ঢাকা, শনিবার 22 April 2017, ৯ বৈশাখ ১৪২৩, ২৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

টোকাইদের বেপরোয়া আচরণে ইনানী বীচে পর্যটকরা বিপর্যস্ত

কমরুদ্দিন মুকুল, উখিয়া (কক্সবাজার) : প্রচণ্ড তাপমাত্রা উপেক্ষা করে পর্যটকরা ইনানীর মনোরম পরিবেশ উপভোগ করছে। তাও আবার একা নয়, পরিবার পরিজন নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে এসেছে অধিকাংশ পর্যটক। একাধিক পর্যটকের অভিযোগ প্রকৃতির আদলে গড়ে উঠা ইনানীর পর্যটন পরিবেশ অসাধারণ সৌন্দর্য্যমন্ডিত। তবে হোটেল মোটেল, গেস্ট হাউসের গলাকাটা বাণিজ্য, পর্যটকেরা চাহিদামতো সন্তুষ্ট হতে পারছে না। উপরোন্তু রাতের বেলায় টোকাইদের বেপরোয়া আচরণ ও মাদক বেচাকেনা, পর্যটক হয়রানি পর্যটন পরিবেশকে কলুষিত করেছে দাবি করে একাধিক পর্যটক জানান, অনৈতিক পরিবেশ পর্যটনের উপর প্রভাব পড়তে পারে।
গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে ইনানী বীচ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পহেলা বৈশাখের আনন্দ অনেক পর্যটকের এখনো রেষ কাটেনি। প্রচণ্ড খরতাপ উপেক্ষা করে হাজার হাজার পর্যটক ইনানী বীচের আনন্দঘন পরিবেশ উপভোগ করছে। তবে বীচ এলাকায় অবৈধভাবে চালিত বীচ বাইকের এলোপাতাড়ি অবাধ বিচরণের কারণে পর্যটকেরা তাদের ছেলে মেয়ে নিয়ে শংকিত। ইনানী বীচ বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি ছৈয়দ হোসেন জানান, গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বীচ বাইক দুর্ঘটনায় ২ জন পর্যটক গুরুতর আহত হয়েছে। ইনানী ট্যুারিষ্ট পুলিশের ইনচার্জ মোহাব্বত আলী জানান, আহত পর্যটকদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বীচ বাইকের মালিক মোঃ আবছার ও চালক মোশারফ সহ বীচ বাইক এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, আহত পর্যটকরা অভিযোগ করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আটককৃতদের হাজির করা হবে।
ঢাকা বারিধারা থেকে স্ব-পরিবারে আসা পর্যটক ড. সালাহ উদ্দিন অভিযোগ করে জানান, বীচে অবাধ ছবি ধারণ ও বাইকে বেপরোয়া চলাচল পর্যটকদের জন্য অসহনীয় পরিবেশ দাবি করে এসব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তিনি ট্যুরিস্ট পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আরো বলেন, রাতে আধাঁরে ইনানী এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও টোকাইদের পর্যটক হয়রানি ইনানী পর্যটন পরিবেশের জন্য নেতিবাচক বলে মনে করছেন।
একই অভিযোগ ঢাকা গুলশান থেকে আসা পর্যটক তুষার জানান, ইনানী বীচে অবাধভাবে মাদক বেচাকেনা চলছে। রাতের আধাঁরে মাদক সেবীদের বেপরোয়া আচরণে পর্যটকেরা নানামুখী হয়রানির শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব অনৈতিকতা বন্ধ করা না হলে আগামী দিনে ইনানীতে পর্যটক সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। তিনি বলেন, যেহেতু এখানে পর্যটকরা আসেন নিজের পকেটের টাকা খরচ করে আনন্দ উপভোগ করতে। সেখানে যদি নিরানন্দে পরিণত হয় তাহলে পর্যটন পরিবেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইনানী বীচ ইজারাদার নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো জানান, পর্যটকদের সুবিধার্থে ইনানীতে বেশ কয়েকজন বীচ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ইনানী পুলিশ ও ট্যুারিষ্ট পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাজ করছে। ইনানী বীচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, ইনানী বীচের সুনাম রক্ষার্থে এবং পর্যটকদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ