্রতি গোনে ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচের বিনিময়ে ওই সকল নিষিদ্ধখালে মাছ ধরার সুযোগ করে দিচ্ছে বনবিভাগের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা। নিষিদ্ধ ওই সকল খালের দখল পেতে জেলেদের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিযোগীতা। এই খালের দখলকে কেন্দ্র করে কালাবগী এলাকা থেকে গত কয়েক বছর যাবৎ মনি সানা, জলিল বৈদ্য, সাইদুল সানাসহ ওই এলাকার ৬ জন মানুষ পর্যায়ক্রমে গুম হয়ে যায়।
সূত্র জানায়, প্রভাবশালী ডিপো মালিক মোহাম্মাদ আলী দলিল বৈদ্যসহ কয়েকজন অতীতে বনদস্যুদের সাথে বিশেষ সম্পর্ক রেখে প্রয়োজনে তাদের বিভিন্ন ধরনের মালামাল সরবরাহ করতো এলাকায় জনশ্রুতি আছে। স্থানীয় বনবিভাগ এবং সরকারের অন্যান্য প্রশাসন অর্থের বিনিময় বছরের পর বছর মৎস্য সম্পদ নিধনে এভাবে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধর্তন মহল আছে নির্বিকার।
এ ব্যাপারে আদাচাকী টহলফাঁড়ীর ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমরা সর্বদা সজাগ আছি। দেশের বনজ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনে গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে দূর্নীতি পরায়ন এই সকল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া অত্যান্ত জরুরী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ