ঢাকা, রোববার 23 April 2017, ১০ বৈশাখ ১৪২৩, ২৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এ সরকার  গোটা আলেম সমাজের সাথে অন্যায় আচরণ করছে

 

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা,তওবার রাজনীতির প্রবর্তক হযরত হাফেজ্জী হুজুরের নাম অন্যায়ভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করা হয়েছে। সরকার গোটা আলেম সমাজের সাথে অন্যায় আচরণ করছে। এই তালিকা থেকে তার নাম প্রত্যাহার না করলে সারাদেশে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়বে।

গতকাল শনিবার সকাল দশটায় কামরাঙ্গির চরে জামিয়া নূরিয়ায় এ সম্মেলন শুরু হয়। এতে দেশের শীর্ষ আলেমগণ উপস্থিত হয়েছেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির আহবায়ক হাফেজ মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী। মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন ও মুফতি আফম আকরাম হুসাইন সঞ্চালিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহ সভাপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা আশরাফ আলী, হেফাজত ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা নূর হুসাইন কাসেমী, ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর ড. ঈসা শাহেদী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজীবুর রহমান পেশওয়ারী, মহাসচিব ড. আহমাদ আব্দুল কাদের, জামিয়া মুহাম্মদিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালাম, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি মুবারকুল্লাহ, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা আবুল বাশার, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, চকবাজার শাহী মসজিদের খতীব মাওলানা মিনহাজ উদ্দীন, মাওলানা সানাউল্লাহ, নেজামে ইসলাম পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইজহার প্রমুখ।  

মাওলানা আব্দুল গনি বলেন, আমরা জানি প্রধানমন্ত্রী হাফেজ্জী হুজুর রহ.কে নানাভাবে সম্মোধন করেন। সে দিক থেকে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই, একটি চিহ্নিত মহল হাফেজ্জী হুজুর ও মুফতি আমীমুল ইহসান রহ.কে রাজাকার বানানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আপনি তাদের প্রতিহত করুন।

উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হাফেজ্জি হুজুর ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের প্রথম খতিব মুফতি আমিমুল ইহসান রহ. এর নামে সড়কের নামকরণ বাতিল করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এ নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক দুটির সব স্থাপনা থেকে নাম দুটি মুছে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পত্রিকায় প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাইকোর্টের ৫৫৩১/২০২১ নং রিট পিটিশনের আদেশের সঙ্গে সংযুক্ত তালিকার ১৪নং ক্রমিকে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক দুটির নামকরণ বাতিল করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ বলেন, হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ: ছিলেন সর্বজনমান্য বুযুর্গ ও শ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন। ওলামায়ে কেরামের মুরুব্বী এবং তাদের রুহানী পিতা। তওবার রাজনীতির প্রবর্তন, আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শন, ইসলামী শিক্ষা, ইসলাম প্রচার-প্রসার, ও আদর্শ সমাজ গঠনে তাঁর বহুমূখী অবদান জাতির কাছে চির স্মরণীয় হয়ে আছে। ইসলাম প্রচার প্রসারে হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. দেশে অগণিত মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। যা থেকে হাজার হাজার আদর্শ নাগরিক দেশবাসীকে উপহার দিয়েছে এবং দিচ্ছে। মজলিসে দাওয়াতুল হক্বের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে ভ্রান্ত আকিদা থেকে মুক্ত করে সঠিক সুন্নতের শিক্ষা-দীক্ষার কাজ করেন। তাসাওউফের মাধ্যমে তিনি জাতিকে নৈতিক উন্নতির সন্ধান দেন।

জীবনের শেষ দিকে তওবার রাজনীতির ডাক দিয়ে খেলাফত আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির বন্ধের দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে একটি আদর্শিক রাজনৈতিক ধারা চালু হয়। এরপরও শাহরিয়ার কবির, মুনতাসীর মামুনসহ যারা হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর নাম স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং সড়কের নামফলক থেকে তাঁর নাম বাদ দিয়েছে, তারা ইসলামবিরোধী জাতীয়  বেয়াদব। এদের চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নাম সড়কের নামফলকে পুন:স্থাপন না করলে এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার না করলে সারাদেশে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়বে। 

 আশরাফ আলী বলেন, হাফেজ্জী হুজুর ও আমীমুল ইহসান রহ.  কে স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণ নিষ্পাপ শিশুকে অপবাদ  দেয়ার নামান্তর। অবিলমে¦ স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা থেকে তাঁদের নাম প্রত্যাহার না হলে এবং তাদের নামে নামকরণকৃত সড়কগুলোতে তাদের নাম পুনর্বহাল নাহলে সারাদেশে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে। সুিপ্রম কোর্টের সামনে মূর্তিকে বহাল রেখে নামাযের সময়  বোরকা পড়িয়ে রাখার তামাশা জনগণ মেনে নিবে না। মূর্তি থাকবে মন্দিরে, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে সুপ্রিম কোর্টের সামনে নয়।

 নূর হুসাইন কাসেমী বলেন, হাফেজ্জী হুজুর রহ. ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের রাহবার ও পথিকৃৎ। হাফেজ্জী হুজুর রাজনীতির ময়দানে না আসলে আজও ওলামায়ে কেরাম ইসলামের পক্ষে কথা বলতে পারতো না। হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. রাজনীতির ময়দানে আসার কারণেই বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হয়েছে। 

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন, বর্তমান সরকারে গুরত্বপূর্ণ পর্যায়ে এমন ব্যক্তিরাও আছে যারা বঙ্গবন্ধুকে গাদ্দার বলেছে। তার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজানোর কথা বলেছে। পাক বাহিনীর মুরগী সরবরাহকারী খ্যাত শাহরিয়ার কবীর আর রাজাকার পরিবারের সন্তান মুনতাসীর মামুনের করা রিটের প্রেক্ষিতে রাস্তা থেকে হাফেজ্জী হুজুরের নাম সরানো হয়েছে। শুধু গ্রিকমূর্তি নয়, নবী-রাসূলদের মূর্তি স্থাপনহলেও তা ভেঙ্গে দেয়া মুসলমানের উপর ওয়াজিব। মূর্তি থাকবে মন্দিরে, গীর্জা আর প্যাগোডায়, বুক ফুলিয়ে রাস্তা ঘাটে নয়। অবিলম্বে মূর্তি অপসারণ করতে হবে। 

ড. মাওলানা ঈসা শাহেদী বলেন, হাফেজ্জী হুজুরের নাম স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে তালিকাভুক্ত, সুিপ্রম কোর্টের সামনে মূর্তি একই সূত্রে গাঁথা। প্রধানমন্ত্রী মূর্তি সরানোর ব্যাপারে আস্তা রাখতে বলেছেন। রমজানের আগে মূর্তি না সরালে আস্তা অনাস্তায় পর্যবসিত হবে।  ভোটের রাজনীতি আর আন্তরিকতার পার্থক্য জনগণ বুঝে। 

ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, সড়কে হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. এর নাম পুনর্বহাল করতে হবে। শাহরিয়ার কবির, মুনতাসীর মামুন, ইনু, বাদলদের প্রতিহত করতে হবে। দেশের বিরুদ্ধে ও ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের অপকর্মের জন্য তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতেহবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ