ঢাকা, শনিবার 22 April 2017, ৯ বৈশাখ ১৪২৩, ২৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নেত্রকোনার তিন হাওর উপজেলায় মাছ ধরা ও বিক্রয় এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ

নেত্রকোনা সংবাদদাতা : নেত্রকোনা জেলার হাওর উপজেলা হিসেবে খ্যাত মদন, মোহনগঞ্জ এবং খালিয়াজরী এই তিন উপজেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার হতে পরবর্তী এক সপ্তাহ পর্যন্ত সকল প্রকার মাছ ধরা এবং বিক্রয়  নিষেধ  করা হয়েছে।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহ্ আলম মুকুল গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, হাওর এলাকায় আগাম বন্যায় বিস্তীর্ণ বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কাঁচা-পাকা ধান পঁেচ হাওরের পানি দূষিত ও দুর্গন্ধ হওয়ার পাশাপাশি এক ধরনের বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে হাওরের জীববৈচিত্র বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি ছোট বড় মাছ মরে ভেসে উঠছে। এ সকল মাছ খেয়ে যাতে কোন লোক রোগে আক্রান্ত না হয়, সে কারনে শুক্রবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য এই তিন উপজেলায় মাছ ধরা ও বিক্রয় নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই তিন উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্থানীয় জনগনকে সচেতন করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এই সময় জেলেরা যাতে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্ট করতে না হয়, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
৪২০ কেজি ভারতীয় সুপারি জব্দ
নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ গতকাল শুক্রবার সকালে জেলা শহরের রাজুর বাজার এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে পাচার হয়ে আসা ৪২০ কেজি সুপারি জব্দ করেছে। নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ শুক্রবার সকালে জেলা শহরের রাজুর বাজার এলাকায় কলমাকান্দা থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে বস্তাভর্তি ৪২০ কেজি ভারতীয় সুপারি জব্দ করে। পরে বাস চালক ও হেল্পারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, এই সব সুপারিগুলো মালিক হচ্ছে কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে মোঃ রমজান আলী(২৬)। সে দীর্ঘদিন যাবৎ ভারত থেকে অবৈধ পথে চোরাচালানের মাধ্যমে সুপারি এনে তা ঢাকায় পাচার করে আসছে। পরে পুলিশ রমজান আলীর বাড়ী থেকে তাকে আটক করে দুপুরের দিকে নেত্রকোনায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে আটক রমজান আলীর বিরুদ্ধে নেত্রকোনা মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
৬০ যাত্রীকে জরিমানা
বিনা টিকেটে ‘হাওর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ভ্রমণের দায়ে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় নেত্রকোনা বড় স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৬০ যাত্রীকে জরিমানা করা হয়েছে। নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আজিজ হায়দার ভুঁইয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেট হিসেবে বিনা টিকিটের যাত্রীদের এই জরিমানা করেন।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘হাওর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নেত্রকোনা জেলা শহরের বড় স্টেশনে পৌঁছে। এ সময় বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণের দায়ে ৬০ জন যাত্রীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আজিজ হায়দার ভুঁঁইয়া আটক প্রত্যেক যাত্রীকে জরিমানা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের এনডিসি প্রনয় কুমার চাকমা, ম্যাজিস্ট্র্রেট সারোয়ার কামাল, ম্যাজিস্ট্র্রেট সায়দা পারভীন ও সুজন চন্দ্র রায় উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমান আদালত আটককৃত যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ নয় হাজার দুইশত টাকা জরিমানা আদায় করেন।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের এনডিসি প্রনয় কুমার চাকমা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার কথা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রেনে ভ্রমনকারী যাত্রী সাধারণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে আমাদের এই ধরনের চলকারীঅভিযান অব্যহত থাকবে। আর এ পথে চলা কলেজ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ